NEET প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলকাতায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার শহরের CIT রোড এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশ আটক করে বলে জানা যায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন দলের শীর্ষ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। একদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অনুমতি না মেলায় বিতর্কের সূত্রপাত
রেফারেন্স অনুযায়ী, কলকাতায় নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি মেলেনি। একইসঙ্গে আদালতের দ্বারস্থ হলেও জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তারপরও তৃণমূল নেতৃত্ব কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নির্ধারিত স্থানে সমবেত হয়।
বিক্ষোভস্থলে পুলিশি হস্তক্ষেপ, আটক দুই নেতা
পদ্মপুকুর মোড় এলাকায় আন্দোলন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সেই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশ আটক করে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ কী ধারায় বা কোন অভিযোগে তাঁদের আটক করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য তখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দুই নেতাকে আটক করার খবর সামনে আসতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতে সংবিধানের একটি কপি নিয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বক্তব্য রাখেন।
তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
তৃণমূলের অভিযোগ কী?
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
দলের নেতাদের অভিযোগ, অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুলিশি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে।
প্রশাসনের অবস্থান
রেফারেন্সে প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া উল্লেখ নেই। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল বা জমায়েতের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র
ঘটনার পর শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও জোরদার হয়েছে। NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যু ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই আবহে কলকাতার এই ঘটনাও নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে এসেছে। তাই পুরো বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং প্রশাসনিক নথির উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এখন কী?
কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
একইসঙ্গে NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, আগামী দিনেও তা আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



