ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলা অচলাবস্থার মাঝেই কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসল CJP-এর প্রতিনিধি দল। দীর্ঘ আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের উত্থাপিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
এই বৈঠকের পর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কারা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে?
রেফারেন্স অনুযায়ী, নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রের প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কোন দুটি দাবিতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে দাবি?
বৈঠক শেষে CJP-এর প্রতিনিধিরা দাবি করেন, কেন্দ্র নীতিগতভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী—
- মৃত পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য পরিবারপিছু ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে নীতিগত সম্মতি মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
- আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা
আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
রেফারেন্সে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিষয়ে বৈঠকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং সিদ্ধান্ত জানাতে আরও একদিন সময় চাওয়া হয়েছে।
এই দাবির বিষয়ে কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা যাচাইসাপেক্ষ।
আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি কী?
CJP-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ বা অন্য কোনও সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।
সংগঠনের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষা পরিচালনার সংস্কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
কেন শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন?
রেফারেন্স অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে NEET-সহ একাধিক পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ছাত্রসমাজের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য।
এখন নজর কোন দিকে?
বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরেই। আন্দোলনকারীদের দাবি এবং সরকারের সম্ভাব্য অবস্থান—দুই দিকেই এখন নজর রয়েছে।
তবে বৈঠকে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় এবং দাবিগুলি নিয়ে কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে তবেই পুরো পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।



