Vaibhav Suryabanshi : মাত্র ১৪ বছর বয়সেই যে ক্রিকেটার গোটা দেশের নজর কেড়েছে, সেই বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে হঠাৎই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও জল্পনা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তার চোখধাঁধানো ব্যাটিং দেখেই প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি সত্যিই শেষবার? এত কম বয়সে শুরু হলেও কি আর কখনও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দেখা যাবে না বৈভবকে? নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও বড় ষড়যন্ত্র?
প্রথম নজরে বিষয়টি অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে। কারণ বৈভবের বয়স মাত্র ১৪। সাধারণ হিসেব বলছে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ যেহেতু দুই বছর অন্তর হয়, তাই তার সামনে আরও অন্তত দু’বার এই বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক তার উল্টো। এই বিশ্বকাপ শেষ হলেই অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে তার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
কেন শেষ হয়ে যাচ্ছে বৈভবের অনূর্ধ্ব-১৯ যাত্রা?
এর নেপথ্যে কোনও গোপন ষড়যন্ত্র বা বয়স বিতর্ক নয়, বরং রয়েছে বিসিসিআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। ২০১৬ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একটি নীতি চালু করে, যেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—কোনও ক্রিকেটার একবারের বেশি ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন না। বয়সের যোগ্যতা থাকলেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নেই।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ভারতের তৎকালীন অনূর্ধ্ব-১৯ কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের পরিকল্পনায়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—একই ক্রিকেটারকে বারবার সুযোগ না দিয়ে দেশের আরও বেশি প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে আনা। একই সঙ্গে বেশি সংখ্যক তরুণকে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা দেওয়া।
এই নিয়মই এখন বৈভব সূর্যবংশীর সামনে সবচেয়ে বড় বাধা। তার প্রতিভা, বয়স বা পারফরম্যান্স নয়—শুধুমাত্র নিয়মের কারণেই এই বিশ্বকাপই তার প্রথম এবং শেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ।
আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা
বৈভবই প্রথম নন, যিনি এই নিয়মের কারণে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছেন। ২০১৮ সালে বয়সের নিরিখে যোগ্য হয়েও ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি ওয়াশিংটন সুন্দর এবং মহিপাল লোমরোর। তাঁরা দু’জনেই সেই সময় দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। তবুও নিয়মের বেড়াজালে পড়ে বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, এই নিয়ম চালু হওয়ার আগের প্রজন্মের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন ছবি। রবীন্দ্র জাদেজা, রিকি ভুঁই বা মনোজ তিওয়ারির মতো ক্রিকেটাররা একাধিক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই সময় কোনও সীমাবদ্ধতা ছিল না।
বৈভবকে ঘিরে উত্তেজনা কেন এত বেশি?
এর কারণ একটাই—বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা। এত অল্প বয়সে যে পরিণত ব্যাটিং, শক্তিশালী শট নির্বাচন এবং মানসিক দৃঢ়তা সে দেখিয়েছে, তা খুব কম ক্রিকেটারের মধ্যেই দেখা যায়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশ।
এই কারণেই অনেকের মনে প্রশ্ন—এত প্রতিভাবান একজন ক্রিকেটারের জন্য কি এই নিয়ম বদলানো উচিত? নাকি দীর্ঘমেয়াদে তার ক্যারিয়ারের জন্য এই সিদ্ধান্তই সঠিক?
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সূচি ও ভারতের পথচলা
চলতি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, ভারত বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ দিয়ে। খেলা হবে জিম্বাবোয়ের বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব স্টেডিয়ামে। হারারে এবং বুলাওয়ের মোট তিনটি মাঠে আয়োজিত হবে এই টুর্নামেন্ট।
ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচ ১৭ জানুয়ারি, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৪ জানুয়ারি ভারতের সামনে থাকবে নিউজিল্যান্ড। এরপর সুপার সিক্স, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ট্রফি জয়ের লড়াই।
এই বিশ্বকাপে আয়ুষ মাত্রের নেতৃত্বে ভারত কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার। তবে সবকিছুর মাঝেই আলাদা করে নজর থাকবে বৈভব সূর্যবংশীর উপর—কারণ এটাই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তার একমাত্র অধ্যায়।
শেষ কথা
এটা ষড়যন্ত্র নয়, এটা নিয়ম। কিন্তু নিয়মের কারণেই বৈভব সূর্যবংশীর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ যাত্রা এত দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা মানতে কষ্ট হচ্ছে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীরই। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস বলে—অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শেষ নয়, বরং শুরু মাত্র।
যুবরাজ সিং, বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারাও এই মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছিলেন। বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা যদি সেই ধারাই বজায় রাখতে পারে, তাহলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ হয়তো শেষ, কিন্তু তার আসল গল্পটা শুরু হবে আরও বড় মঞ্চে।



