Social Media Platforms ban in India : ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ কি সত্যিই অনিশ্চয়তার মুখে? সাম্প্রতিক সময়ে এমনই এক প্রশ্ন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। কারণ—যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর কঠোর কোনও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন? যদি হঠাৎ করেই ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য বন্ধ হয়ে যায় Facebook, Instagram, Google, X (Twitter) কিংবা ChatGPT-এর মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম? এমন পরিস্থিতিতে ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি, প্রশাসনিক পরিকাঠামো ও সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন কতটা বিপর্যস্ত হতে পারে—তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এই বিতর্কের সূত্রপাত শিল্পপতি হর্ষ গোয়েন্কার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—ভারত যদি কোনও কারণে মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে না পারে, তবে দেশ হিসেবে ভারতের ‘প্ল্যান বি’ কী? তাঁর মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র কল্পনাপ্রসূত আশঙ্কা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুতর সতর্ক সংকেত।
বর্তমানে ভারতের স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেম প্রায় সম্পূর্ণভাবেই নির্ভরশীল দুটি অপারেটিং সিস্টেমের উপর—অ্যান্ড্রয়েড এবং iOS। এই দুই প্রযুক্তির মালিকানাই আমেরিকান সংস্থার হাতে। শুধু তাই নয়, Facebook ও Instagram সামাজিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, Google ছাড়া সার্চ ও ই-মেল কার্যত অচল, X রাজনৈতিক মতপ্রকাশের বড় প্ল্যাটফর্ম এবং ChatGPT ক্রমশ শিক্ষা, গবেষণা ও কনটেন্ট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর আচমকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে কী হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে—
- ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন ব্যবসার উপর
- সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট ইকোনমির উপর
- শিক্ষা, স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের উপর
- সরকারি ডিজিটাল পরিষেবা ও জনসংযোগ ব্যবস্থার উপর
অর্থাৎ, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি কার্যত স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।
হর্ষ গোয়েন্কা তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন,
“কল্পনা করুন, যদি ট্রাম্প একদিন সিদ্ধান্ত নেন—ভারতে মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাবে না। Google, Facebook, Instagram, X কিংবা ChatGPT—কিছুই নয়। তখন আমাদের প্রস্তুতি কী?”
এই প্রশ্ন ঘিরেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে চর্চা। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বাড়লে এই ধরনের কড়া সিদ্ধান্ত অসম্ভব নয়।
কারণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারতের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন বলে দাবি উঠেছে। এর ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের রফতানি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, ক্ষতির মুখে পড়ছেন বহু উৎপাদক। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের ধারণা—নিজের দেশের ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট রাখতে ট্রাম্প ভবিষ্যতে ভারতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প পথ কী?
এই প্রসঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতের অন্যতম প্রযুক্তি সংস্থা জ়োহোর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। তাঁর মতে, সমস্যাটি কেবল অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অপারেটিং সিস্টেম, সেমিকন্ডাক্টর চিপ, ক্লাউড পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই ভারতের নির্ভরতা বিদেশি সংস্থার উপর অত্যধিক।
ভেম্বু প্রস্তাব দিয়েছেন,
👉 ‘প্রযুক্তিগত স্থিতিস্থাপকতার জন্য ১০ বছরের জাতীয় মিশন’
তিনি বলেন,
“আমাদের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে চিপ ডিজাইন—সব ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।”
এই বক্তব্যের পর নেটাগরিকদের একাংশ মনে করছেন—প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এখন ভারতের কাছে বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। যেমনভাবে প্রতিরক্ষা বা শক্তি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা জরুরি, তেমনই ডিজিটাল সার্বভৌমত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—
👉 ভারত কি ভবিষ্যতের ডিজিটাল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত?
👉 মার্কিন প্রযুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা এলে ভারতের ‘প্ল্যান বি’ আদৌ আছে কি?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজাই এখন ভারতের ডিজিটাল ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



