২১ জুলাইকে ঘিরে এ বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চিত্র ছিল অন্যবারের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিনের একক শহিদ দিবস কর্মসূচির পরিবর্তে এবার কলকাতায় পৃথকভাবে সমাবেশের আয়োজন করে তৃণমূলের দুই শিবির। একদিকে ক্যাথিড্রাল রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কর্মসূচি, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সমাবেশ। ফলে দিনভর দুই মঞ্চের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক বার্তা নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়।
দুই মঞ্চ, দুই রাজনৈতিক বার্তা
হাইকোর্টের নির্ধারিত শর্ত মেনে ক্যাথিড্রাল রোডে সভার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে, মেয়ো রোডেও পৃথক মঞ্চ তৈরি করে কর্মসূচি পালন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
দুই পক্ষই নিজেদের সমাবেশকে সফল বলে দাবি করেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ঘিরে উপস্থিতির তুলনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ভিড় নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নেতাদের দাবি, সীমিত পরিসরে সভার অনুমতি থাকলেও কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। তাঁদের বক্তব্য, দলীয় কর্মীদের আবেগ ও সমর্থন এখনও নেত্রীর পাশেই রয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও নিজেদের কর্মসূচিকে সফল বলে দাবি করেছে। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে মেয়ো রোডের উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও উপস্থিতির নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি।
খাবারের ব্যবস্থাও এল আলোচনায়
এবারের শহিদ দিবসে কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা নিয়েও আলাদা চিত্র দেখা যায়।
জানা গিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য ডিম-ভাত ও সয়াবিনের তরকারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে বড় আকারে খাবার পরিবেশনের কোনও ব্যবস্থা ছিল না বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এই ভিন্ন আয়োজনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য কী?
বিশ্লেষকদের মতে, এ বছরের ২১ জুলাই শুধুমাত্র একটি স্মরণসভা নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোন শিবির কতটা সাংগঠনিক শক্তি দেখাতে পারল, কর্মীদের সমর্থন কোথায় বেশি এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ে তার কী প্রভাব পড়তে পারে—এসব প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
এখনও জারি রাজনৈতিক তরজা
২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি শেষ হলেও দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ থামেনি। সমাবেশের সাফল্য, কর্মীদের উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে।
তবে উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবির স্বাধীন সরকারি যাচাই এখনও সামনে আসেনি। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।



