Wednesday, March 4, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথারাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি: ভোটেও লড়তে পারবেন না?

রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলল বিজেপি: ভোটেও লড়তে পারবেন না?

Rahul Gandhi Controversy : রাজনীতির মাঠে ফের একবার উত্তাপ ছড়ালো। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ঘিরে সংসদে নতুন বিতর্কের জন্ম নিল। বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই রাহুল গান্ধী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে চলেছেন। আর সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সংসদে দাবি তুলেছেন, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ বাতিল করা হোক এবং ভবিষ্যতে ভোটে লড়ার সুযোগও তিনি পেতে না।

নিশিকান্ত দুবের বক্তব্য অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী লোকসভায় দাঁড়িয়ে ক্রমশ দেশবিরোধী মন্তব্য করছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং দেশের ক্ষতি হচ্ছে। তাই তাঁর সাংসদ পদ বাতিল করা এবং নির্বাচনেও লড়তে দেওয়া না হওয়া উচিত। দুবের দাবি অনুযায়ী, এই প্রস্তাব ‘সাবস্ট্যান্টিভ মোশন’ আকারে সংসদে আনা হয়েছে এবং তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই অপরাধমূলক মানহানির মামলায় একবার সাংসদ পদ হারিয়েছেন, তবে পরে আদালতের নির্দেশে পুনরায় পদ ফিরে পেয়েছিলেন। এবার আবারও বিজেপি দলের পক্ষ থেকে একই দাবি তোলা হচ্ছে।

রাহুল গান্ধী বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকারের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। প্রথমে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীকে হাতিয়ার করে এবং পরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে সরকারকে সরাসরি খোঁচা দিয়েছেন। তিনি সংসদে বলেন, “আপনারা ভারতের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন, আমেরিকার কাছে ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ করেছেন। আমাদের দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিদেশের হাতে চলে গেছে। কৃষক এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে এমন আপোস কখনো স্বীকারযোগ্য নয়।”

রাহুল গান্ধীর এসব মন্তব্যের পর বিজেপির একটি অংশ তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা বলেন, বিরোধী দলনেতা লোকসভায় দাঁড়িয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন, যা শাস্তিযোগ্য। কেউ কেউ প্রস্তাব করেন, রাহুলের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনা হোক, কিন্তু নিশিকান্ত দুবে তা পাশ কাটিয়ে সরাসরি সাংসদ পদ বাতিলের দাবি তুলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক রণকৌশল। বিজেপি দলের দাবি অনুযায়ী, রাহুল গান্ধীর সরবতা সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলছে, তাই তাঁকে সংসদে এবং নির্বাচনে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির মনে করছে, এটি কেবল রাজনৈতিক হিংসা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণের চেষ্টার অংশ

সংক্ষেপে, এই বিতর্ক ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, বিজেপি দলের প্রস্তাব এবং তা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূচনা করতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments