Tumpa Das Story : পাঁচ হাজার টাকার জন্য এমন একটা পেশা ? সংসারের খরচ চালাতে এক অভাবনীয় চাকরি করছেন টুম্পা ! সামান্য কটা টাকার জন্য এমনটা করার ক্ষমতা বোধহয় খুব কম মানুষের-ই আছে ! আগে আর কোনো মহিলাকে এমন কাজ করতে দেখা যায়নি! জানেন, কি কাজ করেন টুম্পা ? কেনই-বা এমন একটা চাকরি বেছে নিতে হল তাকে ? গল্পটা সত্যিই অনুপ্রেরণা দেবে আপনাদের……
সংসারের খরচ চালাতে এক নারী বেছে নিলেন অপ্রত্যাশিত পথ। কেউ ভাবতেই পারতেন না যে এত সাধারণ একটি জীবনে, হঠাৎ করেই এমন একটি অনন্য পেশা বেছে নেওয়া সম্ভব। টুম্পা দাসের জীবনে একদিন সব কিছু থেমে গিয়েছিল, আর ঠিক তখনই তিনি এমন একটি পথ বেছে নেন যা সবাইকে হতবাক করে দেয়। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের বোঝা একাই কাঁধে তুলে নেন টুম্পা। সেই সময় কেউ ভাবতেও পারত না, এই মেয়েটি কি সত্যিই সেই কাজ করতে পারবে যা সাধারণ মানুষের চোখে অদ্ভুত মনে হতে পারে।

দেশের প্রথম মহিলা ডোম হিসেবে টুম্পা দাসের পরিচয় এখন মানুষের মুখে মুখে ঘুরে। মরা দেহের পরিচর্যা থেকে দাহ পর্যন্ত সব কাজ এখন তাঁর একার হাতে সম্পন্ন হয়। শুরুটা ছিল একেবারেই সহজ নয়। পরিবারের সদস্যরাও প্রথমে চমকে গিয়েছিলেন, “মেয়েটি কি সত্যিই মরা মানুষের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ কাজ করবে?” কিন্তু টুম্পার অদম্য জেদ এবং সাহস সব বাধা পেরিয়ে যায়। তিনি জানতেন, এই পথই একমাত্র উপায় তাঁর ভাই-বোনের পড়াশোনা চালানো এবং পরিবারের খরচ সামলানো।
বাবার মৃত্যুর পর একাই কাঁধে নিলেন সমস্ত দায়িত্ব। শুরু করেছিলেন কাঠের চুল্লিতে কাজ করে। এরপর ২০১৯ সাল থেকে ইলেকট্রিক চুল্লিতে দায়িত্ব পালন করছেন। সকালে ৮টা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত শ্মশানে একা কাজ করা, মৃতদেহ নথিভুক্ত করা, চুল্লিতে ঢোকানো – সবটাই টুম্পার হাতে। প্রতিদিন যে ঝুঁকি এবং চাপ সামলান, তা সহজভাবে বোঝা যায় না। অনেক সময় পরিবার ও আশেপাশের মানুষ তাঁদের কাজ নিয়ে সন্দেহ বা ভয় দেখাতেও দ্বিধা করেনি। কিন্তু টুম্পা থেমে থাকেননি।

আর কি অদ্ভুত কাজ বেছে নিলেন সাহসী টুম্পা? মনে হতে পারে, এত ভয়ঙ্কর পেশা শুধুই সাহসিকতা নয়, এটি এক ধরনের সমাজের জন্য অবদানও। এই কাজের মাধ্যমে তিনি শুধু সংসারের খরচ চালাচ্ছেন না, বরং সমাজের এক অদেখা পরিষেবা দিচ্ছেন। অনেক সময় মৃতদেহের পরিবার তাঁকে বকসিস দেয়, তবে কাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা এবং সততা সব সময়ই তার মূল শক্তি।
পাঁচ হাজার টাকার বেতনের জন্য কি সত্যিই এত সাহসী হতে হয়? টুম্পা প্রমাণ করেছেন, মানুষের জীবনে সাহস ও দায়িত্বের মিশ্রণ কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ২৯ বছর বয়সে এই কাজকে বেছে নেওয়া, নিজের জেদ এবং স্বাধীনতার ইচ্ছার প্রমাণ। বিয়ের জন্য অনেক প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু তাঁর শর্ত একটাই – যিনি তাঁকে ভালোবেসে গ্রহণ করবেন, শুধু সেই ব্যক্তি তার সঙ্গে বিয়ে করবেন। নিজের পরিচিতি এবং সম্মানকে বিসর্জন দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
টুম্পা দাসের এই গল্প শুধু এক নারীর সাহসের নয়, বরং সমাজে নারীর অদেখা অবদান ও স্বাধীনতার এক নিদর্শন। পুরন্দরপুর থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে এমন নারীরা নিঃশব্দে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন, এবং তাঁরা প্রমাণ করছেন – নারী শক্তি শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও এক অনন্য উপহার।



