Prosenjit Chatterjee used his influence to hinder Jisshu Sengupta’s career : টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুঞ্জন ঘুরপাক খায়—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে যীশু সেনগুপ্তকে হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেননি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ‘পলিটিক্স’ করে একের পর এক ছবি থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও বহুবার উঠেছে। প্রশ্ন একটাই—বাংলা সিনেমায় যীশু কি সত্যিই ব্রাত্য? আর তার নেপথ্যে কি ছিলেন বুম্বাদা নিজেই?
এই বিতর্ক নতুন নয়। তবে এতদিন যা ছিল জল্পনা আর কানাঘুষো, এবার সেই প্রসঙ্গেই প্রকাশ্যে মুখ খুললেন যীশু সেনগুপ্ত নিজে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে জানালেন নিজের জীবনের এমন কিছু অজানা গল্প, যা অনেকের ধারণাকেই বদলে দিতে পারে।
🎬 ‘তিনি ইন্ডাস্ট্রি’—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থান
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম স্তম্ভ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অনেকেই বলেন, তিনিই টলিউড। আবার নিজেকে বরাবরই ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরেছেন বুম্বাদা। তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানেই বড় সুযোগ—এই ধারণা যেমন রয়েছে, তেমনই তাঁর বিরুদ্ধে ‘ইন্ডাস্ট্রি পলিটিক্স’-এর অভিযোগও নতুন নয়।
অনেক অভিনেতার নাম এই অভিযোগের সঙ্গে জড়ালেও, যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত—তিনি যীশু সেনগুপ্ত। অভিযোগ ছিল, বুম্বাদা নাকি তাঁকে নিজের ‘ভাই’ চরিত্রেই আটকে রেখেছিলেন, হিরো হিসেবে সামনে আসতে দেননি।
🎤 টক শো-তে যীশুর বিস্ফোরক জবাব
এই সব অভিযোগ নিয়ে বনির টক শো-তে এসে সরাসরি মুখ খুলেছিলেন যীশু সেনগুপ্ত। সেখানেই তিনি বলেন—
“অনেকে আমাকে বলেছে, বুম্বাদা তোকে ভাই বানিয়ে রেখেছে। তোকে হিরো হতে দেয়নি। কিন্তু সত্যিটা একদম আলাদা।”
যীশুর কথায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর কাছে শুধুমাত্র একজন সহ-অভিনেতা নন, বরং বড় দাদার মতো। শুধু সিনেমার কাজেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও বারবার পাশে দাঁড়িয়েছেন বুম্বাদা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“আজ পর্যন্ত কোনওদিন বুম্বাদা আমার কেরিয়ার নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করেননি। উনি কখনও বন্দুক ঠেকিয়ে আমাকে কিছু করতে বাধ্যও করেননি।”

🎥 এক কঠিন সময়ে বুম্বাদার পাশে থাকা
এই প্রসঙ্গে যীশু শোনান তাঁর কেরিয়ারের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একসময় একসঙ্গে দু’টি ছবির শুটিংয়ের ডেট ক্ল্যাশ করে যায়। কলকাতায় হরনাথ চক্রবর্তীর ছবি আর একই সময়ে মহীশূরে অনুপ সেনগুপ্তর ছবির শুটিং—দুটোই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু সমস্যার এখানেই শেষ নয়। কলকাতার শুটিং হঠাৎ একদিন বেড়ে যায়, আর পরদিন সকালেই যীশুকে পৌঁছাতে হবে মহীশূরে। দুই পরিচালকই নিজেদের অবস্থানে অনড়। একদিনে দু’জায়গায় হাজির হওয়া কার্যত অসম্ভব।
😢 কাঁদতে কাঁদতে বুম্বাদার কাছে
যীশু জানান, সেই সময় তিনি কার্যত ভেঙে পড়েছিলেন। সিনিয়র পরিচালকদের কাছ থেকে বকুনি শুনে মনে হচ্ছিল, কেরিয়ার শেষ। উপায় না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যান।
“আমি বলেছিলাম, বুম্বাদা আমার কেরিয়ার শেষ। আমি আর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে পারব না।”
যীশুর কথা শুনে বুম্বাদা পুরো পরিস্থিতি বোঝেন। এরপর তিনি নিজেই ফোন করেন পরিচালক অনুপ সেনগুপ্তকে। সমাধান বের করেন এমনভাবে, যাতে দুই ছবির কাজই ঠিকঠাক এগোয়।
ফলাফল—কলকাতায় ফার্স্ট হাফের শুটিং, তারপর সন্ধ্যার মধ্যেই মহীশূরে পৌঁছনো। পরদিন সেখানেই শুটিং। এই সিদ্ধান্তেই বেঁচে যায় যীশুর কেরিয়ার।
🤝 পলিটিক্স না গাইডেন্স?
এই ঘটনার পর যীশু স্পষ্ট করে দেন—যদি বুম্বাদা তাঁর কেরিয়ার আটকে রাখতে চাইতেন, তাহলে এমন সাহায্য কখনওই করতেন না।
তিনি বলেন,
“বুম্বাদা আমাকে বরাবর গাইড করেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার রাস্তা দেখিয়েছেন।”
অন্যদিকে এই গোটা ঘটনা বনির কাছেও নতুন নয়। কারণ অনুপ সেনগুপ্ত তাঁর বাবা। শো-তে এই গল্প শুনে বনির হাসি থামেনি।
❓ তাহলে গুজব এল কোথা থেকে?
যীশুর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ না পাওয়ার পেছনে অনেক সময়ই পরিস্থিতি, চরিত্রের ধরন এবং বাজারের চাহিদা দায়ী থাকে। কিন্তু সব কিছুর জন্য একজন মানুষকে দায়ী করা ঠিক নয়।
🎭 শেষ কথা
যীশু সেনগুপ্তের বক্তব্যে একেবারে পরিষ্কার—প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও রাজনীতির ছিল না। বরং ছিল দাদা-ভাইয়ের মতো বিশ্বাসের।
গুজব আর বাস্তবের ফারাক এখানেই।



