Babri Mosque Controversy : ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ। কেন্দ্রবিন্দুতে মুর্শিদাবাদ। বাবরি মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত এক ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক, যার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় স্তরেও। জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি এবং সাসপেন্ডেড তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১০টা থেকে ১,২০০ কণ্ঠে কোরান পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে এবং দুপুর ১২টা নাগাদ আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হবে। এই ঘোষণার পরই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়েছে।
🔹 হুমায়ুন কবীর কী বললেন?
সংবাদ সংস্থা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন যে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নির্মাণ সম্পূর্ণ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি দাবি করেন, এটি কোনও বেআইনি কাজ নয় এবং সংবিধান প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন,
“যখন অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হল, তখন আমরা তার বিরোধিতা করিনি। বহরমপুরে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেও কেউ বাধা দেয়নি। সংবিধান আমাকে আমার ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দিয়েছে। কোনও চাপ বা হুমকিতে আমি পিছিয়ে যাব না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়, বরং এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আবেগ ও আত্মসম্মানের সঙ্গে যুক্ত।
🔹 “এটা অযোধ্যা নয়, এটা বাংলা”
নিজের বক্তব্যে বারবার পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়,
“এটা অযোধ্যা বা উত্তরপ্রদেশ নয়, এটা বাংলা। মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা, ভারতের অংশ। ইতিহাস সাক্ষী—এক সময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশা এই মুর্শিদাবাদ থেকেই শাসিত হত।”
তিনি ব্রিটিশ আমলের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, লর্ড ক্লাইভকেও একসময় এই অঞ্চল থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “আমরা মুর্শিদাবাদের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।”
🔹 বিশ্ব হিন্দু রক্ষা কমিটির কড়া আপত্তি
হুমায়ুন কবীরের ঘোষণার পরপরই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু রক্ষা কমিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা এই বাবরি মসজিদ নির্মাণের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করবে।
সংগঠনের এক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী,
“মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নেমে আন্দোলন করব।”
বিশ্ব হিন্দু রক্ষা কমিটি ঘোষণা করেছে, ১১ ফেব্রুয়ারি ‘মুর্শিদাবাদ চলো’ কর্মসূচি নেওয়া হবে। ওই দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে বলেও দাবি করা হয়েছে।
🔹 ‘হিম্মত থাকলে মুর্শিদাবাদে আসুন’—হুমায়ুনের পাল্টা হুঁশিয়ারি
বিশ্ব হিন্দু রক্ষা কমিটির এই ঘোষণার পর হুমায়ুন কবীর আরও কড়া অবস্থান নেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন,
“হিম্মত থাকলে মুর্শিদাবাদে এসে দেখান।”
এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যের সাম্প্রদায়িক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
🔹 প্রশাসনের কড়া নজর, বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর,
✔️ মুর্শিদাবাদে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে
✔️ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
✔️ ১১ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন
আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
🔹 ভোটের আগে রাজনৈতিক কৌশল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বিতর্ক নিছক ধর্মীয় ইস্যু নয়। ভোটের আগে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে হুমায়ুন কবীর একটি কৌশলী বার্তা দিতে চাইছেন। অন্যদিকে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলিও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নামতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ এখন রাজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



