অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে এককথায় তাণ্ডব চালালেন ভারতের কিশোর প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এমন এক বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দিলেন তিনি, যা দেখে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। মাঠজুড়ে চার-ছক্কার ঝড় তুলে বৈভব প্রমাণ করে দিলেন—ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল হতে চলেছে।
আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ভারতকে ৩১১ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য দিয়েছিল। এত বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে থাকার কথা ছিল ভারতীয় দলের। কিন্তু ওপেনিংয়ে নামা বৈভব সূর্যবংশী যেন সব হিসেব উল্টে দিলেন। শুরুতে কয়েকটি বল দেখে-শুনে খেললেও, একবার চোখ সেট হয়ে যাওয়ার পর আফগান বোলারদের উপর কার্যত ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেন এই কিশোর ব্যাটার।
মাত্র ২৪ বলেই নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বৈভব। তাঁর ব্যাট থেকে বেরোতে থাকে একের পর এক আগ্রাসী শট। অফসাইড, অনসাইড, কভার, মিডউইকেট—মাঠের এমন কোনও জায়গা ছিল না, যেখানে তাঁর ব্যাটের দাপট পড়েনি। ৩৩ বল খেলে শেষ পর্যন্ত তিনি করেন ৬৮ রান। এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ৪টি বিশাল ছক্কা। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁর মোট রানের মধ্যে ৬০ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে—যা তাঁর আক্রমণাত্মক মানসিকতার স্পষ্ট প্রমাণ।
অ্যারন জর্জের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ৯.৩ ওভারে ৯০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। এই জুটি ভারতের রান তাড়া করার ভিতটা শক্ত করে দেয়। বৈভব যখন আউট হন, তখনও ভারতের ইনিংস ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। শেষ পর্যন্ত নুরিস্তানি ওমরজ়াই তাঁর ইনিংসে ইতি টানলেও, ততক্ষণে ম্যাচের মোড় অনেকটাই ঘুরে গিয়েছে।
এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে আফগানিস্তান টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকে তারা। ওপেনিং জুটিতে উসমান সাদাত ও খালিদের মধ্যে ৫৩ রানের জুটি তৈরি হয়। খালিদ ৩১ রান করে আউট হলেও, উসমান কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যান এবং ৩৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
এরপর ক্রিজে এসে আফগান ইনিংসের রাশ ধরেন ফয়জ়ল ও উজেইরুল্লাহ। এই দুই ব্যাটারের জুটিতেই কার্যত ভারতীয় বোলিং আক্রমণ চাপে পড়ে যায়। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের মধ্যে ১৪৮ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। ফয়জ়ল ৯৩ বল খেলে ১৫টি চারের সাহায্যে ১১০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তিনি আউট হয়ে গেলেও, উজেইরুল্লাহ থামেননি।
উজেইরুল্লাহ শেষ পর্যন্ত ৮৬ বলে অপরাজিত ১০১ রান করে আফগানিস্তানকে ৩০০ রানের গণ্ডি পার করান। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার এবং ২টি ছক্কা। এই দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই আফগানিস্তান ৩১১ রানের লড়াইযোগ্য স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
তবে ম্যাচের আসল আকর্ষণ হয়ে থাকলেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন আত্মবিশ্বাসী, পরিণত এবং বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও রীতিমতো মুগ্ধ। অনেকেই ইতিমধ্যেই তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের “আগামী দিনের সুপারস্টার” হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
সব মিলিয়ে, এই সেমিফাইনাল ম্যাচ শুধু ভারতের জয়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপই নয়, বরং বৈভব সূর্যবংশীর মতো এক প্রতিভার আগমনী বার্তা হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁর ব্যাটিং যে আফগানিস্তানকে কার্যত ‘আউট অফ কন্ট্রোল’ করে দিয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য।



