Pakistan Crisis : যে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও হামলার ছক কষে এসেছে, আজ সেই পাকিস্তানই কি আবার চরম সংকটে পড়ে ভারতের দিকেই সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছে? আন্তর্জাতিক মহলে এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে। একদিকে তীব্র জল সংকট ও খাদ্য সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান, অন্যদিকে ‘বন্ধু’ চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব ও চাপ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে ইসলামাবাদ যে গভীর দুশ্চিন্তায়, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
অনেকেই বলছেন, ইতিহাসের এই মোড় একপ্রকার ‘কর্মফল’-এর প্রতিফলন। যে দেশ বারবার ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে, সেই দেশকেই আজ কূটনৈতিকভাবে নাজেহাল অবস্থায় পড়ে ভারতের সহানুভূতির দিকে তাকাতে হচ্ছে—এ দৃশ্য নিঃসন্দেহে বিস্ময়কর।
🌊 জল ও খাদ্য সংকটে নাকাল পাকিস্তান
বর্তমানে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সমস্যা জল সংকট। ইন্দাস নদী অববাহিকায় পানির ঘাটতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্য উৎপাদনে। বহু প্রদেশে চাষবাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্বল জল ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবেই পাকিস্তান আজ গভীর সংকটে।
🐉 ‘বন্ধু’ চিনই কি নতুন মাথাব্যথা?
এই অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানের উপর বাড়ছে চিনের চাপ। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) পাকিস্তানের জন্য আর্থিক সহায়তা বয়ে আনলেও, এর বিনিময়ে চিনের প্রভাব যে ক্রমশ গভীর হচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বিশেষ করে বালুচিস্তান অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। খনিজ সম্পদে ভরপুর এই প্রদেশে চিনা বিনিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই প্রভাব ভবিষ্যতে সামরিক উপস্থিতিতেও রূপ নিতে পারে।
📍 বালুচিস্তান ঘিরে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
বালুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচিত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বালুচিস্তানের এক প্রভাবশালী নেতা মীর ইয়ার বালুচ নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
নতুন বছরের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর-কে উদ্দেশ্য করে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তাঁর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বালুচিস্তানে চিনা সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
✉️ এস. জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিতে কী বলা হয়েছে?
মীর ইয়ার বালুচ তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন,
- গত কয়েক দশক ধরে বালুচিস্তানের জনগণ পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় দমননীতির শিকার
- মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো অব্যাহত
- পাকিস্তান ও চিনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত জোট বালুচিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি
তিনি আরও দাবি করেন, চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বালুচিস্তানের মধ্য দিয়েই গিয়েছে, কিন্তু স্থানীয় জনগণের মতামত বা সম্মতি নেওয়া হয়নি।
⚠️ চিনা সেনা মোতায়েন হলে কী হতে পারে?
চিঠিতে স্পষ্ট করে সতর্ক করা হয়েছে—
যদি বালুচিস্তানের প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষামূলক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী না করা হয়, তাহলে সেখানে সরাসরি চিনা সামরিক উপস্থিতি দেখা যেতে পারে।
মীর ইয়ার বালুচের মতে,
“স্থানীয় জনগণের সম্মতি ছাড়া চিনা সেনা মোতায়েন হলে তা শুধু বালুচিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্যই মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।”
এই পরিস্থিতি ভারত-পাকিস্তান-চিন—তিন দেশের কৌশলগত ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
🇮🇳 ভারতের দিকে তাকিয়ে ইসলামাবাদ?
এই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে—চিনের চাপ থেকে বাঁচতেই কি পাকিস্তান পরোক্ষভাবে ভারতের সহানুভূতি বা কূটনৈতিক সহায়তা চাইছে? যদিও সরকারি স্তরে ইসলামাবাদ এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেনি, তবে বালুচিস্তান নেতৃত্বের এই চিঠি নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে।
ভারত বরাবরই বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে এই চিঠি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর বিশ্ব রাজনীতির।
🔎 উপসংহার
একদিকে জল-খাদ্য সংকট, অন্যদিকে চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান যে গভীর চাপে, তা আর গোপন নেই। ইতিহাসের পরিহাসে আজ সেই দেশকেই ভারতের দিকে তাকাতে হচ্ছে, যাকে একসময় ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখেছিল।
এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



