পৃথিবী থেকে চাঁদ, সেখান থেকে মঙ্গল পাড়ি দেওয়া যাবে এই ট্রেনে চেপেই ! শূন্য গ্র্যাভিটিতেও শরীর থাকবে চনমনে! না, শুধু ট্রেন নয়, এই দুই গ্রহতে তৈরি হবে কাঁচের শহর!যেখানে চাইলে বাস করতে পারবেন পৃথিবীর মানুষেরা! কবে থেকে শুরু হচ্ছে মহাকাশে স্থায়ী বসবাস ? ট্রেন কবে চালু হবে ?

আপনি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন, আর ঘোষণায় শোনা গেল- “নেক্সট স্টপ মঙ্গল, ভায়া চাঁদ”! অবিশ্বাস্য মনে হলেও, জাপান এমনই এক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে যা পৃথিবী থেকে চাঁদ হয়ে মঙ্গল যাওয়াকে ট্রেনে বসে সম্ভব করে তুলবে। কিটো ইউনিভার্সিটি ও কোজিমা কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ‘স্পেস এক্সপ্রেস’, একটি বিশেষ বুলেট ট্রেন যা চলবে ‘হেক্সা ট্র্যাক’-এ। পৃথিবীর ‘টেরা স্টেশন’ থেকে ছাড়বে এই ট্রেন, প্রথমে চাঁদে পৌঁছবে, সেখান থেকে যাত্রা চলবে মঙ্গল গ্রহের দিকে। যাত্রাপথে থাকবে কৃত্রিম এক জি-গ্র্যাভিটি, যাতে যাত্রীদের শরীরে শূন্য মাধ্যাকর্ষণের কোনও ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে।

শুধু ট্রেনই নয়, চাঁদ ও মঙ্গলে গড়ে তোলা হবে কাচের তৈরি বিশাল বসতি – ‘লুনা গ্লাস’ ও ‘মার্স গ্লাস’। এগুলো হবে প্রায় ১৩০০ ফুট লম্বা অট্টালিকা, যেখানে থাকবে কৃত্রিম পরিবেশ, কৃষি জমি, নদী, জলাশয়, পার্ক – যেন এক টুকরো পৃথিবী। ভেতরে থাকার জন্য কোনও স্পেস স্যুট লাগবে না, তবে বাইরে বেরোতে হলে স্যুট পরতে হবে। এই কলোনিতে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীরের হাড় ও পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া রোধ করা হবে, যা মহাকাশে বসবাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মহাকাশে চলমান ট্রেনের কামরা তৈরি হবে ‘হেক্সা ক্যাপসুল’ প্রযুক্তিতে এবং চলবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেমে। যাত্রার সময় ট্রেনের ভারসাম্য বজায় রেখে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পরিকল্পনা হল ২০৫০ সালের মধ্যে এর প্রোটোটাইপ তৈরি করা, যদিও সম্পূর্ণ রূপ পেতে এক শতাব্দী পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এই পুরো প্রকল্প শুধু প্রযুক্তিগত কীর্তিই নয়, বরং মানব সভ্যতার এক নতুন অধ্যায়। বর্তমানে যেখানে আমেরিকা চাঁদে ফেরার চেষ্টা করছে, চিন মঙ্গল অভিযান চালাচ্ছে, রাশিয়া ও চিন যৌথ চন্দ্র মিশনের পরিকল্পনা করছে – সেখানে জাপানের এই উদ্যোগ মহাকাশ দৌড়ে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, ২১ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু হয়ে যাবে, আর সেই যাত্রার প্রথম টিকিট হয়তো পাওয়া যাবে এই বুলেট ট্রেনেই।



