Ram Mandir : অযোধ্যার রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ। সম্প্রতি রাম মন্দির চত্বরে ঢুকে এক ব্যক্তির নামাজ পড়ার চেষ্টার ঘটনা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই একজন ব্যক্তির আচরণ, না কি এর পেছনে ছিল কোনও গভীর ও সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য? কাশ্মীর থেকে আগত ওই ব্যক্তির উপস্থিতি এবং তাঁর কর্মকাণ্ডকে ঘিরে নিরাপত্তা মহল ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
রাম মন্দির বর্তমানে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত ধর্মীয় স্থাপনার মধ্যে পড়ে। এমন একটি সংবেদনশীল স্থানে এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দিল্লির লাল কেল্লায় অতীতে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্কিত ঘটনার পর, আবার কি কোনও প্রতীকী স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হল—এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।
কী ঘটেছিল রাম মন্দির চত্বরে?
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এক ব্যক্তি রাম মন্দির কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। তিনি মন্দির দর্শনও করেন। কিন্তু পরে সীতা রাসোই সংলগ্ন এলাকায় বসে পড়েন এবং সেখানে নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা হস্তক্ষেপ করেন এবং ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বাধা দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি স্লোগানও দেন। যদিও এই বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
অভিযুক্ত ব্যক্তি কে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির নাম আহমেদ শেখ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর এবং তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, তিনি একাই অযোধ্যায় এসেছিলেন। তাঁর যাতায়াতের রুট, থাকার ব্যবস্থা এবং উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তল্লাশির সময় তাঁর কাছ থেকে কোনও অস্ত্র বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর কাছে কাজু ও কিশমিশ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও তদন্তকারীরা বিষয়টিকে আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
মানসিক অসুস্থতার দাবি পরিবারের
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, আহমেদ শেখ মানসিকভাবে অসুস্থ। পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীনগর মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও পুলিশকে দেখানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ওই নথিতে তাঁর মানসিক চিকিৎসার ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে।
তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, মানসিক অসুস্থতার দাবি যাচাই করা হচ্ছে এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তদন্তে কোন কোন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে?
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক দিক থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানতে চাইছে—
- তিনি কেন কাশ্মীর থেকে অযোধ্যায় এলেন?
- তাঁর সফর কি সম্পূর্ণ একক উদ্যোগ, না কি কেউ তাঁকে সহায়তা করেছে?
- রাম মন্দির ছাড়াও অন্য কোনও সংবেদনশীল স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না?
- তাঁর মোবাইল ফোন, কল ডিটেলস ও যোগাযোগের তালিকা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাকি দাবি করেছেন, তিনি আজমীর যাচ্ছিলেন। তবে সেই দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া
এই ঘটনার পর রাম মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নজরদারি, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত জেলা প্রশাসন কিংবা রাম মন্দির ট্রাস্টের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত, কোনও রকম ঢিলেমি না রেখে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
রাম মন্দির শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি একটি জাতীয় প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। তাই সেখানে ঘটে যাওয়া যেকোনও অস্বাভাবিক ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্ন তুলে দেয়। এই ঘটনা একক আচরণ না কোনও বড় পরিকল্পনার অংশ—তার উত্তর দেবে তদন্ত। তবে ততদিন পর্যন্ত প্রশাসনের কড়া নজরদারি এবং নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



