AIFF U14 League : ভারতের ফুটবল ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্তে দেখা গেছে মোহনবাগান অনূর্ধ্ব-১৪ দল। এআইএফএফ অনূর্ধ্ব-১৪ সাব জুনিয়র ইউথ লিগে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে বিপুল ব্যবধানে, ২৩ গোলে হারিয়েছে মোহনবাগান। এমন এক ফলাফল শোনার পরও অবিশ্বাস্য মনে হলেও, খেলোয়াড়রা মাঠে যা দেখিয়েছে তা সত্যিই চোখ ধাঁধানো।
মহামেডানের মাঠে খেলা শুরু হতেই দেখা যায় সবুজ-মেরুনদের আক্রমণাত্মক শক্তি। শাকিল শেখ, দর্পণ হাতিবড়ুয়া, সিদু সোরনরা নিজেদের স্থানীয় প্রতিভা ফুটিয়ে তোলেন। খেলার প্রথম মিনিটেই দর্পণের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এরপর আর কোনো রকম দেরি হয়নি। একের পর এক গোল হতোতে গিয়ে মোহনবাগান দল পুরো ম্যাচে মোট ২৩টি গোল করে বিপক্ষকে শূন্যে বসিয়ে দেয়।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন অনুব্রত বাউল দাস। তার ব্যক্তিগত গোল সংখ্যা ৮, যা পুরো দলের জয়কে আরও ঝকঝকে করেছে। এছাড়া দর্পণ হাতিবড়ুয়া ৬টি গোল করেন, যা দলের জয়কে মজবুত করেছে। সিডু সোরনসহ অন্যান্য খেলোয়াড়রাও গোলের তালিকায় নাম তুলেছেন। সব মিলিয়ে, মাঠে মোহনবাগানের সমন্বিত আক্রমণ ছিল চমকপ্রদ।
ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডের দিক থেকে এ ম্যাচ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেও, এটি বৈশ্বিক রেকর্ড নয়। ১৮৮৫ সালে স্কটিশ কাপে বন একর্ড দল ৩৬-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার দখলে। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়া সামোয়াকে ১৩-০ গোলে হারিয়েছিল। তবে বয়সভিত্তিক ফুটবলে এমন একতরফা জয় সত্যিই চমকপ্রদ এবং অনন্য।
মোহনবাগানের এই জয় শুধু স্কোরলাইনের দিক থেকে নয়, মানসিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। অনূর্ধ্ব-১৪ স্তরে এত বড় ব্যবধানে জয় প্রমাণ করে, এই ক্লাবের ভেতর রয়েছে ভবিষ্যতের জন্য অগাধ প্রতিভা ও খেলোয়াড়দের মনোবল শক্তিশালী। এ ধরনের জয়ের মাধ্যমে নিকট ভবিষ্যতে মোহনবাগান দেশের পেশাদার ফুটবলে বড়ো সাফল্য অর্জনের পথে আরও দৃঢ় হবে।
খেলা শেষে কোচের মন্তব্য অনুযায়ী, “খেলোয়াড়রা শুধু দক্ষ নয়, তারা মানসিকভাবেও দুর্দান্ত। প্রতিটি গোল পরিকল্পিত এবং দলের কৌশলের অংশ। এটি ভবিষ্যতের জন্য আমাদের অনূর্ধ্ব-১৪ দলকে আরও প্রস্তুত করে। আগামী বছরগুলোতে এই খেলোয়াড়রা ভারতের ফুটবলকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
এই ধরনের জয় শুধু মাঠের জয় নয়, সমর্থকদের মনোভাবও উজ্জীবিত করে। সবুজ-মেরুন সমর্থকরা এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে নিজেদের দলের প্রতি গর্ব অনুভব করেছেন। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৪ দল এতটা শক্তিশালীভাবে খেলতে পারছে, তা ভবিষ্যতের জন্য বড় আশা জাগাচ্ছে।
মোটকথা, মোহনবাগানের অনূর্ধ্ব-১৪ দলের এই ২৩ গোলের একতরফা জয় ফুটবল প্রফেশনালদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শককেও নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে। ক্লাবটি তার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের ফুটবলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে।



