Suvendu Adhikari Attack : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনার পারদ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের উপর হামলার অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। বিজেপির দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত চক্রান্ত। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা বক্তব্য—পুরোটাই সাজানো নাটক, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ। ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে অমিত শাহের দফতর থেকে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। পুরুলিয়া সফর সেরে ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা বাঁশ, লাঠি নিয়ে কনভয়ের গাড়িগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই পরিস্থিতি চললেও পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
এই ঘটনার পর চন্দ্রকোণা থানায় ঢুকে ধর্নায় বসেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও গ্রেপ্তার না করা হলে তিনি অবস্থান চালিয়ে যাবেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে থানার ভেতরেই অবস্থান করেন তিনি। বিজেপি সূত্রে খবর, ঘটনার সময় পুলিশকে অভিযুক্তদের নামের তালিকাও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রবিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিরোধী দলনেতার উপর প্রকাশ্যে হামলা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নির্বিকার। এর থেকে বেশি প্রমাণ আর কী হতে পারে?”
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “এই হামলা শুধু আমার উপর নয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বিরোধী কণ্ঠের উপর আঘাত। আইনরক্ষকরাই যদি চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপির কার্যকলাপ স্তব্ধ করে দিতেই এই আক্রমণ।
এই ঘটনার পর দ্রুত নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রক ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। বিজেপির তরফে হামলার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে রাজ্য সরকারের উপর।
অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস গোটা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল, অথবা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে সহানুভূতি আদায়ের জন্য বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আইনশৃঙ্খলার নামে নাটক করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি। আগামী মঙ্গলবার দুপুর দুটো থেকে ‘চন্দ্রকোণা রোড অচল’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই আন্দোলনে সামিল হবেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন এবং জেনারেল ডায়েরির রিসিভড কপি আদালতে পেশ করবেন।
সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আগুনে ঘি ঢেলেছে। কেন্দ্র বনাম রাজ্য, শাসক বনাম বিরোধী—সব দ্বন্দ্বই এই ঘটনায় একত্রিত হয়েছে। আদৌ এটি পরিকল্পিত চক্রান্ত, নাকি রাজনৈতিক নাটক—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তে। তবে একথা স্পষ্ট, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আরও অশান্ত সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।



