Sunday, August 2, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথারেলের জমির ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় অগ্রগতি! কলকাতা হাইকোর্টে রেলের অবস্থান স্পষ্ট,...

রেলের জমির ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় অগ্রগতি! কলকাতা হাইকোর্টে রেলের অবস্থান স্পষ্ট, বাড়ল নতুন আশা

রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস বা ব্যবসা করছেন, কিন্তু জমির মালিক নন—এমন হাজার হাজার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি সামনে এসেছে। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে রেল মন্ত্রকের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। রেলের দাবি, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু মালিক নন, আইন অনুযায়ী যোগ্য ভাড়াটিয়ারাও ক্ষতিপূরণের দাবিদার হতে পারেন।

এই অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত বিষয়টির আইনি দিক খতিয়ে দেখার ওপর জোর দিয়েছে। ফলে বহুদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা ভাড়াটিয়াদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


কী বলেছে রেল মন্ত্রক?

হাইকোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৩ সালের কেন্দ্রীয় ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনর্বিন্যাস আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল না।

তবে ভাড়াটিয়াদের জন্য ক্ষতিপূরণের হার বা পরিমাণ নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনের ওপর ছিল। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিপূরণ বিতরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে রেলের দাবি।


কেন এতদিন আটকে ছিল ক্ষতিপূরণ?

রেলের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রশাসনিক স্তরে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য অধিকার থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া এগোয়নি।

এই বিষয়টিই বর্তমানে আদালতের নজরে এসেছে।


আদালতে কী যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে?

মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ হলে শুধু জমির মালিক নন, বৈধভাবে বসবাসকারী বা ব্যবসা পরিচালনাকারী ভাড়াটিয়ারাও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২২ সালেও কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে।


ভাড়াটিয়াদের জন্য এর গুরুত্ব কী?

এই মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও হয়নি। তবে আদালতে রেল মন্ত্রকের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবিগুলির নিষ্পত্তিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

বিশেষ করে রেলের জমিতে বহু বছর ধরে বসবাসকারী বা ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের জন্য এই মামলার ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।


কারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন?

বর্তমানে কোনও নতুন সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে আদালতে আলোচনায় উঠে এসেছে যে, আইন অনুযায়ী বৈধভাবে বসবাসকারী বা ব্যবসা পরিচালনাকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে।

তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট নথি, দখলের প্রকৃতি এবং আইনি বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


এখন কী হতে পারে?

মামলাটি এখনও বিচারাধীন। কলকাতা হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে।

যাঁরা এই ধরনের জমিতে বসবাস বা ব্যবসা করেন, তাঁদের জন্য আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং সরকারি নির্দেশিকা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা সম্ভব নয়।


সংক্ষেপে

  • রেলের জমিতে বসবাসকারী বা ব্যবসায়ী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে।
  • রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৩ সালের আইনের আওতায় যোগ্য ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্বীকৃত।
  • ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণের দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের ছিল বলে আদালতে জানিয়েছে রেল।
  • মামলার চূড়ান্ত রায় এখনও হয়নি; পরবর্তী আদালতের নির্দেশের দিকেই এখন নজর।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments