Wednesday, July 15, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাঅন্নপূর্ণা প্রকল্পের পর এবার আয়ুষ্মান ভারত নিয়েও জটিলতা! নিরাপত্তার দাবি তুলে ফিল্ডে...

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের পর এবার আয়ুষ্মান ভারত নিয়েও জটিলতা! নিরাপত্তার দাবি তুলে ফিল্ডে যেতে অনীহা পুরসভার কর্মীদের

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে ফের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় আবেদনকারীদের অসন্তোষের ঘটনার পর এবার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুরাতন মালদা পুরসভার একদল অস্থায়ী মহিলা কর্মী।

তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্পষ্ট সরকারি নির্দেশ ছাড়া আর মাঠে নেমে কাজ করা সম্ভব নয়।


কেন তৈরি হল নতুন জটিলতা?

অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বহু আবেদনকারীর নাম তালিকায় না থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং কারণ জানতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ বা যাচাইয়ের কাজে যুক্ত কর্মীদের অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


কী অভিযোগ পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের?

পুরাতন মালদা পুরসভার ৬১ জন অস্থায়ী মহিলা কর্মীর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, কোথাও হুমকি, কোথাও তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার পর আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় যাওয়ার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।


কী কী দাবি জানিয়েছেন কর্মীরা?

কর্মীদের বক্তব্য, তাঁরা সরকারি কাজ করতে আপত্তি করছেন না। তবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাঁদের দাবিগুলি হল—

  • জেলাশাসকের স্বাক্ষর ও সরকারি সিলমোহর-সহ আনুষ্ঠানিক ওয়ার্ক অর্ডার।
  • ফিল্ডে কাজের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
  • প্রয়োজনে প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত সহায়তা।

তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থা না থাকলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।


আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

যদি মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরাপত্তার অভাবে সমীক্ষায় অংশ নিতে না পারেন, তাহলে প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং বাস্তবায়নের গতি কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।


প্রশাসনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।

এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের নিরাপত্তা ও আস্থাও বজায় রাখতে হবে।


এখন কী হতে পারে?

বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। কর্মীদের দাবি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা নতুন নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই নজর রয়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ স্বাভাবিক গতিতে চলবে কি না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments