Surya Kumar Yadav : ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা, আলাদা আবেগ। আর সেই মঞ্চে যদি বিশ্বকাপের লড়াই হয়, তাহলে উত্তাপ পৌঁছে যায় চরমে। ঠিক তেমনই এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব ১৫ ফেব্রুয়ারি। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানকে একেবারে ধরাশায়ী করে দিল ভারত। শুধু জয় নয়, এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়ে ফেলল টিম ইন্ডিয়া। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে দেয় ভারত। টি-২০ ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রানের হিসেবে এটাই ভারতের সবচেয়ে বড় জয়। এমন কীর্তি এর আগে কখনও গড়তে পারেননি প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি বা বর্তমান যুগের সফল নেতা রোহিত শর্মা। ফলে সূর্যকুমারের নেতৃত্বে এই জয় ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করল।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রানের পাহাড় ভারতের
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। উইকেট যে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক, সেটা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। যদিও ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন ঈশান কিষান। একপ্রান্ত আগলে রেখে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তিনি ম্যাচের রাশ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন। তাঁর ইনিংস ভারতকে শুধু বড় স্কোরই দেয়নি, পাকিস্তানি বোলারদের আত্মবিশ্বাসও ভেঙে দেয়। মিডল অর্ডারে দ্রুত রান তোলেন সূর্যকুমার যাদব নিজেও। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ভারত তোলে বিশাল রান, যা তাড়া করা যে কোনও দলের পক্ষেই কঠিন।
ভারতীয় বোলারদের গর্জনে ধসে পাকিস্তান
রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ভারতীয় পেসার ও স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচ কার্যত ভারতের পকেটে চলে আসে।
মাঝের ওভারে স্পিনাররা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি ভেঙে দেন। শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা হলেও, সেটা বড় ব্যবধানের হার এড়াতে পারেনি। নির্ধারিত ওভারের অনেক আগেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। স্কোরবোর্ডে ব্যবধান দাঁড়ায় ৬১ রান।
সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভাঙল পুরনো সব রেকর্ড
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি-২০ ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়ের রেকর্ড তৈরি হল। এর আগে ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে বড় জয় ছিল ১১ রানে।
২০০৭ সালে জয় এসেছিল মাত্র ৫ রানে, আর ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ৬ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ভারত। কিন্তু এবার সূর্যকুমারের নেতৃত্বে সেই সব রেকর্ড এক লাফে ছাপিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
এদিকে, টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাকিস্তানের এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম হার। এর আগে ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৮৪ রানে হেরেছিল তারা। এছাড়া ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৮ রানে হারও ছিল স্মরণীয়। ভারতের বিরুদ্ধে এই ৬১ রানের পরাজয় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম লজ্জার অধ্যায় হিসেবেই ধরা থাকবে।
ম্যাচ শেষে কী বললেন সূর্যকুমার যাদব?
ঐতিহাসিক জয়ের পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন,
“এই জয় শুধু দলের নয়, গোটা ভারতের। আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিলাম, সেটাই মাঠে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। এই উইকেটে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তটা একেবারে সঠিক ছিল। শূন্য রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর কাউকে দায়িত্ব নিতে হত। ঈশান সেটা যেভাবে করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ।”
তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই জয়ের পেছনে ছিল দলগত প্রচেষ্টা এবং সঠিক পরিকল্পনা।
সুপার এইটে ভারতের দাপুটে প্রবেশ
এই জয়ের ফলে ভারত শুধু পাকিস্তানকে হারিয়েই থামেনি, নিশ্চিত করেছে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে নিজেদের জায়গা। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে টিম ইন্ডিয়া। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত এখন আরও আগ্রাসী ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এমন একতরফা দাপট দীর্ঘদিন মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব। আর এই ম্যাচ হয়তো ভবিষ্যতে পরিচিত হবে—“সূর্যকুমারের ঐতিহাসিক ম্যাচ” হিসেবেই।



