Heatwave West Bengal : শীত বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই, তবে ভোরের দিকে এখনও হালকা ঠান্ডার আমেজ টের পাচ্ছেন রাজ্যবাসী। কিন্তু বেলা যত গড়াচ্ছে, ততই যেন আগুন ঝরাচ্ছে সূর্য। ফাল্গুনের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা। আবহবিদদের আশঙ্কা, এই ধারা বজায় থাকলে মার্চের শুরুতেই পারদ ৪০ ডিগ্রির ঘরে ঢুকে পড়তে পারে, আর এপ্রিল–মে মাসে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবছরের গরম শুধু অস্বস্তিকরই নয়, হতে পারে প্রাণঘাতীও—যদি আগেভাগে সতর্ক না হওয়া যায়।
ফাল্গুনেই ‘হিট মোড’-এ বাংলা
বুধবার কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। পুরুলিয়া, জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলিতে দিনের তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩২ ডিগ্রির কাছাকাছি। বাগডোগরায় পারদ ছুঁয়েছে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই পরিসংখ্যান দেখে আবহাওয়াবিদদের একাংশ বলছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকেই যে গরমের দাপট শুরু হয়ে গিয়েছে, তা আগামী দিনে আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। মার্চের শুরুতেই ৪০ ডিগ্রির তাপমাত্রা বাংলার পক্ষে স্বাভাবিক নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর কী জানাচ্ছে?
India Meteorological Department-এর অধীন আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন না হলেও, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে তা বাড়তে শুরু করবে। শুক্রবার থেকে পরবর্তী চার দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধাপে ধাপে ২–৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে আগামী সাত দিন তাপমাত্রার বিশেষ হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সকালের দিকে কিছু জেলায় কুয়াশার প্রভাব থাকতে পারে।
উত্তরবঙ্গে কুয়াশা, দক্ষিণে শুষ্ক আবহাওয়া
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের এক বা দুইটি অংশে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এই কুয়াশা মূলত ভোরের দিকেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় আবহাওয়া মূলত শুষ্কই থাকবে। অর্থাৎ আপাতত বৃষ্টির তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, তবে স্বস্তি ক্ষণস্থায়ী
এদিকে Bay of Bengal-এর উপর একটি নিম্নচাপ অঞ্চল শক্তি বৃদ্ধি করছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী দিনে কোথাও কোথাও ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আবহবিদদের মতে, এই বৃষ্টি গরম থেকে বিশেষ স্বস্তি দেবে না।
বরং বৃষ্টির পর আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। কলকাতা ও আশপাশের অঞ্চলে এই ‘আর্দ্র গরম’ই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে কী?
বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৪ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৪ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৩ ডিগ্রি কম।
বৃহস্পতিবারও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় একই স্তরে থাকার সম্ভাবনা। তবে আবহবিদদের মতে, মার্চের শেষ দিক ও এপ্রিলের শুরুতে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে এবং ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি অনায়াসেই ছুঁয়ে ফেলতে পারে।
৪৫–৫০ ডিগ্রির আশঙ্কা কতটা বাস্তব?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ হলে, কিছু অঞ্চলে অনুভূত তাপমাত্রা (Feels Like Temperature) ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন ও অন্যান্য গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়বে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ক্ষেত্রে বিপদ সবচেয়ে বেশি।
কী সতর্কতা নেওয়া জরুরি?
✔ দুপুরের রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন
✔ পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার খান
✔ হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন
✔ মাথা ঢেকে বাইরে বেরোন
✔ অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
আবহবিদদের স্পষ্ট বার্তা—এবারের গরমকে হালকাভাবে নিলে বিপদ ডেকে আনতে পারে। এখন থেকেই সতর্ক না হলে প্রাণনাশের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।



