Monday, March 2, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটসালানপুর ব্লকের বিএলও-দের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে! দেখালো বিক্ষোভ

সালানপুর ব্লকের বিএলও-দের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে! দেখালো বিক্ষোভ

সালানপুর ব্লকের প্রায় দেড়শোরও বেশি বিএলও-র (Booth Level Officer) ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে। বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্ব, অসংগতি এবং কাজের চাপ বাড়ানোর অভিযোগে শুক্রবার সকালে সালানপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রায় ১৪৩ জন বিএলও। হাতে ফ্লিক কার্ড, ব্যানার ও দাবি-সংবলিত পোস্টার তুলে তাঁরা জানান—বরাদ্দ কাজের সীমা ছাড়িয়ে তাদের ওপর বারবার নতুন দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে।

বিএলওদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক তারা টানা কয়েক মাস ধরে SiR (Status of Information Repository) ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ এবং আপলোডের কাজ করে চলেছেন। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করার। পরে জানানো হয় যে সমস্ত তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করতেও হবে। সেই কাজ তারা যথাযথভাবে শেষ করার পর আবার নতুনভাবে বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনের নামে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএলওরা জানান, বহু পরিশ্রম করে ফর্ম সংগ্রহ, ভেরিফিকেশন, ডেটা এন্ট্রি, এবং আপলোডের কাজ শেষ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কাজের শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ নতুন নির্দেশ আসে—যেসব ফর্মে কোনও ছোটখাটো ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে সেগুলির পুনরায় যাচাই করতে হবে। শুধুমাত্র যাচাইই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবার নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাপে পুনরায় সাবমিট করতেও বলা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, “অতিরিক্ত চাপের বোঝা আর বইতে পারছি না। রক্ত জল করে যে কাজ এতদিন করেছি, তারই শেষে আবার নতুন করে দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে এমন নির্দেশ পালন করা সম্ভব নয়।”

বিএলওরা আরও জানান, কমিশনের দেওয়া নতুন অ্যাপ বা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেকসময় সার্ভার ডাউন, অ্যাপ না খোলা, তথ্য সেভ না হওয়া ইত্যাদি কারণে কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে তাঁদের ওপর মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই জানান, কাজের পরিমাণ এত বেশি যে ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব পড়ছে।

শুক্রবার সকালে তারা দলবদ্ধভাবে সালানপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে উপস্থিত হন। সেখানে দপ্তরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এক বিএলও বলেন, “আমরা দায়িত্ব পালনে কখনও পিছিয়ে যাইনি। কিন্তু কাজের পরিমাণ যেভাবে বাড়ানো হচ্ছে তা অমানবিক। নতুন অ্যাপ চালু করে কাজ বাড়ানোর আগে আমাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।”

বিক্ষোভ চলাকালীন বিএলওদের একটি প্রতিনিধি দল দপ্তরের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের একাধিক সমস্যা, দাবি ও আপত্তির বিষয়গুলি মৌখিকভাবে তুলে ধরেন। উপস্থিত প্রতিবেদকদের কাছে তারা জানান—নির্বাচনের কাজের গুরুত্ব তারা বোঝেন, কিন্তু যেভাবে বারবার কাজের পরিধি বদলে দেওয়া হচ্ছে তা অযৌক্তিক।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “SiR ফর্ম বিতরণ থেকে ডেটা এন্ট্রি—সবই করেছি। এখন আবার বলছে ফর্মের ত্রুটি সংশোধন করতে। আমরা আর কতটা সময় দেব? কমিশন আমাদের সীমাবদ্ধতা বোঝার প্রয়োজন আছে।”

অন্য আর এক বিএলও বলেন, “যদি শুরুতেই সব নির্দেশ স্পষ্ট করে দেওয়া হতো তাহলে এত সমস্যা হতো না। মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে অ্যাপ বদলে দেওয়া, নতুন সফটওয়্যার চালু করা—এগুলো কার্যত আমাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে।”

অভিযোগ উঠেছে, এই বাড়তি দায়িত্ব পালনের জন্য কোনও অতিরিক্ত ভাতা বা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে না। অনেকের বক্তব্য, তাঁদের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি নির্বাচনী কাজ সামলাতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপ বেড়ে চলেছে। সেই কারণেই তারা এই বিক্ষোভের পথ বেছে নিয়েছেন।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিএলওদের দাবি শোনা হয়েছে কিনা বা কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানা যায়নি। তবে বিক্ষোভের জেরে সালানপুর ব্লকের প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে বিএলওরা পরিষ্কার জানান—এভাবে বারবার অ্যাপ বদলে বা নতুন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার বদলে নির্বাচন কমিশনের উচিত কাজের কাঠামো ঠিক রেখে আগে থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া। না হলে ভবিষ্যতেও এমন বিক্ষোভ চলতে থাকবে বলে জানান তাঁরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments