Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমোদীকে সঙ্গে নিয়ে সুপারক্লাব গড়তে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প ! থাকবে চিন, রাশিয়াও...

মোদীকে সঙ্গে নিয়ে সুপারক্লাব গড়তে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প ! থাকবে চিন, রাশিয়াও !

Trump Modi Superclub Global Politics :বিশ্ব রাজনীতিতে কি নতুন কোনও শক্তিকেন্দ্র গঠনের পথে হাঁটছে আমেরিকা? আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন একটি ‘সুপারক্লাব’ বা শক্তিশালী রাষ্ট্রগোষ্ঠী গঠনের জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আর এই সম্ভাব্য গোষ্ঠীর কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সঙ্গে থাকতে পারে চিন, রাশিয়া ও জাপানের মতো বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তিধর দেশগুলি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি দীর্ঘ ফোনালাপ হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। এই কথোপকথনে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও ফোনালাপের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আনা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি—এই আলোচনাই নতুন এক ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ফোনালাপে উভয় নেতা একমত হয়েছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শক্তি নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটির মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি গভীর হয়েছে। বিশেষ করে COMPACT উদ্যোগের আওতায় ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি, ক্লিন এনার্জি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে ফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই ফোনালাপের পরই আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে পড়ে জল্পনা—ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি নরেন্দ্র মোদিকে সঙ্গে রেখেই একটি নতুন ‘সুপারক্লাব’ গড়তে চাইছেন। এই সম্ভাব্য জোটে ভারত ছাড়াও থাকতে পারে রাশিয়া, চিন এবং জাপান। পাঁচটি দেশের এই গোষ্ঠীকে ঘিরে নামও শোনা যাচ্ছে—‘সি-ফাইভ’ বা ‘কোর ফাইভ’। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও দেশই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট থেকেই এই জল্পনার সূত্রপাত। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট হিসেবে পরিচিত ‘জি৭’-এর প্রভাব কমাতেই বিকল্প শক্তিকেন্দ্র গঠনের ভাবনা সামনে আনতে পারেন ট্রাম্প।

এই সম্ভাব্য ‘পঞ্চঅক্ষ’-এর দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—এখানে নেই পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তান ইস্যুতে আমেরিকার অবস্থান ঘিরে ভারত–মার্কিন সম্পর্ক মাঝে মাঝে অস্বস্তির মুখে পড়লেও, এই জল্পনায় পাকিস্তানের অনুপস্থিতি নতুন বার্তা দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ট্রাম্পের ফোনালাপের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি বার্তা পোস্ট করেন মোদি। সেখানে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতি, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে যৌথ ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছি।” তবে এই আলোচনায় ‘সি-ফাইভ’ বা নতুন কোনও জোটের প্রসঙ্গ উঠেছিল কি না, তা নিয়ে দুই দেশই নীরব।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত, চিন, রাশিয়া ও জাপানের সঙ্গে আমেরিকার এমন একটি সমন্বয় বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই চার শক্তির অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা একত্রিত হলে তা পশ্চিমি বিশ্বের প্রচলিত শক্তিসমীকরণে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।

বিশেষ করে ভারতের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ভারত যেমন পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছে, তেমনই অন্যদিকে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখছে। এই কৌশলগত অবস্থানই হয়তো ট্রাম্পকে ভারতের দিকে আরও বেশি করে টানছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সব মিলিয়ে, ‘সুপারক্লাব’ বা ‘কোর ফাইভ’ এখনই বাস্তব রূপ নেবে কি না, তা বলা কঠিন। তবে এই জল্পনা যে বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে সম্ভাব্য বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি যেমন সুযোগের, তেমনই কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জেরও—এমনটাই মত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments