Public Sector Bank Merger India : ব্যাঙ্কে লক্ষ লক্ষ টাকা সঞ্চয় করেছেন? আপনার জমানো টাকা কি কোনও পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কে রাখা আছে? তাহলে এই খবরটি জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, দেশের একাধিক সরকারি ব্যাঙ্ককে ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, আবারও পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলির একত্রীকরণ বা মার্জার নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য—২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলা। আর সেই লক্ষ্য পূরণে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে চাইছে কেন্দ্র। সেই কারণেই ছোট ও তুলনামূলক দুর্বল পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কগুলিকে বড় ব্যাঙ্কের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কেন আবার ব্যাঙ্ক একত্রীকরণের ভাবনা?
বর্তমানে দেশে মোট ১২টি পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ব্যাঙ্কগুলির উপস্থিতি এখনও সীমিত। সম্পদের নিরিখে বিশ্বের সেরা ৫০টি ব্যাঙ্কের তালিকায় ভারতের মধ্যে একমাত্র স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (SBI) জায়গা করে নিতে পেরেছে, তাও ৪৩ নম্বরে। বেসরকারি ক্ষেত্রে HDFC Bank রয়েছে ৭০-এর ঘরে।
কেন্দ্রের মতে, ভারতের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, ততই প্রয়োজন বৃহৎ মূলধনভিত্তিক, প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম ব্যাঙ্ক। ছোট ছোট ব্যাঙ্ক আলাদা আলাদা ভাবে টিকে থাকতে গিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে। সেই চাপ কমাতেই একত্রীকরণের রাস্তা বেছে নিতে চাইছে সরকার।

কোন কোন ব্যাঙ্ক একীভূত হতে পারে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কের আকার তুলনামূলক ছোট বা যাদের মূলধন শক্তি সীমিত, তাদের বড় ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ভাবনা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে—
- ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক
- সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া
- ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া
- ব্যাঙ্ক অব মহারাষ্ট্র
এই ব্যাঙ্কগুলিকে মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে, যেমন—
- স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (SBI)
- পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)
- ব্যাঙ্ক অব বরোদা
যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই এই ইঙ্গিত মিলেছে।
আগেও কি এমন ব্যাঙ্ক মার্জার হয়েছে?
হ্যাঁ, এই প্রথম নয়।
২০১৯ সালের অগস্ট মাসে কেন্দ্র সরকার একটি মেগা ব্যাঙ্ক মার্জার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে। তখন—
- মোট ২৭টি পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ককে একীভূত করে ১২টি করা হয়
যে মার্জারগুলো হয়েছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অব কমার্স + ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক → পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক
- সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক → কানাড়া ব্যাঙ্ক
- এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক → ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক
- অন্ধ্র ব্যাঙ্ক + কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক → ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া
- দেনা ব্যাঙ্ক + বিজয় ব্যাঙ্ক → ব্যাঙ্ক অব বরোদা
এর আগেও এসবিআই-এর সঙ্গে একাধিক সহযোগী ব্যাঙ্ক মিশে গেছে।
২০০৮ সালে স্টেট ব্যাঙ্ক অব সৌরাষ্ট্র এবং ২০১০ সালে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্দোর সম্পূর্ণভাবে এসবিআই-এর অংশ হয়ে যায়।

তাহলে গ্রাহকদের কী হবে?
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
👉 ব্যাঙ্ক একীভূত মানেই ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়।
যদি আপনার অ্যাকাউন্ট কোনও পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কে থাকে এবং সেই ব্যাঙ্ক অন্য একটি বড় ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিশে যায়, তাহলে—
- আপনার টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে
- অ্যাকাউন্ট নম্বর বা IFSC কোড বদলাতে পারে
- ATM, চেকবুক ও অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্কে জমা অর্থের উপর সরকারি গ্যারান্টি থাকে। ফলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
সরকার কেন এই সিদ্ধান্তে অটল?
সরকারের মতে—
- শক্তিশালী ব্যাঙ্ক মানেই অর্থনীতির ভিত মজবুত
- বড় ব্যাঙ্ক হলে আন্তর্জাতিক ঋণ ও বিনিয়োগ সহজ হয়
- প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করার ক্ষমতা বাড়ে
- খেলাপি ঋণের ঝুঁকি কমানো যায়
সব মিলিয়ে লক্ষ্য একটাই—ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তোলা।



