Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাভারত–পাক ম্যাচে কি হবে করমর্দন? এশিয়া কাপের বিতর্ক ফিরতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও

ভারত–পাক ম্যাচে কি হবে করমর্দন? এশিয়া কাপের বিতর্ক ফিরতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও

India Pakistan Match : ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনার পারদ চড়া। মাঠের ভেতরের লড়াই যতটা আকর্ষণীয়, তার থেকেও অনেক সময় বেশি আলোচনায় আসে মাঠের বাইরের ঘটনা। রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি হতে চলেছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যাচ শুরুর আগেই ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সেই পুরনো প্রশ্ন—ভারত ও পাকিস্তানের অধিনায়করা কি একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করবেন?

এই বিতর্ক নতুন নয়। গত বছরের এশিয়া কাপে করমর্দন না হওয়াকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই একই দৃশ্য আবার দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের কৌতূহল তুঙ্গে।

এশিয়া কাপ থেকেই শুরু বিতর্ক

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে গত এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তান তিনটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচেই চোখে পড়েছিল একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য—দুই দলের অধিনায়করা ম্যাচের আগে বা পরে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। এই ঘটনাই জন্ম দিয়েছিল তথাকথিত ‘করমর্দন বিতর্ক’-এর।

ক্রিকেটের প্রথা অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলানোকে খেলোয়াড়সুলভ আচরণ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু ভারতীয় দল সেই প্রথা অনুসরণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান শিবিরের একাংশ। এমনকী ম্যাচ বয়কটের ডাকও উঠেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনও দলই ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ায়নি।

বিশ্বকাপেও কি একই ছবি?

এবার সেই একই প্রশ্ন উঠে এসেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। ভারত–পাক ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘা কার্যত সিদ্ধান্তের ভার ভারতের কাঁধেই ছেড়ে দেন।

তিনি বলেন,
“দেখা যাক ম্যাচের দিনে কী হয়। আমার একটাই চাওয়া, ম্যাচটা যেন সঠিক মেজাজে খেলা হয়। করমর্দন করা হবে কি না, সেটা ওদের সিদ্ধান্ত।”

অর্থাৎ এই বিষয়ে কোনও জোরাজুরি করতে চান না পাক অধিনায়ক। বরং তিনি চাইছেন ক্রিকেট যেন রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলা হয়।

সূর্যকুমারের দিকেই তাকিয়ে পাকিস্তান

এই মুহূর্তে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। ফলে করমর্দন হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত অনেকটাই তাঁর উপর নির্ভর করছে বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল। অতীতে ভারতীয় দলের অবস্থান ছিল স্পষ্ট—কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার পর তারা করমর্দনের মতো আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে চলেছে।

এশিয়া কাপের পর শুধু পুরুষদের ক্রিকেটেই নয়, মহিলা বিশ্বকাপ বা অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপেও পাকিস্তান দলের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়নি ভারতীয় খেলোয়াড়দের। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

উসমান তারিককে ঘিরে আলাদা চর্চা

করমর্দন বিতর্কের পাশাপাশি পাকিস্তান শিবিরে আরেকটি বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে। সেটা হল স্পিনার উসমান তারিক। তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যেমন প্রশংসা হচ্ছে, তেমনই উঠছে প্রশ্নও।

এই প্রসঙ্গে সলমন আঘা স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“আমাদের কাছে দলের সব ক্রিকেটার সমান। উসমান খুব ভাল বোলিং করছে। আপনারাই তো ওকে এত জনপ্রিয় করে তুলেছেন। নিঃসন্দেহে ও আমাদের অন্যতম বড় অস্ত্র।”

পাক অধিনায়কের বক্তব্যে পরিষ্কার—বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি পুরোপুরি ক্রিকেটেই মনোযোগ রাখতে চান।

করমর্দন বনাম ক্রিকেট

গত এক বছরে করমর্দন নিয়ে বিতর্ক এতটাই বড় আকার নিয়েছে যে অনেক সময় ক্রিকেটই আড়ালে চলে যাচ্ছে। অথচ রবিবারের ম্যাচ ক্রিকেটীয় দিক থেকেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। সেই ইতিহাস বদলাতেই মরিয়া পাকিস্তান শিবির।

সলমন আঘা নিজেও জানিয়েছেন, অতীত ভুলে নতুন করে শুরু করতে চান তাঁরা। তাঁর লক্ষ্য একটাই—ভারত ম্যাচে সেরা ক্রিকেটটা উপহার দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত কী হবে?

সব বিতর্কের মাঝে আসল উত্তর মিলবে ম্যাচের দিনই। দুই অধিনায়ক করমর্দন করবেন কি না, তা হয়তো কয়েক সেকেন্ডের বিষয়। কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডই তৈরি করতে পারে বড় শিরোনাম। প্রশ্ন একটাই—রবিবার কি ক্রিকেট জিতবে, নাকি বিতর্কই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments