রাজ্যে সরকারি পরিষেবার মান, কর্মদক্ষতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সিভিক ভলান্টিয়ারদের মূল্যায়ন নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তারই জেরে এবার প্রশ্ন উঠেছে—ভবিষ্যতে কি আশা কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ক্ষেত্রেও কোনও ধরনের দক্ষতা মূল্যায়ন বা যোগ্যতা যাচাই চালু হতে পারে?
তবে এই মুহূর্তে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা জরুরি—পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য কোনও যোগ্যতা পরীক্ষা বা ঝাড়াই-বাছাইয়ের সরকারি ঘোষণা এখনও করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা মূলত জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
আশা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি, কত টাকা পাচ্ছেন এখন?
সম্প্রতি রাজ্য সরকার আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
আগে যেখানে মাসিক ভাতা ছিল ₹৬,২৫০, বর্তমানে তা বেড়ে ₹১১,২৫০ হয়েছে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ₹৫,০০০ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রণোদনা (ইনসেনটিভ) দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আশা কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় তাঁদের ভূমিকা আরও উৎসাহিত হবে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের জন্যও বড় সিদ্ধান্ত
শুধু আশা কর্মীরাই নন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাদের ভাতাও ₹৫,০০০ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুপুষ্টি, টিকাকরণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং শিশু বিকাশ কর্মসূচিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিবেচনা করেই এই আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।
বেতন বাড়লেও কেন অসন্তোষ?
ভাতা বৃদ্ধিকে স্বাগত জানালেও আশা কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের দায়িত্বের পরিধি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
গর্ভবতী মায়েদের পর্যবেক্ষণ, টিকাকরণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য সমীক্ষা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ, সচেতনতা অভিযান—সব মিলিয়ে কাজের চাপ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, শুধু ভাতা বৃদ্ধি নয়, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার উন্নয়নও সমানভাবে জরুরি।
যোগ্যতা যাচাই নিয়ে কেন আলোচনা?
সাম্প্রতিক সময়ে সিভিক ভলান্টিয়ারদের দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা মূল্যায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
অনেকের ধারণা, সরকারি পরিষেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু হতে পারে।
তবে আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ক্ষেত্রে এমন কোনও পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে বলে এখনও কোনও সরকারি নথি বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।
সরকার কী বলেছে?
এই মুহূর্ত পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা কর্মী কিংবা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য যোগ্যতা পরীক্ষা, পুনর্মূল্যায়ন বা ঝাড়াই-বাছাই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।
তাই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা বা পরীক্ষার সম্ভাবনাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মত কী?
প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিষেবার মান উন্নত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মক্ষমতার মূল্যায়ন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন।
তবে সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যদি কখনও চালু হয়, তাহলে তা স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা বজায় রেখেই হওয়া উচিত বলেও তাঁদের মত।
সাধারণ মানুষের জন্য এর তাৎপর্য
আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং শিশু-মাতৃকল্যাণ পরিষেবার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাঁদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মপরিবেশ উন্নত হলে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানও বাড়তে পারে।
তবে বর্তমানে তাঁদের যোগ্যতা যাচাই নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি এখনও সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিভিন্ন মহলের অনুমান ও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ।
কী জানা জরুরি?
বর্তমানে নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে তা হল—
- আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা ₹৫,০০০ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে।
- আশা কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ইনসেনটিভের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
- কিন্তু আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের যোগ্যতা পরীক্ষা বা ঝাড়াই-বাছাই নিয়ে এখনও কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।
তাই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হলে, সেটি সরকারিভাবেই জানানো হবে। ততদিন পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে দেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



