Saturday, August 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকশেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ, দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে নতুন...

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ, দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাঁর ভার্চুয়াল বক্তব্য ঘিরে শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনার খবর সামনে আসায় পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ শেখ হাসিনার

প্রায় দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে জানান, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে চান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া বা গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকলেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসছেন না। তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিক্রিয়া

শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে। ঢাকার অভিযোগ, ভারতের মাটিতে এ ধরনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক উদ্বেগও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনও সরকারি সংশ্লিষ্টতা ছিল না। বিষয়টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে বলেই ভারতের অবস্থান।

শাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলার অভিযোগ

শেখ হাসিনার বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশের মাগুরায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সাংসদ শাকিব আল হাসানের পৈতৃক বাড়িতে হামলার ঘটনা সামনে আসে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বাড়ির জানালা ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার সময় বাড়িটি খালি ছিল বলে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

দিল্লিতে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী আইনি ও প্রশাসনিক চাপে রয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা শুধু দেশটির নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য একটি সংবেদনশীল বিষয়।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, এ ধরনের বিষয়ে তারা নিজেদের আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কাঠামো অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আগামী কয়েক মাসে এই ইস্যু দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিসেম্বর প্রত্যাবর্তন বাস্তবে সম্ভব হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মতভেদও তীব্র।

আগামী কয়েক মাসে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান, আদালতের প্রক্রিয়া এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ভবিষ্যৎ। ফলে এই ইস্যু শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments