Swami Abhimukteshwaranand Saraswati : হিন্দু ধর্মীয় মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে Swami Abhimukteshwaranand Saraswati–কে ঘিরে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। নাবালকদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জ্যোতির্পীঠের এই শঙ্করাচার্যের নাম জড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া।
প্রয়াগরাজ জেলার একটি পকসো বিশেষ আদালত সম্প্রতি এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী ও তাঁর এক শিষ্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আদালতের নির্দেশে শুরু তদন্ত প্রক্রিয়া
প্রয়াগরাজের পকসো বিশেষ আদালতের বিচারক বিনোদ কুমার চৌরাসিয়া অভিযোগের প্রাথমিক শুনানির পর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং তাঁর শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শুরু হবে।
এই মামলাটি দায়ের করেন আশুতোষ ব্রহ্মচারী, যিনি একসময় সেই আশ্রমে কর্মরত ছিলেন যেখানে অভিযুক্ত শঙ্করাচার্য দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি নিজেকে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্তি নির্মাণ ট্রাস্ট ও শাকুম্ভরী পীঠাধীশ্বরের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
কী অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারী?
আশুতোষ ব্রহ্মচারীর আদালতে দাখিল করা আবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাঘ মেলার সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন একাধিক ব্যক্তি, যাদের মধ্যে একজন তখন নাবালক ছিলেন এবং অপরজন প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, নাবালক বয়সে ওই শিশুকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আশ্রমে থাকা কিছু নাবালককে “গুরুর সেবা”র নামে মানসিক ও শারীরিক চাপ দেওয়া হত এবং গুরুতর অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করা হতো। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তিনি এমন প্রায় ২০ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে জানিয়েছেন।
পুলিশে অভিযোগ, তারপর আদালতের দ্বারস্থ
আশুতোষ ব্রহ্মচারীর দাবি অনুযায়ী, তিনি প্রথমে ঝুনসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। এরপর তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(৪) ধারায় আদালতে আবেদন করেন।
আদালত অভিযোগকারীর বক্তব্য রেকর্ড করে এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। বর্তমানে এটি অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে, এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
অভিযুক্তের পাল্টা সাফাই
এই বিতর্কের মাঝেই স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানহানির চেষ্টা।
অভিযুক্ত শঙ্করাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, গোহত্যা বন্ধ এবং কিছু সামাজিক আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, শিশু যৌন নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মীয় মহলে প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এই ঘটনায় ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। আবার একাংশ বলছে, আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা উচিত নয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পকসো আইনের অধীনে অভিযোগ উঠলে তদন্ত অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পরিচালিত হয়। ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
শেষ কথা
শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর। তবে বর্তমানে এটি আইনি তদন্তাধীন বিষয়। আদালতের চূড়ান্ত রায় এবং তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আইনসঙ্গত নয়।
এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি কী হয়, তদন্তে কী উঠে আসে—সেদিকেই এখন নজর দেশবাসীর।



