Medical Admission Controversy : ডাক্তারি পড়ার জন্য কি আদৌ আর যোগ্যতার প্রয়োজন আছে?
এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশজুড়ে। কারণ সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ৮০০ নম্বরের পরীক্ষায় মাইনাস নম্বর পেয়েও মেডিক্যাল স্নাতকোত্তরে ভর্তির সুযোগ মিলেছে একাধিক পড়ুয়ার। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে নিট স্নাতকোত্তর (NEET PG) ২০২৫ পরীক্ষার ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণকারী পারসেন্টাইল ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে, আর তাতেই তৈরি হয়েছে এই নজিরবিহীন বিতর্ক।
অনেকেরই প্রশ্ন—
👉 যেখানে একজন পড়ুয়া বছরের পর বছর পরিশ্রম করে ভালো র্যাঙ্ক পাওয়ার চেষ্টা করেন, সেখানে মাইনাস ১২ বা ৪ নম্বর পেয়েও কীভাবে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ হয়?
👉 ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া ডাক্তারদের হাতে কি সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবেন?
কেন পারসেন্টাইল কমাল কেন্দ্র?
দেশজুড়ে মেডিক্যাল স্নাতকোত্তর আসনের দীর্ঘদিনের ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি—
- বহু আসন ফাঁকা পড়ে থাকছে
- বিশেষত নন-ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টে পড়ুয়া পাওয়া যাচ্ছে না
- তাই যোগ্যতার মান কিছুটা শিথিল করা প্রয়োজন
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের কাছে জবাবও তলব করেছে। ঠিক সেই সময়েই সামনে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর ভর্তির তথ্য।
মাইনাস নম্বর পেয়েও এমডি–এমএস!
তৃতীয় রাউন্ড কাউন্সেলিং শেষ হওয়ার পর যে তথ্য সামনে এসেছে, তা কার্যত চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
- ৮০০ নম্বরের মধ্যে -১২ পাওয়া এক পড়ুয়া
- নিট পিজিতে র্যাঙ্ক: ২,৩০,০৮৭
- চেন্নাইয়ের এসিএস মেডিক্যাল কলেজে
- ওবিসি কোটায় ফিজিওলজি (MD)-তে ভর্তি
- -৮ নম্বর পাওয়া আরেক পড়ুয়া
- হলদয়োনির সরকারি মেডিক্যাল কলেজে
- এসটি কোটায় বায়োকেমিস্ট্রিতে MD
- মাত্র ৫ নম্বর পাওয়া পড়ুয়া
- পুণের Symbiosis Medical College for Women
- বায়োকেমিস্ট্রিতে MD
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা—
👉 ৮০০ নম্বরের পরীক্ষায় মাত্র ৪ নম্বর পেয়েও
👉 রোহতকের PGIMS-এ অর্থোপেডিক্সে MS
👉 ওবিসি + শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোটায় ভর্তি
অর্থোপেডিক্সের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল শাখায় এত কম নম্বরে ভর্তির ঘটনা চিকিৎসা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কতজন পড়ুয়া এমন সুযোগ পেয়েছেন?
সূত্রের দাবি অনুযায়ী,
চলতি সপ্তাহেই সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে কমপক্ষে ২০ জন পড়ুয়া শেষ দিকের র্যাঙ্ক থেকে ভর্তি হয়েছেন।
- র্যাঙ্কের পরিসর: ২,২৮,৩৩০ থেকে ২,৩০,০৮৭
- অধিকাংশ ভর্তি হয়েছে:
- অ্যানাটমি
- ফিজিওলজি
- বায়োকেমিস্ট্রি
- মাইক্রোবায়োলজি
ক্লিনিক্যাল শাখায় খুব কম ভর্তি হয়েছে। মাত্র দু’টি ক্ষেত্রে—
- অর্থোপেডিক্স
- জেনারেল মেডিসিন
এই দু’ক্ষেত্রেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও এনআরআই কোটার সুবিধা নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার প্রয়োজনই কি ফুরিয়ে যাচ্ছে?
এই পরিস্থিতিতে বহু শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকের কটাক্ষ—
“যদি মাইনাস নম্বর পেয়েও ডাক্তারি পড়া যায়, তাহলে পরীক্ষার দরকারটাই বা কী?”
তাঁদের মতে,
- পরীক্ষার মান বজায় না থাকলে
- যোগ্যতার ন্যূনতম সীমা যদি অর্থহীন হয়ে যায়
- তাহলে পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে
বিশেষ করে মেডিক্যাল শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মানের সঙ্গে কোনও আপস করা উচিত নয়—এই মত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
ভবিষ্যতের ডাক্তার নিয়ে বাড়ছে ভয়
সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—
👉 এই ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া ডাক্তাররা ভবিষ্যতে রোগীর চিকিৎসা করবেন কীভাবে?
👉 মানবদেহ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পদ্ধতি—এসব ক্ষেত্রে যদি বুনিয়াদি জ্ঞানই দুর্বল হয়?
অনেক চিকিৎসক সংগঠন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে,
এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে আসন ভরলেও দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
শেষ কথা
মেডিক্যাল আসনের সংকট বাস্তব সমস্যা।
কিন্তু সেই সমস্যা মেটাতে গিয়ে যদি যোগ্যতার মাপকাঠিই ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই।
আজ প্রশ্ন উঠছে—
👉 ডাক্তারি পড়ার মান কি ধীরে ধীরে নামিয়ে আনা হচ্ছে?
👉 ভবিষ্যতে কি সাধারণ মানুষই এর খেসারত দেবেন?
এই বিতর্কের চূড়ান্ত উত্তর দেবে সময়, আর সম্ভবত সুপ্রিম কোর্ট।



