আর মাত্র একটা বছর। তারপরই টি-২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে নামবে টিম ইন্ডিয়া। সেই বড় টুর্নামেন্টের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় একটাই—টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়কত্বে কি বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে? বর্তমান টি-২০ অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা না থাকায় তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও উঠছে সমালোচনা। আর সেই কারণেই নতুন অধিনায়কের খোঁজ শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, এমনটাই জোর গুঞ্জন ক্রিকেট মহলে।
তাহলে, সূর্যকুমারের জায়গায় কাকে দেখতে পারে ভারতীয় দল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ব্যস্ত ক্রিকেটপ্রেমীরা। ইতিমধ্যেই একাধিক ক্রিকেটারের নাম উঠে এসেছে সম্ভাব্য অধিনায়কের তালিকায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যেমন, তেমনই রয়েছেন তরুণ তারকারাও।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার। গত কয়েক বছরে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা একাধিকবার প্রমাণ করেছেন তিনি। ২০২৪ সালের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করার পর থেকেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশংসা শুরু হয়। এরপর পাঞ্জাবের দায়িত্ব নিয়েও নজর কেড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দীর্ঘদিন ট্রফির মুখ না দেখা দলকে ফাইনালে তোলার কৃতিত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। চলতি মরশুমেও তাঁর নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে পাঞ্জাব।
শুধু ব্যাটিং নয়, ম্যাচের কঠিন পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে শ্রেয়সের মধ্যে। সেই কারণেই ভারতীয় টি-২০ দলের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে অনেকেই এগিয়ে রাখছেন। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর ইতিবাচক মনোভাব নির্বাচকদের নজর কেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে শুধু শ্রেয়স আইয়ার নন, আরও চার ক্রিকেটারের নাম এখন জোরালোভাবে ঘুরছে অধিনায়কের দৌড়ে। এই তালিকায় রয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া, শুভমন গিল, সঞ্জু স্যামসন এবং জসপ্রীত বুমরাহ। এর মধ্যে হার্দিক ও বুমরাহ অতীতে ভারতীয় দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন।
হার্দিক পান্ডিয়াকে অনেকেই এখনও টি-২০ ফরম্যাটের জন্য আদর্শ অধিনায়ক বলে মনে করেন। তাঁর আগ্রাসী মানসিকতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং ম্যাচ পড়ার দক্ষতা ভারতীয় দলকে একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে এনেছে। যদিও চোটের সমস্যা এবং ফর্মের ওঠানামা তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে শুভমন গিলকে ভবিষ্যতের নেতা হিসেবে দেখছেন অনেকে। তরুণ হলেও ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা পাকা করেছেন তিনি। শান্ত স্বভাব, নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তাঁকে আলাদা করেছে। দীর্ঘমেয়াদে দল গঠনের কথা ভাবলে গিলকে বড় বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সঞ্জু স্যামসনের নামও এই তালিকায় যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের নেতৃত্বে তাঁর শান্ত ও পরিণত ভাবমূর্তি অনেকের নজর কেড়েছে। দলের তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস দেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করার জন্য প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।
এদিকে জসপ্রীত বুমরাহও অধিনায়কত্বের আলোচনায় রয়েছেন। যদিও পেসারদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্ব সবসময় সহজ নয়, তবুও মাঠে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবাচ্ছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় ক্রিকেটে এখন অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সূর্যকুমার যাদব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অধিনায়কত্ব হারাননি। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যে বড়সড় ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের আগে ভারতীয় বোর্ড এমন একজন ক্রিকেটারকে নেতৃত্বে দেখতে চাইবে, যিনি শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয়, পুরো দলকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত বোর্ড কার ওপর ভরসা রাখে।
আপনার মতে, ভারতের পরবর্তী টি-২০ অধিনায়ক কে হওয়া উচিত? শ্রেয়স আইয়ার, হার্দিক পান্ডিয়া, শুভমন গিল নাকি অন্য কেউ? মতামত অবশ্যই জানাতে পারেন কমেন্টে।



