Wednesday, March 4, 2026
Google search engine
Homeরাজ্যপাটবেকার হলেও যুবসাথী পাবেন না এই যুবক–যুবতীরা ? লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী কেন...

বেকার হলেও যুবসাথী পাবেন না এই যুবক–যুবতীরা ? লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী কেন বাদ পড়ছেন ?

Yuvashree Prakalpa : রাজ্যে বেকার যুবক–যুবতীদের জন্য বড় ধাক্কা। বহু প্রতীক্ষিত যুবসাথী প্রকল্প ঘিরে আশার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে হতাশাও। কারণ, বেকার হওয়া সত্ত্বেও সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ছেন লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বেকার হলে কি আদৌ যুবসাথী পাওয়া নিশ্চিত? নাকি কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ না করলে বাদ পড়তেই হবে?

রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য মূলত শিক্ষিত বেকার যুবক–যুবতীদের ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, যাতে তাঁরা চাকরির খোঁজ চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বহু আবেদনকারী আবেদন করেও সুবিধা পাচ্ছেন না।

কারা যুবসাথী প্রকল্প থেকে বাদ পড়ছেন?

সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল—বেকার মানেই যুবসাথী পাওয়া যাবে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। রাজ্য সরকার কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই প্রকল্পের সুবিধা দিচ্ছে।

প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল বয়সসীমা। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এর বাইরে হলে আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় শর্ত হল শিক্ষাগত যোগ্যতা। অন্তত মাধ্যমিক (১০ম শ্রেণি) উত্তীর্ণ হতে হবে। যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের নিচে, তাঁরা বেকার হলেও এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ-এর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা, যদিও তাঁরা এখানে বসবাস করেন, তবুও যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

অন্য ভাতা পেলেই বাতিল আবেদন?

হ্যাঁ, এটিই অনেকের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। যারা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের যুবসাথী দেওয়া হবে না।

যেমন—

  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
  • কৃষক ভাতা বা কৃষক বন্ধু প্রকল্প
  • অন্য কোনও মাসিক আর্থিক ভাতা

এই ধরনের ভাতা পেলে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন আবেদনকারী।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ বা ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ পাওয়া পড়ুয়ারা যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ পড়াশোনার স্কলারশিপ এই প্রকল্পে বাধা নয়।

নথিপত্রের সমস্যায় আটকে যাচ্ছে আবেদন

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আবেদনকারীর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেবল নথিপত্রের ত্রুটির কারণে আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আধার কার্ডে নামের বানান ভুল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য মেলেনি, কিংবা শিক্ষাগত নথির ঘাটতি—এই ধরনের ছোটখাটো ভুল বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তাই আবেদন করার আগে সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষ ক্যাম্পের ঘোষণা

অনলাইন আবেদন করতে গিয়ে যাতে কেউ সমস্যায় না পড়েন, সেই কারণেই রাজ্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (ছুটির দিন বাদে) বিশেষ ক্যাম্প চলবে।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই অফলাইনে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন না, তাঁরাও সরাসরি ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

কতদিন মিলবে যুবসাথীর টাকা?

যুবসাথী প্রকল্পে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা মাসে ১৫০০ টাকা, অর্থাৎ বছরে ১৮,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। একটানা ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া হবে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়—এই সময়ের মধ্যে চাকরি না পেলে নির্দিষ্ট শর্তে ভাতা রিনিউ করার সুযোগও রয়েছে।

আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

ক্যাম্পে যাওয়ার আগে বা অনলাইনে আবেদন করার সময় নিচের নথিগুলি অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে—

  • আধার কার্ড
  • মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • সক্রিয় মোবাইল নম্বর

শেষ কথা

যুবসাথী প্রকল্প নিঃসন্দেহে বেকার যুবক–যুবতীদের জন্য বড় সহায়তা। কিন্তু যোগ্যতা ও নিয়ম না জানলে আবেদন করেও বাদ পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই ক্যাম্পে ভিড় করার আগে নিজের বয়স, শিক্ষা, বাসস্থান এবং অন্যান্য ভাতা সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতন থাকলেই মিলতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সহায়তা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments