sayak-chakraborty : কলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি নামী পাবে রাতের খাবার খেতে গিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন টলিপাড়ার পরিচিত মুখ অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তী, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, মাটনের বদলে তাঁকে না জানিয়েই গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়েছে। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে ধর্ম, পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
শুক্রবার রাতে পার্ক স্ট্রিটের এক জনপ্রিয় পাবে বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে খেতে গিয়েছিলেন সায়ক চক্রবর্তী। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা তিনজন মিলে একটি মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর খাবার পরিবেশন করা হয়। খিদে বেশি থাকায় তাঁরা না ভেবেই সেই খাবার খেতে শুরু করেন।
কিছুক্ষণ পর ওয়েটার ফের একটি প্লেট নিয়ে এসে জানান, এটি মাটন স্টেক। তখনই সন্দেহ জাগে। দু’টি প্লেটের স্বাদ ও গঠনে পার্থক্য বুঝতে পেরে সায়ক জানতে চান, আগের প্লেটটি আসলে কী ছিল। সেখানেই জানা যায়—প্রথমে যেটি পরিবেশন করা হয়েছিল, সেটি ছিল বিফ স্টেক।
“আমি ব্রাহ্মণ ছেলে”—লাইভ ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক
ঘটনার পরপরই সায়ক চক্রবর্তী ওয়েটারের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিয়োতেই সায়ক বলেন,
“আমি একজন ব্রাহ্মণ। আমাকে না জানিয়ে কীভাবে গরুর মাংস খাওয়ানো হল? আমার ধর্মীয় অনুভূতির কথা কি একবারও ভাবা হয়নি?”
ভিডিয়োতে তাঁকে ওয়েটারকে আরও বলতে শোনা যায়,
“আপনার ধর্ম কী? আমি যদি আপনাকে না জানিয়ে শুয়োরের মাংস খাইয়ে দিই, আপনি কি খাবেন?”
ওয়েটার সেই সময় স্বীকার করেন, তাঁর তরফে ভুল হয়েছে এবং তিনি দুঃখপ্রকাশও করেন। তবে এখানেই বিতর্ক থেমে থাকেনি।
ইচ্ছাকৃত না ভুল? প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় দু’ভাগে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের প্রশ্ন—যদি সত্যিই ভুল হয়ে থাকে, তবে পুরো প্লেট শেষ করার পর কেন তা বোঝা গেল? আবার অনেকেই বলছেন, খাবারের স্বাদ ও গন্ধে বিফ আর মাটনের পার্থক্য বোঝা যায়—তাহলে এতক্ষণে কেন সন্দেহ হলো?
আরও একাংশ সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন,
এই ঘটনা কি শুধুই একটি রেস্তোরাঁর ভুল, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা?
সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছে ওয়েটারের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—
👉 খাবার সংক্রান্ত ভুল হলে কেন প্রকাশ্যে ওয়েটারের ধর্ম টেনে আনা হলো?
👉 এতে কি হিন্দু-মুসলিম বিভাজন উসকে দেওয়া হচ্ছে না?
একাংশ নেটিজেন তো আরও এক ধাপ এগিয়ে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে “বিজেপির দালাল” বলেও কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেই আবহেই এই ভিডিয়োকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সায়কের বক্তব্য কী?
এই বিতর্কের মাঝেই সায়ক চক্রবর্তী নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন,
“আমি কাউকে আঘাত করার জন্য বা সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির জন্য কিছু বলিনি। আমার অভিযোগ একটাই—আমার সম্মতি ছাড়া আমাকে এমন কিছু খাওয়ানো হয়েছে, যা আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী। সেটা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুল, আমি জানার অধিকার রাখি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি চেপে যাওয়ার বদলে প্রকাশ্যে আনাই তাঁর কাছে সঠিক মনে হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি
উল্লেখ্য, সায়ক চক্রবর্তী টলিপাড়ার পরিচিত মুখ। একদিকে তিনি যেমন অভিনয়ে যুক্ত, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। সম্প্রতি গায়িকা দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে তিনি চর্চায় ছিলেন। আর এবার গরুর মাংস বিতর্ক তাঁকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এনে ফেলেছে।
প্রশ্ন রয়ে গেল
এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
👉 এটি কি নিছক একটি রেস্তোরাঁর গাফিলতি?
👉 নাকি অযথা ধর্মীয় রং দিয়ে বিষয়টিকে বড় করে তোলা হচ্ছে?
👉 আবার সত্যিই কি একজন গ্রাহকের খাদ্যাভ্যাস ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল না?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর যেমন তদন্ত ও ব্যাখ্যার দাবি রাখে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচার করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবণতাও নতুন করে ভাবার অবকাশ রাখে। আপাতত, সায়ক চক্রবর্তীর এই অভিজ্ঞতা কলকাতার খাবার সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সংঘাত নিয়ে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।



