Thursday, January 15, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটনন্দীগ্রাম জুড়ে ‘নিখোঁজ, সন্ধান চাই’ পোস্টারে চর্চায় অভিজিৎ গাঙ্গুলি

নন্দীগ্রাম জুড়ে ‘নিখোঁজ, সন্ধান চাই’ পোস্টারে চর্চায় অভিজিৎ গাঙ্গুলি

লোকসভা নির্বাচন ২০২৪ শেষ হওয়ার পর থেকেই নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলিকে কার্যত দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ তুলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সেই অভিযোগকে সামনে রেখেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে দেওয়ালে দেওয়ালে দেখা গেল ‘নিখোঁজ, সন্ধান চাই’ শীর্ষক পোস্টার, যেখানে নাম লেখা রয়েছে সদ্য নির্বাচিত সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলির।

এই পোস্টার ঘিরে নন্দীগ্রাম জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগাল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে দোষারোপের রাজনীতি।


কোথায় কোথায় পড়েছে পোস্টার?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম বিধানসভার একাধিক এলাকায় এই পোস্টার চোখে পড়েছে। বিশেষ করে—

  • নন্দীগ্রাম ৪ নম্বর অঞ্চল
  • ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা
  • দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা
  • সামসাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা

সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেওয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও রাস্তার ধারে এই পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

পোস্টারে বড় বড় অক্ষরে লেখা—
“নিখোঁজ সাংসদ, সন্ধান চাই”
এর নীচে রয়েছে সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলির নাম।


কী অভিযোগ তুলছে তৃণমূল?

এই পোস্টার ঘিরে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতৃত্ব শেখ সামসুল ইসলাম দাবি করেছেন,
“এই পোস্টার শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীদের কাজ। নিজের দলের সাংসদকে সামনে রেখে নাটক সাজানো হচ্ছে।”

তাঁর আরও অভিযোগ, লোকসভা ভোটের পর বিজেপি সাংসদ এলাকায় সময় দিচ্ছেন না, আর সেই বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করা হচ্ছে।


বিজেপির পাল্টা জবাব

তৃণমূলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম মণ্ডল বিজেপির সভাপতি সুদীপ দাস বলেন,
“এটা তৃণমূল কংগ্রেসের দেউলিয়াপনার নিকৃষ্টতম উদাহরণ। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের নাটক করছে।”

তিনি আরও বলেন,
“যদি পোস্টার পড়তেই হয়, তা হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে পড়ুক। অভিজিৎ গাঙ্গুলির নামে কেন?”

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অভিজিৎ গাঙ্গুলি নিয়মিত নন্দীগ্রামে আসেন এবং সাংগঠনিক কাজকর্ম চালান। তাঁকে ‘নিখোঁজ’ বলে দাগানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


২০২১ সালের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির আক্রমণ

এই বিতর্কে বিজেপি আরও একটি পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনেছে। সুদীপ দাসের দাবি,
“২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে হারার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবারও নন্দীগ্রামে আসেননি। তখন তো তৃণমূল কোনও পোস্টার দেয়নি!”

বিজেপির মতে, সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে তৃণমূলের নিজেদের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত।


বাস্তব পরিস্থিতি কী?

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, লোকসভা ভোটের পর সাংসদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কিছুটা কমেছে—এমন অনুভূতি তাঁদের রয়েছে। যদিও অন্য একটি অংশ বলছে, এই পোস্টার আসলে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

সব মিলিয়ে পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে।


আজ নন্দীগ্রামেই থাকবেন অভিজিৎ গাঙ্গুলি

এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ সারাদিন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় থাকবেন সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি। একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক, জনসংযোগ কর্মসূচি ও দলীয় অনুষ্ঠানে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপস্থিতি অনেক প্রশ্নেরই জবাব দেবে। পোস্টার রাজনীতির জবাবে বাস্তব উপস্থিতিই হবে শেষ কথা—এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments