আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ সময়েই বড় ধাক্কা খেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্লেঅফের আশা এখনও পুরোপুরি শেষ না হলেও, সেই লড়াইয়ের মাঝপথেই কেকেআর শিবির ছেড়ে দেশে ফিরে গেলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার রাচীন রবীন্দ্র। ফলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে নাইট শিবিরে। প্রশ্ন উঠছে, প্লেঅফের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই কি আগেভাগে দল ছাড়লেন রাচীন? নাকি এর পিছনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ?
বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই শাহরুখ খানের দল। ১১ ম্যাচে মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে কেকেআর। ফলে বাকি প্রতিটি ম্যাচ কার্যত ‘ডু অর ডাই’। এর মধ্যেই গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দল ছাড়লেন রাচীন রবীন্দ্র। স্বাভাবিকভাবেই নাইট সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
তবে কেকেআর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাচীনের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলের পারফরম্যান্স বা প্লেঅফের সমীকরণের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। আগামী ২৭ মে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড। এরপর ৪ জুন থেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শুরু হবে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ। সেই সিরিজের প্রস্তুতির জন্যই দেশে ফিরে গিয়েছেন এই কিউই ক্রিকেটার।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান পয়েন্ট তালিকায় নিউজিল্যান্ড রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে আগামী দিনে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও প্রবল। আর সেই কারণেই জাতীয় দলের প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন রাচীন রবীন্দ্র। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকেও লাল বলের ক্রিকেটে দ্রুত যোগ দেওয়ার নির্দেশ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
কেকেআরের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইংল্যান্ড সফরের আগে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রস্তুত করতেই নিউজিল্যান্ডে ফিরে গিয়েছেন রাচীন। অর্থাৎ পুরো বিষয়টাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতির অংশ। এতে কেকেআরের সঙ্গে কোনও মনোমালিন্য বা দলীয় অশান্তির প্রসঙ্গ নেই বলেই স্পষ্ট করা হয়েছে।
যদিও রাচীনের বিদায়ে কেকেআরের প্রথম একাদশে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কারণ এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত একটিও ম্যাচ খেলেননি তিনি। নিলামে প্রায় ২ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। ওপেনিং ও মিডল অর্ডারে ব্যাট করার পাশাপাশি স্পিন বোলিং করার দক্ষতা থাকায় তাঁকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু টিম কম্বিনেশনের কারণে শেষ পর্যন্ত সুযোগ মেলেনি।
একাধিক ম্যাচে তাঁকে খেলানোর দাবি উঠলেও কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট অন্য কম্বিনেশনেই ভরসা রেখেছে। বিশেষ করে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েন রাচীন। ফলে বেঞ্চেই কাটাতে হয়েছে পুরো মরশুম। তাই তাঁর চলে যাওয়ায় মাঠের লড়াইয়ে বড় কোনও পরিবর্তন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে কেকেআরের পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট চাপে। শনিবার গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামবে নাইটরা। সেই ম্যাচে হারলেই কার্যত প্লেঅফের দৌড় থেকে ছিটকে যাবে কলকাতা। ফলে এখন আর ভুলের কোনও জায়গা নেই অজিঙ্ক রাহানের দলের সামনে।
উল্লেখ্য, ১৯ এপ্রিল রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার পর থেকেই টানা অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হয়েছে কেকেআরকে। রাজ্যে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় কলকাতার বাইরে থাকতে হয়েছিল দলকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার শহরে ফিরেছেন অজিঙ্ক রাহানে ও তাঁর সতীর্থরা। শুক্রবার ইডেন গার্ডেন্সে গুজরাট ম্যাচের প্রস্তুতিও সারবেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, প্লেঅফের চাপ, টিম কম্বিনেশন নিয়ে প্রশ্ন এবং তার মধ্যেই রাচীন রবীন্দ্রর বিদায়—সবকিছু মিলিয়ে এই মুহূর্তে কেকেআর শিবিরে চাপ যে অনেকটাই বেড়েছে, তা বলাই যায়। এখন দেখার, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা শাহরুখ খানের দল।



