Smriti Mandhana : এক সময় যাঁর কেরিয়ার ঘিরে প্রশ্নচিহ্ন উঠেছিল, আজ তিনিই বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে অনুপ্রেরণার নাম। দুঃস্বপ্নের মতো কঠিন অতীত, ব্যক্তিগত জীবনের টালমাটাল পরিস্থিতি এবং মানসিক লড়াই—সব কিছুকে পিছনে ফেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন স্মৃতি মন্ধানা। মাঠের বাইরের ঝড় সামলেও বাইশ গজে তিনি এখন আরও পরিণত, আরও দৃঢ়, আরও আগ্রাসী। একের পর এক সাফল্যে তাঁর মুকুটে যোগ হচ্ছে নতুন পালক, আর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট পাচ্ছে এক নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব।
গত কয়েক বছরে স্মৃতির জীবনে যা ঘটেছে, তা কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ওঠাপড়ার মাঝেও কখনও নিজের লক্ষ্যে চোখ সরাননি তিনি। বরং প্রতিকূলতাকেই শক্তিতে পরিণত করে মাঠে ফিরেছেন আরও ভয়ংকর রূপে। তারই ফলস্বরূপ গত বছর ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে, আর চলতি বছরে মহিলা প্রিমিয়ার লিগে স্মৃতি হয়ে উঠেছেন সাফল্যের প্রতীক।
বিবিসির বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার স্মৃতি
এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এবার আরও এক আন্তর্জাতিক সম্মান এল স্মৃতির ঝুলিতে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC তাঁকে বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এর আগে ক্রিকেটের বাইবেল হিসেবে পরিচিত Wisden-এর বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটারের সম্মান পেয়েছিলেন তিনি। এবার বিবিসির এই স্বীকৃতি তাঁর কেরিয়ারকে আরও এক ধাপ উঁচুতে তুলে দিল।
এই পুরস্কার প্রাপ্তির লড়াই মোটেই সহজ ছিল না। দেশের বিভিন্ন খেলাধুলার ক্ষেত্র থেকে উঠে আসা একাধিক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ছিল স্মৃতির। দাবা খেলোয়াড় দিব্যা দেশমুখ, শুটার সুরুচি সিং এবং হার্ডলার জ্যোতি ইয়ারাজির মতো ক্রীড়াবিদদের পিছনে ফেলে এই সম্মান ছিনিয়ে নেন তিনি। দিব্যা দেশমুখ অবশ্য ভারতের সেরা উঠতি প্রতিভার পুরস্কার জিতেছেন, আর বর্ষসেরা প্যারা অ্যাথলিট হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন প্রীতি পাল।
‘২০২৫ সাল মহিলা ক্রিকেটের জন্য বিশেষ’ – স্মৃতি
পুরস্কার গ্রহণের পর স্মৃতি মন্ধানা বলেন,
“বিবিসি’কে ধন্যবাদ আমাকে বর্ষসেরা মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য। ২০২৫ সাল মহিলা ক্রিকেটের জন্য সত্যিই বিশেষ ছিল। বিশেষ করে বছরের শেষে আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি। আমি খুশি যে সেই সাফল্যে আমার অবদান ছিল এবং ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জেতাতে পেরেছি।”
এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও দলগত অর্জনই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়।
WPL ফাইনালে ‘শো মাস্ট গো অন’
গত বছর স্মৃতি মন্ধানার উপর দিয়ে ঠিক কতটা ঝড় বয়ে গিয়েছে, তা হয়তো তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। কিন্তু জীবন তাঁকে শিখিয়েছে একটাই কথা—“শো মাস্ট গো অন।” সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে মহিলা প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে।
Women’s Premier League-এ স্মৃতি ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। Royal Challengers Bangalore দলকে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন করে শুধু ট্রফিই জেতাননি, গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও। চলতি মরশুমে ৩৭৭ রান করে তিনি অরেঞ্জ ক্যাপের মালিক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, WPL ইতিহাসে তাঁর মোট রান সংখ্যা ছুঁয়েছে ১০০০-এর গণ্ডি।
ফাইনালে ২৩ বলে অর্ধশতরান করে তিনি গড়েছেন টুর্নামেন্টের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড—যা তাঁর আক্রমণাত্মক মানসিকতারই প্রমাণ।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথে স্মৃতি
স্মৃতি মন্ধানার গল্প শুধু একজন সফল ক্রিকেটারের নয়, এটি একজন যোদ্ধার গল্প। যিনি ব্যর্থতা, মানসিক চাপ আর ব্যক্তিগত সমস্যাকে হার মানিয়ে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। আজ তিনি শুধু ভারতীয় দলের ওপেনার নন, তিনি লক্ষ লক্ষ তরুণী ক্রীড়াবিদের অনুপ্রেরণা।
দুঃস্বপ্নের অতীত ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলেছেন স্মৃতি। তাঁর ব্যাটে লেখা হচ্ছে নতুন নতুন রূপকথা, আর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট পাচ্ছে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশ্বাস।



