টলিউডের দুই বড় তারকা দেব ও জিৎকে একই ফ্রেমে দেখার অপেক্ষা এবার সত্যিই শেষ হতে চলেছে? দীর্ঘদিনের জল্পনায় এমনই নতুন মোড় এসেছে। জিতের নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে মা-বাবাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দেব। ছবিটি পাশাপাশি বসে দেখেছেন দুই তারকা, কথাও বলেছেন দীর্ঘক্ষণ। আর সেখানেই উঠে এসেছে বহু প্রতীক্ষিত সেই প্রশ্ন—আবার কবে একসঙ্গে বড়পর্দায় দেখা যাবে দেব ও জিৎকে?
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দুই পৃথিবী’-র পর আর কোনও ছবিতে একসঙ্গে দেখা যায়নি তাঁদের। সেই থেকেই দুই তারকার সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ জুটি নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বলছে, সেই দূরত্বের গল্প অন্তত এখন আর আগের মতো নেই।
জিতের ছবি দেখতে গিয়ে বড় চমক দেবের
‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে একা যাননি দেব। মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছন তিনি। দেবকে দেখে জিৎ নিজে এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে সম্মান জানান এবং তাঁদের বসার ব্যবস্থা করেন।
এরপর ছবির প্রদর্শনীর সময়ও দুই তারকাকে পাশাপাশি দেখা যায়। পর্দায় জিতের অভিনয় দেখার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে কথোপকথনের ছবিও নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই অনুরাগীদের মধ্যে শুরু হয় নতুন জল্পনা—তাহলে কি ‘দুই পৃথিবী’র জুটি ফের বড়পর্দায় ফিরছে?
‘অহংকার’ নয়, দরকার শুধু ভালো গল্প
এই প্রশ্নের উত্তরেই আসল চমক। দেব স্পষ্ট জানিয়েছেন, একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে কোনও অহংকার বা সমস্যা নেই। বরং দু’জনেরই ইচ্ছে রয়েছে ফের এক ছবিতে কাজ করার।
তবে তার জন্য প্রয়োজন এমন একটি চিত্রনাট্য, যেখানে দেব ও জিৎ—দু’জনকেই একসঙ্গে নেওয়ার যথেষ্ট যুক্তি থাকে। শুধু দুই তারকার জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে ছবি বানাতে চান না তাঁরা।
অর্থাৎ, বহুদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো ‘দু’জনের ইগোর লড়াই’ তত্ত্বকে কার্যত উড়িয়েই দিলেন দেব।
উদ্যোগ নিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
সবচেয়ে বড় খবরটি জানিয়েছেন দেব নিজেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দেব ও জিৎকে নিয়ে বসেছিলেন এবং দু’জনকে একসঙ্গে নিয়ে ছবি করার দায়িত্বও নিয়েছেন।
দেবের কথায়, পুজোর পর এই বিষয়টি নিয়ে এগনোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ এখনও কোনও ছবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি, চিত্রনাট্য বা পরিচালকও প্রকাশ্যে চূড়ান্ত করা হয়নি; তবে উদ্যোগ যে শুরু হয়েছে, সেটি দেবের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।
পুজোর পরই কি শুরু হবে নতুন ছবির কাজ?
এখানেই একটু সতর্ক থাকা দরকার। ‘পুজোর পর ছবি করবে’—এই বক্তব্য থেকে ছবির শুটিং শুরু হবে বা মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যাবে না।
এই মুহূর্তে যা জানা যাচ্ছে, তা হল পুজোর পর দেব-জিৎকে নিয়ে সম্ভাব্য একটি ছবির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা হয়েছে। তার পর চিত্রনাট্য, পরিচালক, প্রযোজনা সংস্থা এবং শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তাই আপাতত এটিকে ‘কামব্যাকের ঘোষণা’র চেয়ে কামব্যাকের জোরালো ইঙ্গিত বলা বেশি সঠিক।
এতদিন একসঙ্গে কাজ করেননি কেন?
