বিধানসভার করিডোরে শুক্রবার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরা অবস্থায় দেখা যেতেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক জল্পনা। তার উপর বিজেপির কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে তাঁকে কথাবার্তা বলতেও দেখা যায়। মুহূর্তেই প্রশ্ন ওঠে—তবে কি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির পথে হাঁটছেন কুণাল ঘোষ?
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে দলবদল কোনও নতুন ঘটনা নয়। ফলে কুণালের মতো তৃণমূলের পরিচিত মুখকে গেরুয়া উত্তরীয় পরা অবস্থায় দেখা যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নজর কেড়েছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে গোটা ঘটনার আসল কারণ।
কেন গেরুয়া উত্তরীয় পরেছিলেন কুণাল?
ঘটনাটি আসলে কোনও রাজনৈতিক দলবদলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
বিধানসভায় অধ্যক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিল ‘রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনী’র একটি প্রতিনিধি দল। বিধানসভা চত্বরে সেই প্রতিনিধিদের সঙ্গে আচমকাই দেখা হয়ে যায় কুণাল ঘোষের।
সেখানেই সংগঠনের সদস্যরা তাঁকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দেন। কুণাল ঘোষও বিষয়টি সৌজন্য হিসেবেই গ্রহণ করেন। আর সেই মুহূর্তের ছবি বা দৃশ্য সামনে আসতেই শুরু হয় নানা জল্পনা।
বিজেপির বিধায়কদের সঙ্গে কেন দেখা গেল?
গেরুয়া উত্তরীয় পরার পাশাপাশি বিধানসভার বাইরে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে কুণাল ঘোষের কথোপকথনের দৃশ্যও নজরে আসে।
এই দুই ঘটনাকে একসঙ্গে দেখেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি তৃণমূল বিধায়কের অবস্থান বদলানোর কোনও ইঙ্গিত রয়েছে?
কিন্তু এখনও পর্যন্ত কুণাল ঘোষের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। ফলে শুধুমাত্র গেরুয়া উত্তরীয় পরা বা অন্য দলের বিধায়কদের সঙ্গে কথাবার্তার ভিত্তিতে দলবদলের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলে কুণাল ঘোষ
কুণাল ঘোষ তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ। দলের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণ করতেও তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়।
একইসঙ্গে দলের ভুলত্রুটি নিয়েও অতীতে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন তিনি। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা আলোচনা তৈরি হলেও, এই ঘটনায় নতুন করে দলবদলের প্রশ্ন সামনে আসে মূলত গেরুয়া উত্তরীয়ের ছবি ঘিরে।
কয়েক মিনিটের জল্পনা, তারপরই পরিষ্কার আসল ঘটনা
রাজনীতিতে দৃশ্যের গুরুত্ব অনেক। একজন তৃণমূল বিধায়ককে গেরুয়া উত্তরীয় পরে বিধানসভায় ঘুরতে দেখার ছবি তাই দ্রুতই আলোচনায় আসা স্বাভাবিক।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে ছবির পেছনের ঘটনাটি জানা যেতেই পরিষ্কার হয়ে যায়—গেরুয়া উত্তরীয় পরা মানেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া নয়।
রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সৌজন্যেই ওই উত্তরীয় কুণাল ঘোষের গলায় উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে।
ফলে আপাতত কুণাল ঘোষের ‘গেরুয়া অবতার’-কে দলবদলের সংকেত হিসেবে দেখার মতো কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। বরং বিধানসভার ব্যস্ত রাজনৈতিক পরিবেশে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ থেকেই তৈরি হয়েছিল কয়েক মিনিটের তুমুল জল্পনা।
দলবদলের জল্পনা যতটা চমকপ্রদ, ঘটনাটির বাস্তব কারণ কিন্তু ততটাই সরল।



