SAKSHAM Anti-Drone Grid: ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এক আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন গ্রিড — সক্ষম — চালু করেছে। এটি রিয়েল-টাইমে ড্রোন সনাক্ত, ট্র্যাক এবং নিস্ক্রিয় করতে ডিজাইন করা মডুলার নেটওয়ার্ক। ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত আকাশকেই লক্ষ্য করে এটি Tactical Battlefield Space-এ (TBS) স্বচ্ছন্দে কাজ করবে এবং বিদ্যমান এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করবে।
কী — সহজ ভাষায় :
সক্ষম (Situational Awareness for Kinetic Soft and Hard Kill Assets Management) একটি সমন্বিত Counter-UAS প্ল্যাটফর্ম। রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর ও অন্যান্য উৎস থেকে ডেটা সংগ্রহ করে AI-চালিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হুমকি নির্ধারণ করে এবং প্রয়োজন হলে স্বয়ংক্রিয় বা মানব-নির্দেশিত প্রতিক্রিয়া সমর্থন করে।
কেন এটা জরুরি ?
নতুন কৌশলে ছোট আকারের, সস্তা ড্রোনগুলো নজরদারি ও আক্রমণে ব্যবহার বাড়ছে। সীমান্ত ও সংবেদনশীল এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিসাধ্য ড্রোন অনুপ্রবেশ সেনাবাহিনীর জন্য বড় ঝুঁকি। অপারেশন-সিন্ধূরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে আকাশ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মাটির নিরাপত্তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে — সেজন্য ‘সক্ষম’-এর আবেদন।

প্রধান ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য :
- ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত ‘Recognised UAS Picture’ — একক ভিউতে পুরো যুদ্ধক্ষেত্রের ড্রোন পরিস্থিতি।
- মডুলার গ্রিড আর্কিটেকচার — বিভিন্ন সেন্সর ও প্রতিরক্ষামাধ্যম যোগ করে দ্রুত স্থাপন, রিলোকেশন ও স্কেল-আপ সম্ভব।
- AI-চালিত ট্র্যাকিং ও ক্লাসিফিকেশন — হুমকি শনাক্তকরণে দ্রুততা ও সঠিকতা বাড়ায়।
- ADN (Army Data Network) সমর্থন — নিরাপদ যোগাযোগ ও সেনা-নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সোজাসুজি ইন্টিগ্রেশন।
সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি :
যতই উন্নত হোক, প্রযুক্তির কিছু চ্যালেঞ্জ থেকেই যায় —
- ফিউডিং ও স্পুফিং: প্রতিপক্ষ যদি প্রকৃত ডেটা জালায়, ভুল সিগন্যাল তৈরি হতে পারে।
- কম ভিজিবিলিটি পরিবেশে কার্যকারিতা: ধোঁয়া, তুষার বা ভারি আবহাওয়ায় অপটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সেন্সরের কাজ কমতে পারে।
- সাইবার ঝুঁকি: নেটওয়ার্ক সংযুক্ত সিস্টেম হলে সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
- অটোমেশন বনাম মানব-নিয়ন্ত্রণ: স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত ও নীতিশাস্ত্রগত প্রশ্ন ওঠে — কখন মানব-অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে?

কাগজে কি লেখা আছে — বাস্তবে কি হবে ?
প্রশাসনিক সূচনা ও Fast Track Procurement-এর মাধ্যমে দ্রুত স্থাপনের উদ্দেশ্য থাকলেও মাঠে স্থায়ী কার্যকারিতার জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা, কন্ডিশন-ভিত্তিক টিউনিং এবং অপারেটর প্রশিক্ষণ জরুরি। ভারতীয় স্বদেশি উন্নয়ন সুনিশ্চিত করে কিন্তু পুরো সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব-পরিস্থিতিতে টেকসইতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
সামরিক কৌশলে সম্ভাব্য প্রভাব :
সক্ষম যদি প্রত্যাশা মতো কাজ করে, তাহলে Tactical Battlefield-এর আকাশ নিয়ন্ত্রণে কৌশলগত পরিবর্তন আসতে পারে: দ্রুত তথ্যপ্রবাহ, লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিক্রিয়া ও বহুমাত্রিক সমন্বয় কৌশলকে মজবুত করবে। তবে প্রতিপক্ষও তাদের ড্রোন কৌশল আপডেট করতে বাধ্য হবে — প্রযুক্তি যুদ্ধ একটি ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা।
সক্ষম হচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা-স্বনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ — এটি কেবল ড্রোন প্রতিরোধ নয়, সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিস্থিতি সচেতনতা-ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলা এক প্রচেষ্টা। তবে প্রযুক্তি যতই উৎকর্ষহীন হোক, মনুষ্যিক তত্ত্বাবধান, সাইবার সুরক্ষা ও মাঠি-পরীক্ষা অপরিহার্য। নিরাপত্তা বাড়বে — কিন্তু ঝুঁকি মুছে যাবে না; তাই পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত আপগ্রেড জরুরি।



