PV Sindhu : বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবার সরাসরি আঘাত করল ক্রীড়াজগতেও। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষের জেরে আকাশপথে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব থেকে রেহাই পাননি ভারতের তারকা শাটলার, দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু। আন্তর্জাতিক সফর শেষে দেশে ফেরার পথে তিনি দুবাই বিমানবন্দরে আটকে পড়েন, যেখানে মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছিল পরিস্থিতি।
কীভাবে আটকে পড়লেন সিন্ধু?
ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম থেকে একটি আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শেষ করে ভারতে ফেরার পরিকল্পনা ছিল সিন্ধুর। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে ওঠায় একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরেই বহু আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল বা ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য হয়। সেই পরিস্থিতিতে শনিবার সিন্ধু পৌঁছন দুবাই বিমানবন্দরে, সেখানেই অনিশ্চয়তায় আটকে পড়েন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আতঙ্কের মুহূর্তের বর্ণনা
দুবাই বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পর সিন্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর প্রথম পোস্টেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে আতঙ্কের মাত্রা। তিনি লেখেন,
“এই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটছে, তা বোঝা সত্যিই কঠিন। চারপাশে অদ্ভুত শব্দ, পরিস্থিতি খুব দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। বাস্তবতা হল— পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমেই বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক মানের একজন ক্রীড়াবিদ হয়েও কী ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
‘যে শহরকে ভালোবাসি, সেখানেই এমন পরিস্থিতি’
সিন্ধু আরও জানান, দুবাই তাঁর কাছে শুধু একটি ট্রানজিট শহর নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রিয় একটি জায়গা। তিনি লেখেন,
“দুবাই এমন একটি শহর, যাকে আমি হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি। তাই এখানকার এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।”
পাশাপাশি যাঁরা তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন, সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতীয় শাটলার।
দ্বিতীয় পোস্টে আরও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
প্রথম পোস্টের প্রায় নয় ঘণ্টা পরে সিন্ধু আবার একটি আপডেট দেন। সেখানে পরিস্থিতির আরও ভয়ঙ্কর দিক সামনে আসে। তিনি জানান,
“সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কিছুক্ষণ আগেই আমরা যে জায়গায় ছিলাম, সেই বিমানবন্দর এলাকাতেই একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।”
এই বিস্ফোরণের খবর মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় বিমানবন্দরে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে। সিন্ধুর কথায়, সেই সময়টি ছিল তাঁদের সকলের জীবনের অন্যতম ভয়াবহ মুহূর্ত।
আপাতত নিরাপদ, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি
সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, সিন্ধু জানান যে তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সকলেই বর্তমানে নিরাপদ আছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের একটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান দুবাই বিমানবন্দরের কর্মী ও প্রশাসনকে, যাঁরা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।
এছাড়াও সিন্ধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দুবাইয়ে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিও। তাঁদের সহায়তা ও তৎপরতার কারণেই ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্রীড়াজগতের ওপর যুদ্ধের প্রভাব
এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংঘর্ষ শুধু রাজনীতি বা সাধারণ নাগরিকদের জীবনেই প্রভাব ফেলে না, বরং তার প্রভাব পড়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, খেলোয়াড়দের যাতায়াত, নিরাপত্তা— সবকিছুই হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। পিভি সিন্ধুর মতো তারকা ক্রীড়াবিদ আটকে পড়ার ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
শেষ কথা
বর্তমানে সিন্ধু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আপাতত ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই একমাত্র পথ। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে যে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, তা তাঁর প্রতিটি শব্দেই স্পষ্ট।
বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতার মাঝে এক ক্রীড়াবিদের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানবজীবন ও নিরাপত্তাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।



