Sunday, November 30, 2025
Google search engine
Homeদেশের কথাশত্রুপক্ষের যেকোনো ড্রোনকে একেবারে 'ফু' দিয়ে উড়িয়ে দেবে ভারতের তৈরি নয়া অস্ত্র...

শত্রুপক্ষের যেকোনো ড্রোনকে একেবারে ‘ফু’ দিয়ে উড়িয়ে দেবে ভারতের তৈরি নয়া অস্ত্র ‘সক্ষম’!

SAKSHAM Anti-Drone Grid: ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এক আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন গ্রিড — সক্ষম — চালু করেছে। এটি রিয়েল-টাইমে ড্রোন সনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিস্ক্রিয় করতে ডিজাইন করা মডুলার নেটওয়ার্ক। ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত আকাশকেই লক্ষ্য করে এটি Tactical Battlefield Space-এ (TBS) স্বচ্ছন্দে কাজ করবে এবং বিদ্যমান এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করবে।

কী — সহজ ভাষায় :

সক্ষম (Situational Awareness for Kinetic Soft and Hard Kill Assets Management) একটি সমন্বিত Counter-UAS প্ল্যাটফর্ম। রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর ও অন্যান্য উৎস থেকে ডেটা সংগ্রহ করে AI-চালিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুমকি নির্ধারণ করে এবং প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয় বা মানব-নির্দেশিত প্রতিক্রিয়া সমর্থন করে।

কেন এটা জরুরি ?

নতুন কৌশলে ছোট আকারের, সস্তা ড্রোনগুলো নজরদারি ও আক্রমণে ব্যবহার বাড়ছে। সীমান্ত ও সংবেদনশীল এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিসাধ্য ড্রোন অনুপ্রবেশ সেনাবাহিনীর জন্য বড় ঝুঁকি। অপারেশন-সিন্ধূরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে আকাশ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মাটির নিরাপত্তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে — সেজন্য ‘সক্ষম’-এর আবেদন।

প্রধান ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য :

  • ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত ‘Recognised UAS Picture’ — একক ভিউতে পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের ড্রোন পরিস্থিতি।
  • মডুলার গ্রিড আর্কিটেকচার — বিভিন্ন সেন্সর ও প্রতিরক্ষামাধ্যম যোগ করে দ্রুত স্থাপন, রিলোকেশন ও স্কেল-আপ সম্ভব।
  • AI-চালিত ট্র্যাকিং ও ক্লাসিফিকেশন — হুমকি শনাক্তকরণে দ্রুততা ও সঠিকতা বাড়ায়।
  • ADN (Army Data Network) সমর্থন — নিরাপদ যোগাযোগ ও সেনা-নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সোজাসুজি ইন্টিগ্রেশন।

সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি :

যতই উন্নত হোক, প্রযুক্তির কিছু চ্যালেঞ্জ থেকেই যায় —

  1. ফিউডিং ও স্পুফিং: প্রতিপক্ষ যদি প্রকৃত ডেটা জালায়, ভুল সিগন্যাল তৈরি হতে পারে।
  2. কম ভিজিবিলিটি পরিবেশে কার্যকারিতা: ধোঁয়া, তুষার বা ভারি আবহাওয়ায় অপটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সেন্সরের কাজ কমতে পারে।
  3. সাইবার ঝুঁকি: নেটওয়ার্ক সংযুক্ত সিস্টেম হলে সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
  4. অটোমেশন বনাম মানব-নিয়ন্ত্রণ: স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত ও নীতিশাস্ত্রগত প্রশ্ন ওঠে — কখন মানব-অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে?

কাগজে কি লেখা আছে — বাস্তবে কি হবে ?

প্রশাসনিক সূচনা ও Fast Track Procurement-এর মাধ্যমে দ্রুত স্থাপনের উদ্দেশ্য থাকলেও মাঠে স্থায়ী কার্যকারিতার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা, কন্ডিশন-ভিত্তিক টিউনিং এবং অপারেটর প্রশিক্ষণ জরুরি। ভারতীয় স্বদেশি উন্নয়ন সুনিশ্চিত করে কিন্তু পুরো সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব-পরিস্থিতিতে টেকসইতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

সামরিক কৌশলে সম্ভাব্য প্রভাব :

সক্ষম যদি প্রত্যাশা মতো কাজ করে, তাহলে Tactical Battlefield-এর আকাশ নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পরিবর্তন আসতে পারে: দ্রুত তথ্যপ্রবাহ, লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়া ও বহুমাত্রিক সমন্বয় কৌশলকে মজবুত করবে। তবে প্রতিপক্ষও তাদের ড্রোন কৌশল আপডেট করতে বাধ্য হবে — প্রযুক্তি যুদ্ধ একটি ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা।

সক্ষম হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা-স্বনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ — এটি কেবল ড্রোন প্রতিরোধ নয়, সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিস্থিতি সচেতনতা-ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলা এক প্রচেষ্টা। তবে প্রযুক্তি যতই উৎকর্ষহীন হোক, মনুষ্যিক তত্ত্বাবধান, সাইবার সুরক্ষা ও মাঠি-পরীক্ষা অপরিহার্য। নিরাপত্তা বাড়বে — কিন্তু ঝুঁকি মুছে যাবে না; তাই পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত আপগ্রেড জরুরি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments