Rafale Security : সাধারণতন্ত্র দিবস মানেই চোখ ধাঁধানো কুচকাওয়াজ, ট্যাঙ্কের গর্জন, ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী আর দিল্লির আকাশে যুদ্ধবিমানের নিখুঁত অ্যারোবেটিক্স। কিন্তু ২০২৬ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসকে ঘিরে যে খবর সামনে এসেছে, তা শুনলে প্রথমে অবাক হওয়াটাই স্বাভাবিক। দেশের অত্যাধুনিক সুখোই ও রাফাল যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার জন্য হাজার হাজার কেজি মুরগির মাংস কিনছে প্রশাসন! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এর পিছনে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
কেন যুদ্ধবিমানের সুরক্ষায় মুরগির মাংস?
দিল্লির আকাশে সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে এবং চলাকালীন একাধিক দিন ধরে চলে যুদ্ধবিমানের মহড়া। এই সময় সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায় ‘বার্ড হিট’। চিল, বাজ বা অন্যান্য বড় আকারের পাখি যদি উচ্চগতিতে উড়তে থাকা বিমানের সঙ্গে ধাক্কা খায়, তাহলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অতীতে একাধিকবার এই ধরনের সংঘর্ষের জেরে মাঝ আকাশ থেকেই জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে যুদ্ধবিমানকে। এমনকি পাইলটের প্রাণহানির ঝুঁকিও থাকে।
এই ঝুঁকি এড়াতেই প্রশাসনের অভিনব কৌশল— ‘চিকেন শিল্ড’।
কী এই ‘চিকেন শিল্ড’ কৌশল?
‘চিকেন শিল্ড’ মূলত একটি পরিকল্পিত বার্ড ডাইভারশন পদ্ধতি। পাখিদের বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণের রুট থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাখিরা যেখানে খাবার পায়, সেখানেই বেশি সময় কাটায়। ফলে তারা যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য ফ্লাইটপাথের কাছে আসে না।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দিল্লি সরকার ১২৭৫ কেজি হাড়বিহীন মুরগির মাংস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য ইতিমধ্যেই একটি স্বল্পমেয়াদি দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
দরপত্রে কী বলা হয়েছে?
দরপত্র অনুযায়ী—
- মুরগির মাংস হতে হবে সম্পূর্ণ হাড়বিহীন
- ২০ থেকে ৩০ গ্রাম করে ছোট টুকরো করতে হবে
- প্রতি প্যাকেটে থাকবে ৫ কেজি মাংস
- দিনে সরবরাহ করতে হবে ৩৪ থেকে ৫১টি প্যাকেট
এই সরবরাহ চলবে ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ সাধারণতন্ত্র দিবসের মহড়া ও মূল অনুষ্ঠানের পুরো সময় জুড়ে।
দিল্লির কোন কোন এলাকায় ছড়ানো হবে মাংস?
প্রশাসনের তরফে রাজধানীর প্রায় ২০টি সংবেদনশীল এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- লাল কেল্লা
- জামা মসজিদ
- মান্ডি হাউস
- দিল্লি গেট
- এবং আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল
এই সব এলাকাতেই নিয়মিত ছোট ছোট টুকরো করে মুরগির মাংস ছড়ানো হবে, যাতে চিল ও বাজের মতো বড় পাখিরা সেখানেই খাবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
আগেও কি এমন কৌশল নেওয়া হয়েছে?
হ্যাঁ, এটি নতুন কোনও ধারণা নয়। আগের বছরগুলিতে বিমান মহড়ার সময় মোষের মাংস ব্যবহার করা হত। তবে এবার পরিবেশগত ও ব্যবহারিক কারণে হাড়বিহীন মুরগির মাংসকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি সহজে ছড়ানো যায় এবং পাখিদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন?
কারণ সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি ভারতের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শন। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বহু রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ অতিথিরা উপস্থিত থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে কোনও দুর্ঘটনা শুধু মানবিক ক্ষতিই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের ভাবমূর্তিকে আঘাত করতে পারে।
বিজ্ঞান বনাম অদ্ভুত ভাবনা
শুনতে যতই অদ্ভুত লাগুক না কেন, ‘চিকেন শিল্ড’ আদতে একটি বিজ্ঞানসম্মত ও পরীক্ষিত কৌশল। এটি পাখিদের হত্যা নয়, বরং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের একটি নিরাপদ উপায়। বিমান, পাইলট এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর একমাত্র উদ্দেশ্য।
শেষ কথা
ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র আর যুদ্ধবিমানের ভিড়ে মুরগির মাংসের নাম উঠে আসায় প্রথমে বিষয়টি হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবটা হল—দিল্লির আকাশে রাফাল ও সুখোইকে নিরাপদ রাখতে এই ‘চিকেন শিল্ড’ আজ অপরিহার্য। অদ্ভুত হলেও, সাধারণতন্ত্র দিবসের আকাশযুদ্ধের নেপথ্যে এটি একেবারে বাস্তব, যুক্তিসংগত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।