দেব ও জিৎকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ায় নানা ধরনের জল্পনা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কথাবার্তায় দেব নিজেই জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা বা অহংকারের বিষয় নেই।
মূল বাধা ছিল উপযুক্ত গল্প। দুই নায়ককে একই ছবিতে রাখলে তাঁদের চরিত্র, পর্দার গুরুত্ব এবং গল্পের প্রয়োজনীয়তা—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকা দরকার। তাই শুধু ‘দেব-জিৎ’ নাম ব্যবহার করলেই হবে না, এমন চিত্রনাট্যই তাঁদের পছন্দ, যেখানে দুই তারকার উপস্থিতি গল্পের স্বাভাবিক অংশ।
জিৎও কি প্রস্তুত?
দেবের বক্তব্যে এই বিষয়ে যথেষ্ট ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। দুই তারকার কথাবার্তা এবং পরবর্তী সময়ের মুহূর্তগুলি থেকেও বোঝা যায়, একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে জিৎ আপত্তি করছেন না।
অর্থাৎ, সমস্যা যদি কিছু থেকেই থাকে, তা এখন ‘কে কার সঙ্গে কাজ করবেন’ নয়; বরং ‘কোন গল্পে দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যাবে’—এই প্রশ্ন।
‘দুই পৃথিবী’র পর কতটা বদলেছে পরিস্থিতি?
২০১৫ সালের ‘দুই পৃথিবী’র সময় দেব ও জিৎ দু’জনেই বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। পরবর্তী দশকে দু’জনেরই কাজের ধরন ও পরিচিতিতে পরিবর্তন এসেছে।
দেব অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার কাজেও সক্রিয় হয়েছেন। জিৎ-ও বিভিন্ন ধরনের চরিত্র ও ছবিতে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’-এ জিৎকে একাধিক ভিন্ন লুকে দেখা যাচ্ছে, যা তাঁর সাম্প্রতিক কাজের পরিসরেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এই সময়ের পর নতুনভাবে দুই তারকাকে এক ছবিতে দেখা গেলে সেটি নিঃসন্দেহে বাংলা বাণিজ্যিক ছবির জন্যও বিশেষ আগ্রহ তৈরি করবে।
কেন এই জুটি এত আলোচিত?
দেব-জিৎ জুটি শুধু দুই জনপ্রিয় অভিনেতার সমন্বয় নয়; তাঁদের ঘিরে টলিউডের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। একসময় তাঁদের নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা ছিল। পরে দু’জনের আলাদা আলাদা জনপ্রিয়তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তাই একই ছবিতে তাঁদের ফের দেখা গেলে তা শুধু নস্টালজিয়া তৈরি করবে না, বরং ছবির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, গল্পের ধরন এবং দুই তারকার পর্দার রসায়ন—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আনবে।
প্রসেনজিতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সফল হবে?
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগ সফল হলে বাংলা ছবির দর্শকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় খবর। তবে এখনও ছবিটির নাম, পরিচালক, প্রযোজক বা শুটিংয়ের সময়সূচি প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে এখনই ‘দেব-জিৎ অভিনীত নতুন ছবি পুজোর পর শুরু হচ্ছে’—এমন নিশ্চিত ঘোষণা করা ঠিক হবে না। বরং বর্তমান তথ্য অনুযায়ী বলা যায়, দুই তারকার একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তাঁদের দু’জনেরই সম্মতি রয়েছে এবং প্রসেনজিৎ এই উদ্যোগে মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়েছেন।
শেষে দেবের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হয়তো এটাই—“আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।”
‘দুই পৃথিবী’র পর সেই দুই পৃথিবী যদি সত্যিই আবার এক হয়, তাহলে বাংলা সিনেমার পর্দায় দেব-জিৎকে একই ফ্রেমে দেখার মুহূর্তটি যে অনুরাগীদের জন্য বিশেষ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।



