Wednesday, July 15, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্য১১ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে শঙ্কুদেব পণ্ডা ও স্বর্ণালী সরকার! কীভাবে...

১১ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে শঙ্কুদেব পণ্ডা ও স্বর্ণালী সরকার! কীভাবে শুরু হয়েছিল তাঁদের প্রেমের গল্প?

দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নতুন জীবনের পথে হাঁটলেন বিজেপি নেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্কুদেব পণ্ডা এবং সাংবাদিক স্বর্ণালী সরকার। ১২ জুলাই গঙ্গার বুকে একটি ভাসমান ফ্লোটেলে পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান। সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমের অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই জুটি।

তবে শুধু বিয়েই নয়, কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের গল্পও। কীভাবে পরিচয়? কীভাবে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম? আর কেনই বা মাঝপথে এসেছিল দূরত্ব? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন অনেকেই।


ছাত্রজীবনের পরিচয় থেকেই সম্পর্কের শুরু

অনেকের ধারণা, টেলিভিশনের বিতর্কমূলক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হতে গিয়েই শঙ্কুদেব ও স্বর্ণালীর পরিচয় হয়েছিল। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় আরও অনেক পুরনো।

জানা যায়, শঙ্কুদেব যখন ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তখন থেকেই স্বর্ণালীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে এবং পরে গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়।


ভিন্ন স্বভাব, তবু ছিল দৃঢ় বোঝাপড়া

ব্যক্তিত্বের দিক থেকে দু’জনের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। পরিচিতদের মতে, স্বর্ণালী তুলনামূলকভাবে সংযত ও শান্ত স্বভাবের, অন্যদিকে শঙ্কুদেব প্রাণবন্ত এবং সহজে সকলের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।

তবে এই ভিন্নতাই তাঁদের সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে নানা পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা একে অপরের পাশে থেকেছেন।


সম্পর্কে এসেছিল সাময়িক দূরত্ব

২০১৮ সালে শঙ্কুদেব পণ্ডার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। সেই সময় তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। একই সময়ে স্বর্ণালী সরকার একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পেশাগত ব্যস্ততা এবং ভিন্ন কর্মপরিসরের কারণে তাঁদের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও সেই দূরত্ব স্থায়ী হয়নি।


২০১৯ থেকে নতুন করে কাছাকাছি

পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের দাবি, ২০১৯ সালের পর আবারও সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে দু’জনই ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন।

ধীরে ধীরে দুই পরিবারের মধ্যেও বিয়ে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।


২০২২ সালে নীরব আংটি বদলের জল্পনা

ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ২০২২ সালেই পারিবারিক পরিসরে শঙ্কুদেব ও স্বর্ণালীর আংটি বদল হয়েছিল। যদিও সেই অনুষ্ঠান প্রকাশ্যে আনা হয়নি এবং দুই পক্ষের তরফেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

পরবর্তীতে ব্যক্তিগত কারণে বিয়ের পরিকল্পনা কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে যায়।


জীবনের কঠিন সময়েও পাশে ছিলেন দু’জন

পরবর্তী সময়ে স্বর্ণালী সরকার আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে মাতৃত্বের পথ বেছে নেন। তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময়ও আলোচনা হয়েছিল।

ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই সময়ে শঙ্কুদেব তাঁর পাশে ছিলেন এবং মানসিকভাবে সবরকম সমর্থন দিয়েছেন। যদিও ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এই প্রসঙ্গে দুই পক্ষই প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করেননি।


অবশেষে ১১ বছরের সম্পর্ক পেল নতুন ঠিকানা

দীর্ঘ প্রায় ১১ বছরের পরিচয়, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, মান-অভিমান এবং নানা উত্থান-পতনের পর অবশেষে ১২ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শঙ্কুদেব পণ্ডা ও স্বর্ণালী সরকার।

গঙ্গার বুকে আয়োজিত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আত্মীয়-পরিজন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর থেকেই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সংবাদমাধ্যমের বহু পরিচিত মুখ।


কেন আলোচনায় এই বিয়ে?

শঙ্কুদেব পণ্ডা রাজনীতি ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই পরিচিত মুখ। অন্যদিকে স্বর্ণালী সরকার দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা জগতের সুপরিচিত নাম। ফলে দুই ভিন্ন পেশার দুই পরিচিত ব্যক্তিত্বের এই বিবাহ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে আগ্রহ তৈরি করেছে।

তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে এই বিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বহু মানুষ তাঁদের নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দীর্ঘ পথচলার এই ভালোবাসার গল্পকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলেও মন্তব্য করেছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments