Wednesday, March 4, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটযুবসাথীর লাইনে ৬০ বছরের প্রবীণ ! নিয়মের বাইরে কেন দাঁড়ালেন বৃদ্ধ, শুনলে...

যুবসাথীর লাইনে ৬০ বছরের প্রবীণ ! নিয়মের বাইরে কেন দাঁড়ালেন বৃদ্ধ, শুনলে ভাবতে বাধ্য হবেন

Yuva Sathi Scheme : নামেই স্পষ্ট—‘যুবসাথী’ প্রকল্প। রাজ্য সরকারের এই বেকার ভাতা প্রকল্প শুধুমাত্র ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য। অথচ রাজ্যের একাধিক যুবসাথী ক্যাম্পে দেখা গেল এক অদ্ভুত ছবি। লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক প্রবীণ নাগরিক। দৃশ্যটি সামনে আসতেই শুরু হয় প্রশ্ন—তাহলে কি নিয়মে ফাঁক রয়েছে? নাকি প্রশাসনিক কোনও ব্যতিক্রম?

সংবাদমাধ্যম ওই প্রবীণের সঙ্গে কথা বলতেই সামনে এল এক বাস্তব ও ভাবনার মতো গল্প, যা রাজ্যের বর্তমান বেকার সমস্যার গভীরতাকেই তুলে ধরছে।


রাজ্যজুড়ে শুরু যুবসাথী আবেদন, ভিড় ক্যাম্পে ক্যাম্পে

রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হয়েছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজ্যের শিক্ষিত অথচ কর্মহীন যুবসমাজকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা দিতেই এই উদ্যোগ।

এর আগে রাজ্যে ‘যুবশ্রী’ প্রকল্প চালু থাকলেও, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে যুবকদের মন জয়ের লক্ষ্যেই নতুনভাবে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সূচনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্পে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমা নেওয়া হচ্ছে আবেদনপত্র।


ক্যাম্পে ক্যাম্পে ভিড়, চোখে পড়ছে নানা বাস্তব ছবি

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ক্যাম্পগুলিতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কেউ এসেছেন নিজের জন্য, কেউ বা পরিবারের সদস্যের জন্য। বহু যুবক-যুবতী রয়েছেন, যাঁরা বছরের পর বছর চাকরির পরীক্ষায় বসেও সফল হননি। তাঁদের মুখে হতাশা, আবার কোথাও চোখে পড়ছে শেষ ভরসার আশাও।

কিছু ক্যাম্পে দেখা যাচ্ছে বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তানের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কোথাও আবার স্ত্রী এসেছেন বেকার স্বামীর আবেদন করতে। এমনই এক ক্যাম্পে নজর কাড়ে এক প্রবীণ নাগরিকের উপস্থিতি।


৬০ বছরের বৃদ্ধ কেন যুবসাথীর লাইনে?

দক্ষিণ কলকাতার কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের যুবসাথী ক্যাম্পে দেখা গেল এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিকে। প্রথম দেখায় অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি বুঝি নিজের জন্য আবেদন করতে এসেছেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁর ৩৪ বছর বয়সী ছেলের জন্য।

প্রবীণের কথায়,
“ছেলে পড়াশোনা করেছে, কিন্তু আজও তার কোনও স্থায়ী চাকরি নেই। বহু পরীক্ষায় বসেছে, কোথাও সফল হতে পারেনি। তাই ভাবলাম, অন্তত এই ভাতাটা পেলে সংসারের একটু উপকার হবে।”

৩৪ বছর বয়সেও একজন যুবক বেকার—এই বাস্তবতা শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, বরং রাজ্যের হাজার হাজার পরিবারের চিত্র। প্রবীণ বাবার চোখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা—দেড় হাজার টাকা মাসে আদৌ কতটা সাহায্য করবে? তবুও সেটাই এখন একমাত্র ভরসা।


নিয়ম কী বলছে? প্রশাসনের ব্যাখ্যা

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বেকার যুবক বা যুবতীর নামেই জমা দিতে হবে। তবে আবেদনপত্র সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য উপস্থিত থাকতে পারেন। সেই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে।

অর্থাৎ, ৬০ বছরের ওই প্রবীণ কোনওভাবেই নিয়ম ভাঙেননি। তিনি কেবল তাঁর ছেলের হয়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছিলেন।


বিতর্কের মাঝেই যুবসাথী প্রকল্প

শুরু থেকেই যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রথমে অগস্ট মাস থেকে এই প্রকল্প চালুর কথা বলা হলেও, পরে তা এগিয়ে এনে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে পরিষেবা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। সেই কারণেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই তড়িঘড়ি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের একাংশের মতে, মাসে দেড় হাজার টাকা বেকার সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা সাময়িক স্বস্তি মাত্র। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, অন্তত ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে যুবসমাজকে পাশে রাখাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

এই প্রকল্পের মুখ্য সমর্থক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, “যতদিন না কাজ, ততদিন রাজ্য পাশে থাকবে।”


যুবসাথীর লাইনের সেই ছবি কী বার্তা দিচ্ছে?

যুবসাথীর লাইনে ৬০ বছরের এক প্রবীণের দাঁড়িয়ে থাকা নিছক কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। বরং তা রাজ্যের কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্রকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। যেখানে যুবকের চাকরি নেই, সেখানে বৃদ্ধ বাবা-মাকেই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে।

এই ছবি প্রশ্ন তোলে—দেড় হাজার টাকার ভাতা কি সত্যিই যুবসমাজের ভবিষ্যৎ বদলাতে পারবে? নাকি এটি শুধুই নির্বাচনের আগে এক রাজনৈতিক কৌশল? উত্তর দেবে সময়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments