Rinku Singh : এশিয়া কাপে জায়গা হলো না রিংঙ্কু সিংয়ের ? দলে জায়গা না হওয়ার কারণ কি…? কলকাতা নাইট রাইডার্সের সিদ্ধান্তের প্রভাব? ভারতের টপ অর্ডারে জায়গা তবে কি অনিশ্চিত এই ফিনিশারের? নাকি গৌতম গম্ভীরের পছন্দের কারনেই পিছিয়ে গেল রিঙ্কু !
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া রিঙ্কু সিংহের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নবিদ্ধ। একের পর এক ফ্যাক্টর তাঁর দলে থাকা বা বাদ পড়ার সম্ভাব্যতা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করেছে। ভারতের প্রধান নির্বাচকরা জানিয়েছেন, ভারসাম্য বজায় রাখতেই রিঙ্কুকে এবার দলে নেওয়া হয়নি। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা জানে না, রিঙ্কুর পারফরম্যান্সে এত বড় প্রভাব কোথা থেকে এসেছে-এবং তার নেপথ্যে দায়ী কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভূমিকা।

রিঙ্কু যখন আইপিএলের ফিনিশার হিসেবে খেলেছেন, তখন খুব কম বল খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৪ সালে ১১৩ বল, আর ২০২৫ সালে ১৩৪ বল – এই সীমিত সময়েই তাকে বড় রান তৈরি করতে হয়েছে। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় এমন কম সুযোগ থাকলে জাতীয় দলে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করা কঠিন। এই কারণেই তাঁর খেলার মান অনেকটা কমে গেছে।
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের টপ অর্ডার ইতিমধ্যেই দৃঢ় – অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক পাণ্ড্য। এই পাঁচজনকে সরানোর মতো অবস্থান নেই। এমন পরিস্থিতিতে শুভমন গিলের মতো টেস্ট অধিনায়ককেও দলে রাখা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া যশস্বী জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুলের জায়গাও পাওয়া কঠিন।

এক প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, অনেকেই দাবি করেন একে বা ওকে নেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে, যাদের জায়গায় রিঙ্কুকে রাখা যেত, সেই সব খেলোয়াড় ইতিমধ্যেই দলে। শ্রেয়স আয়ার চলতি বছর ১৮০-এর স্ট্রাইক রেটে ৬০০ রান করেছে, কিন্তু তার জায়গা নেওয়া যাবে না। এমনকি শুভমনকেও ঢোকানো সম্ভব নয়। একমাত্র রিঙ্কুর জায়গা নিয়েই পরিবর্তন সম্ভব।
এবার গুরুত্বপূর্ণ হলো – রিঙ্কুর ফিনিশিং ভূমিকা। শিবম দুবে অলরাউন্ডার হিসেবে এবং জিতেশ শর্মা দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলতে পারেন। এই দু’জনই ফিনিশার হতে সক্ষম। ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর সাধারণত এমন ক্রিকেটারদের পছন্দ করেন না যিনি শুধু ব্যাট বা বল করেন; তিনি অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব দেন। রিঙ্কু সেই লড়াইয়েও পিছিয়ে পড়েছেন।

এশিয়া কাপের দল ঘোষণা হতে চলেছে, এবং রিঙ্কুর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন দেখছেন – কি ভাবে limited-overs ক্রিকেটে খেলোয়াড়ের ভূমিকা, ক্লাবের সিদ্ধান্ত এবং প্রধান কোচের পছন্দ মিলিত হয়ে জাতীয় দলের দলে জায়গা দেয় বা বাদ দেয়। রিঙ্কুর জন্য এটি শুধুই এক পরীক্ষা নয়, বরং তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সাসপেন্স রয়ে যাচ্ছে – রিঙ্কু সিংহ কি এশিয়া কাপেও থাকবেন, নাকি একবার আরও ব্যর্থতার ছায়া ফেলবেন? সবকিছুই নির্ভর করছে নির্বাচক এবং কোচের সিদ্ধান্তের ওপর। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন কান্না-বিস্ময় মিশিয়ে অপেক্ষা করছেন।



