রাখিবন্ধন নিয়ে এ বছর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটাই হল—২৭ অগস্ট, নাকি ২৮ অগস্ট? কারণ শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৭ অগস্ট সকালে, কিন্তু তা থাকছে ২৮ অগস্ট সকাল পর্যন্ত। ফলে ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখে অনেকেরই বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাখিবন্ধন পালিত হবে ২৮ অগস্ট, শুক্রবার। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার পঞ্জিকা-ভিত্তিক হিসাবেও এই দিনটিকেই রাখির দিন হিসেবে দেখানো হয়েছে। পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৭ অগস্ট সকাল ৯টা ৮ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে।
২০২৬ সালে রাখিবন্ধন কবে?
হিন্দু পঞ্জিকায় রাখিবন্ধন শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়। এ বছর পূর্ণিমা শুরু হলেও ২৮ অগস্টের সূর্যোদয়ের সময়ও পূর্ণিমা তিথি রয়েছে। সেই কারণেই ২৮ অগস্টই উৎসব পালনের দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
অর্থাৎ, রাখি বাঁধার জন্য মূল দিন ২৮ অগস্ট, শুক্রবার।
রাখি বাঁধার শুভ সময় কতক্ষণ?
কল্যাণী ও বর্ধমানের মতো পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরের পঞ্জিকা-হিসাব অনুযায়ী ২৮ অগস্ট সকালে রাখি বাঁধার সময় সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত ধরা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কল্যাণীতে সময় ৫টা ১৭ মিনিট থেকে ৯টা ৪৮ মিনিট এবং বর্ধমানে ৫টা ১৯ মিনিট থেকে ৯টা ৪৮ মিনিট। স্থানীয় সূর্যোদয়ের কারণে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে।
ভদ্রা তিথিও সূর্যোদয়ের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে পঞ্জিকা-ভিত্তিক তথ্য জানাচ্ছে। তাই ভদ্রার সময়ে রাখি না বাঁধার প্রচলিত নিয়মটি এ বছর সকালে পালন করা নিয়ে বড় বাধা তৈরি করছে না।
তাহলে ২৭ অগস্টে রাখি বাঁধা যাবে?
২৭ অগস্ট শ্রাবণ পূর্ণিমা শুরু হলেও সেটি রাখির প্রধান দিন নয়। তাই শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা মেনে চলতে চাইলে ২৮ অগস্টেই রাখি বাঁধা শ্রেয়। বিভিন্ন পঞ্জিকা-ভিত্তিক উৎসও ২৮ অগস্টকেই রাখিবন্ধনের দিন হিসেবে উল্লেখ করছে।
রাখি বাঁধার আগে কী কী করবেন?
রাখিবন্ধনের আচার অঞ্চল ও পরিবারভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে প্রচলিত রীতিতে প্রথমে পুজোর থালি সাজিয়ে ভাই বা দাদাকে পরিষ্কার আসনে বসানো হয়।
অনেক পরিবারে ইষ্টদেবতা বা গণেশকে স্মরণ করে তারপর কপালে তিলক দেওয়া, অক্ষত চাল ব্যবহার করা, রাখি বাঁধা এবং শেষে আরতি করার রীতি রয়েছে।
ভাইয়ের মঙ্গল, দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার কামনাই এই আচারগুলির মূল উদ্দেশ্য।
ভাই কোন দিকে মুখ করে বসবেন?
পঞ্জিকা ও প্রচলিত আচারে পূর্ব বা উত্তরমুখী হয়ে বসার রীতি অনেক জায়গায় দেখা যায়। তবে এটি সর্বত্র একইভাবে বাধ্যতামূলক নয়; পরিবার ও আঞ্চলিক প্রথা অনুসারে নিয়মে পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই বাড়ির প্রচলিত রীতি থাকলে সেটিও অনুসরণ করা যেতে পারে।
কোন হাতে রাখি বাঁধবেন?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বোনেরা ভাইয়ের ডান কব্জিতে রাখি বাঁধেন। ডান হাতকে শুভ ও কর্মের প্রতীক হিসেবে দেখার ধর্মীয় ব্যাখ্যাও রয়েছে।
রাখি বাঁধার আগে তিলক, অক্ষত এবং মিষ্টিমুখ করানোর রীতিও বহু পরিবারে প্রচলিত।
কেন তিনটি গিঁট দেওয়া হয়?
রাখিতে তিনটি গিঁট দেওয়ার রীতির সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীকী ব্যাখ্যা জড়িত। অনেক প্রচলিত ব্যাখ্যায় তিন গিঁটকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আবার কেউ কেউ এগুলিকে ভাইয়ের শরীর, মন ও আত্মার সুরক্ষার প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন।
তবে এটি একটি ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা; প্রত্যেক সম্প্রদায় বা পরিবারের জন্য তিনটি গিঁট একই অর্থ বহন করে—এমন কোনও একক সর্বজনীন নিয়ম নেই।
রাখি বাঁধার পর কী করবেন?
রাখি বাঁধার পর ভাইকে মিষ্টিমুখ করানো এবং আরতি করার রীতি প্রচলিত। এরপর ভাই-বোন একে অপরের মঙ্গল কামনা করেন এবং উপহার বিনিময়ও করা হয়।
রাখিবন্ধনের মূল ভাবনা অবশ্য শুধু উপহার বা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভাই-বোনের পারস্পরিক স্নেহ, দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে।
এক নজরে ২০২৬ সালের রাখিবন্ধন
রাখির তারিখ: ২৮ অগস্ট, শুক্রবার
পূর্ণিমা শুরু: ২৭ অগস্ট, সকাল ৯টা ৮ মিনিট
পূর্ণিমা শেষ: ২৮ অগস্ট, সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট
পশ্চিমবঙ্গে সকালবেলার রাখি বাঁধার সময়: স্থানীয় সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত; শহরভেদে শুরু সময় কয়েক মিনিট আলাদা হতে পারে
ভদ্রা: সূর্যোদয়ের আগেই শেষ হওয়ার কথা পঞ্জিকা-ভিত্তিক হিসাবে বলা হয়েছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৬ সালে রাখিবন্ধনের মূল দিন ২৮ অগস্ট। তাই ২৭ না ২৮—এই দ্বন্দ্বে উত্তর হল ২৮ অগস্ট, শুক্রবার। আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রকাশিত পঞ্জিকা-ভিত্তিক সময় অনুযায়ী সকালেই রাখি বাঁধার সুযোগ রয়েছে।
তবে পুজো বা পারিবারিক আচার আরও নির্দিষ্টভাবে পঞ্জিকা মেনে করতে চাইলে নিজের এলাকার স্থানীয় পঞ্জিকার সময় মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



