বলিউড ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ইভা গ্রোভার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। প্রাক্তন স্বামী হায়দার আলী খানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও বিনোদন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইভার এই অভিযোগগুলির বিষয়ে হায়দার আলী খানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে তাঁর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাক্ষাৎকারে কী দাবি করেছেন ইভা গ্রোভার?
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ইভা গ্রোভার জানান, দাম্পত্য জীবনের সময় তিনি নানা ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে যেখানে কাজের সুযোগ পাওয়ার জন্য তাঁকে পরিচালক বা প্রযোজকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চাপ অনুভব করতে হয়েছিল।
অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজের পেশাগত জীবনে কখনও শর্টকাটের পথ বেছে নেননি এবং নিজের দক্ষতার ভিত্তিতেই কাজ করেছেন।
সংসার টিকিয়ে রাখতে আর্থিক ত্যাগের দাবি
ইভা আরও দাবি করেন, সংসার বাঁচানোর জন্য তাঁকে ব্যক্তিগত সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছিল। এমনকি প্রয়োজনের সময় নিজের গাড়িও বিক্রি করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তাঁর কথায়, পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি বহু ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার পরও সম্পর্ক ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যায়।
প্রাক্তন স্বামীর স্বাস্থ্য নিয়েও মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে ইভা দাবি করেন, তাঁর প্রাক্তন স্বামী হায়দার আলী খান মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর বক্তব্য, বিয়ের সময় তিনি বিষয়টি জানতেন না এবং পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
তবে এই দাবি সম্পর্কে কোনও স্বাধীন চিকিৎসাগত নথি বা সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে কী বললেন অভিনেত্রী?
ইভার দাবি, বিয়ের পর সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে এবং তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পারিবারিক জীবনে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছিল।
এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে ইভার ব্যক্তিগত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনও রায় বা সরকারি তদন্তের তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই।
বর্তমানে কোথায় দাঁড়িয়ে এই বিতর্ক?
সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে হায়দার আলী খানের প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে না আসায় ঘটনাটির অন্য দিকটি জানা যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণ বিবেচনা করেই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।
কেন আলোচনায় এই ঘটনা?
বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন প্রায়ই জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে কোনও গুরুতর অভিযোগ সামনে এলে তা তথ্যভিত্তিকভাবে দেখা এবং অভিযোগকে আদালত বা তদন্তের আগে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে না ধরা—সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
ইভা গ্রোভারের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারও সেই কারণেই আলোচনায় রয়েছে। এখন দেখার, ভবিষ্যতে এই অভিযোগের বিষয়ে অন্য পক্ষের প্রতিক্রিয়া বা নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না।



