চলতি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে শুরু থেকেই নিজেদের শক্তি ও ধারাবাহিকতার পরিচয় দিচ্ছে ভারতীয় যুব দল। সিনিয়র দলের মতোই জুনিয়র স্তরেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা, আলাদা চাপ। কিন্তু সেই সমস্ত সমীকরণকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে কার্যত একতরফা লড়াইয়ে ৯৯ রানে পরাজিত করল ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু পয়েন্ট টেবিলে নয়, মানসিক দিক থেকেও বড়সড় বার্তা দিল টিম ইন্ডিয়া।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর ভারতীয় দল এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও একই দাপট দেখাল। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ৪৬.১ ওভারে ২৪০ রান সংগ্রহ করে। লক্ষ্য যদিও খুব বড় ছিল না, তবে ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারল না পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাক দল মাত্র ১৫০ রানে অলআউট হয়ে যায়।
শুরুটা ধাক্কা হলেও ঘুরে দাঁড়ায় ভারত
ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই প্রথম উইকেট হারায় দল। প্রতিভাবান ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী এই ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তিনি মাত্র ৫ রান করে পাকিস্তানের বোলার মহম্মদ সায়ামের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফিরে যান। এই ধাক্কার পর ভারতের ইনিংস কিছুটা হলেও চাপে পড়ে যায়।
তবে সেই চাপ সামাল দেন আয়ুশ মাহাত্রে ও অ্যারন জর্জ। দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটি ৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। আয়ুশ মাহাত্রে আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে ২৫ বলে ৩৮ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। তবে তিনিও সায়ামের শিকার হন, যা পাকিস্তানের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।

মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা, ফের চাপ
আয়ুশের আউটের পর ভারতীয় মিডল অর্ডার খুব একটা দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি। বিহান মালহোত্রা মাত্র ১২ রান করে ফিরে যান। বেদান্ত ত্রিবেদী করেন ৭ রান। বেদান্তের উইকেট পড়ার সময় ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১১৩/৪। এই পর্যায়ে ফের একবার মনে হচ্ছিল, ভারত হয়তো বড় স্কোর গড়তে পারবে না।
জর্জ–কুন্ডুর জুটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়
কিন্তু এরপরই দৃশ্যপট বদলে দেন অ্যারন জর্জ ও অভিজ্ঞান কুন্ডু। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ৬০ রানের জুটি ভারতীয় ইনিংসকে আবার স্থিতিশীল করে তোলে। অ্যারন জর্জ ছিলেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তিনি ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন এবং প্রয়োজনমতো আক্রমণও করেন। ৫৭ বলে আটটি চারের সাহায্যে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন জর্জ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই ওভারে আব্দুল সুবহানের বলে জর্জ ও কুন্ডু দুজনেই আউট হয়ে যান। তবে ততক্ষণে ম্যাচের রাশ অনেকটাই ভারতের হাতে। অ্যারন জর্জ ৮৮ বলে ৮৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১২টি চার ও একটি ছক্কা। অভিজ্ঞান কুন্ডু ২২ রান করে আউট হন।
কনিষ্ক চৌহানের কার্যকরী ইনিংস
শেষদিকে ব্যাট করতে নেমে কনিষ্ক চৌহান দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তিনি ৪৬ রান করে দলের স্কোর ২৪০ পর্যন্ত পৌঁছে দেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। কনিষ্কের এই ইনিংসই পাকিস্তানের সামনে সম্মানজনক লক্ষ্য দাঁড় করাতে বড় ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে খিলান প্যাটেল (৬), হেনিল প্যাটেল (১২) ও দীপেশ দেবেন্দ্রন (১) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে ব্যর্থ হন।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস
২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে পাক ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেয়। কোনও জুটিই বড় হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান, ফলে ৯৯ রানের বিশাল জয় নিশ্চিত করে ভারত।
ভবিষ্যতের জন্য বড় ইঙ্গিত
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তিশালী ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও বহন করে। অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, ভারতীয় ক্রিকেটের পাইপলাইন কতটা সমৃদ্ধ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এই দাপুটে জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে দলকে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ভারতের দাবিকে আরও জোরালো করবে।



