Partha Chatterjee : জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য! মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি ফেরেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর সন্ধ্যা নামতেই জানা গেল, তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সেই চিঠির কপি গিয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছেও।
চিঠিতে পার্থ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— “দলীয় সংবিধানের কোন ধারায় আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে?”
তিনি দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পারেন যে তাঁকে তৃণমূল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পার্থর বক্তব্য, দলের ইতিহাসে একাধিক নেতা একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও, তাদের পাশে দল দাঁড়িয়েছে— তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন আচরণ?

চিঠি লেখার সময় নিয়েও ধোঁয়াশা :
পার্থর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি জেলেই এই চিঠি লিখেছিলেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই চিঠি লেখেন ‘দাদা’। বাড়ি ফেরার পর সেটিই তৃণমূল ভবনে পাঠানো হয়েছে।
পার্থর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গ্রেফতার :
২০২২ সালের জুলাই মাসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। অর্পিতার দুই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এর পর থেকেই পার্থকে মন্ত্রিত্ব ও দলের সব পদ থেকে সরানোর দাবি ওঠে।
অবশেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি বৈঠকে বসে তাঁকে ‘অস্থায়ীভাবে সাসপেন্ড’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন অভিষেক জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পার্থর সদস্যপদ স্থগিত থাকবে।
রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত :
এখনও বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পদে আছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বাড়ি ফিরে তিনি জানান, ‘‘আমি জনগণের প্রতিনিধি। বিধানসভা অধিবেশনে নির্দল বিধায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখতে চাই। আমার বিচার বেহালা পশ্চিমের মানুষই করবেন।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চিঠি পার্থর সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার প্রথম ইঙ্গিত। এখন দেখার, তৃণমূল এই পদক্ষেপে কী প্রতিক্রিয়া জানায়।



