রাজ্যের আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধবা মহিলাদের জন্য বিধবা ভাতা প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে চালু রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই প্রকল্পে মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ₹১,০০০ থেকে বাড়িয়ে ₹১,৫০০ করা হয়েছে। ফলে বহু উপভোক্তা আগের তুলনায় বেশি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
তবে এখনও অনেক যোগ্য মহিলা জানেন না, এই প্রকল্পে আবেদন কোথায় করতে হয়, কী কী নথি লাগে কিংবা জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করতে না পারলেও পরে আবেদন করা যায় কি না। সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই তুলে ধরা হল।
বিধবা ভাতা প্রকল্পে কত টাকা মিলছে?
রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তারা বর্তমানে প্রতি মাসে ₹১,৫০০ করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। অনুমোদিত আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে এই অর্থ পাঠানো হয়।
এই আর্থিক সহায়তা দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করতে না পারলে কী করবেন?
গত জুন মাসে বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে বিধবা ভাতার আবেদনপত্র গ্রহণ করা হলেও, সেখানে উপস্থিত হতে না পারলেও চিন্তার কারণ নেই।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বছরের অন্যান্য সময়েও আবেদন করা যায়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শিবিরে আবেদন না করলেও যোগ্য আবেদনকারীরা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
কোথায় আবেদন করবেন?
বিধবা ভাতা প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীকে নিজের এলাকার—
- ব্লক উন্নয়ন অফিস (BDO Office)
- গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস
- পুরসভা বা পৌরসভা
—এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে হবে।
সেখান থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করতে হবে।
কী কী নথি লাগবে?
আবেদনের সময় সাধারণত নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রয়োজন হয়—
- স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র (Death Certificate)
- আবেদনকারীর আধার কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- ডিবিটি-সংযুক্ত (DBT-enabled) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাওয়া হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সর্বশেষ নথির তালিকা জেনে নেওয়া উচিত।
আবেদনপত্র পূরণের সময় কোন বিষয়গুলিতে নজর দেবেন?
আবেদনপত্রে ব্যক্তিগত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে—
- আধার নম্বর
- ভোটার কার্ডের EPIC নম্বর
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর
- IFSC কোড
- মোবাইল নম্বর
এসব তথ্য ভুল হলে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে এবং অনুমোদন পেতে দেরি হতে পারে।
কীভাবে টাকা পাবেন?
আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর আবেদনকারীর নথি ও যোগ্যতা যাচাই করে।
যদি সমস্ত তথ্য সঠিক থাকে এবং আবেদন অনুমোদিত হয়, তাহলে উপভোক্তার নাম সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর প্রতি মাসে নির্ধারিত অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে।
অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই আবেদন করা যায়
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইন আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা নেই, তাঁরা অফলাইন পদ্ধতিতেও আবেদন জমা দিতে পারেন।
অফলাইনে আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভায় গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।
আবেদন করার আগে যা জেনে রাখা জরুরি
বিধবা ভাতা প্রকল্পে আবেদন করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে সমস্ত নথি হালনাগাদ রয়েছে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি ডিবিটি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত আছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এছাড়া প্রকল্পের নিয়ম বা যোগ্যতার শর্ত সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে সর্বশেষ নির্দেশিকা জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



