রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় এবার বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে একের পর এক সংস্কারের কথা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আধুনিক পরিকাঠামো থেকে শুরু করে মডেল স্কুল, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ, খেলাধুলা এবং স্কুলে মোবাইল ব্যবহারের মতো একাধিক বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে নতুন পরিকল্পনা।
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে নিউ টাউনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রতি জেলায় দুটি করে ‘CM Shri’ স্কুল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক পরিকাঠামো-সমৃদ্ধ মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হতে পারে।
তবে শুধু স্কুলের পরিকাঠামো নয়, কী পড়ানো হবে, কীভাবে শিক্ষক নিয়োগ হবে এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব কতটা বাড়বে—এই সব প্রশ্নেও নতুন সরকারের পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রতি জেলায় দুটি করে ‘CM Shri’ স্কুল
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় ঘোষণা ছিল ‘CM Shri’ মডেল স্কুল তৈরির পরিকল্পনা।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় দুটি করে এমন স্কুল গড়ে তোলা হবে। এগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল ল্যাব, উন্নত শিক্ষার পরিবেশ এবং তুলনামূলকভাবে আধুনিক পরিকাঠামো রাখার কথা বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্কুলগুলিকে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের আদলে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেছেন। অর্থাৎ সাধারণ সরকারি স্কুলের পাশাপাশি এমন কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে মেধাবী পড়ুয়ারা বিশেষ পরিকাঠামোয় পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
তবে এই পরিকল্পনার পূর্ণ কাঠামো—কোন স্কুলগুলিকে CM Shri হিসেবে বেছে নেওয়া হবে, ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কী হবে এবং ঠিক কবে থেকে ভর্তি শুরু হবে—সেসব বিস্তারিত এখনও প্রকাশিত হয়নি।
সিলেবাসে আসছে কী বদল?
শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত এসেছে পাঠ্যক্রম ঘিরে।
এর আগেই জুলাই মাসে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদান স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে আরও গুরুত্ব পেতে পারে। একইসঙ্গে তিনি সিঙ্গুর আন্দোলন এবং টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্পকে ঘিরে থাকা অধ্যায় পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
অর্থাৎ, এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—এগুলি মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব ও রাজনৈতিক অবস্থান; প্রতিটি অধ্যায় ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পাঠ্যক্রম কমিটি ও শিক্ষা দফতরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শেষ সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে ক্ষুদিরাম—ইতিহাসে বাড়বে জাতীয়তাবাদী জোর?
পাঠ্যক্রমে ইতিহাসের কিছু চরিত্র ও ঘটনা নতুনভাবে তুলে ধরার ইঙ্গিত গত কয়েক মাসে একাধিকবার এসেছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ভূমিকা, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এবং ‘অখণ্ড ভারত’-সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি পড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে আগস্টে ক্ষুদিরাম বসুর জীবন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ভূমিকা প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আরও বিস্তৃতভাবে পড়ানোর পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছিল।
তাই নতুন শিক্ষানীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হতে পারে স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ এবং নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদানকে পাঠ্যক্রমে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
‘সিঙ্গুর’ অধ্যায় কি সত্যিই বাদ যাচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই পুরোপুরি ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে না।
জুলাইয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, সিঙ্গুরে টাটা ন্যানো প্রকল্পের চলে যাওয়ার ইতিহাস পাঠ্যক্রমে থাকার প্রয়োজন নেই এবং এই অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব তিনি শিক্ষা দফতরের কাছে রাখবেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক নেতার হাতে নয়, সিলেবাস কমিটির প্রক্রিয়ায় হবে।
তাই এই মুহূর্তে সঠিক বক্তব্য হল—সিঙ্গুর-সংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে; তা ইতিমধ্যেই সব পাঠ্যবই থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন চূড়ান্ত সরকারি তথ্য নেই।
স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে আরও কড়া নিয়ম?
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহার।
শুভেন্দু অধিকারী স্কুলে মোবাইলের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তিনি এমনকি বলেছেন, ভোট কমলেও স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি প্রস্তুত। গুজরাটের স্কুল মডেলের উদাহরণও তিনি দিয়েছেন, যেখানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর যুক্তি, স্কুলের পরিবেশে পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
তবে রাজ্যজুড়ে এই নীতি কীভাবে কার্যকর হবে এবং শিক্ষক-অভিভাবক-পড়ুয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম কী হবে, তার পূর্ণ নির্দেশিকা এখনও আলাদাভাবে সামনে আসেনি।
শিক্ষক নিয়োগে কী বদল?
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন করে স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে WBSSC-র নতুন চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা জানিয়েছিলেন, নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং সব নিয়োগ কমিশনের নিয়ম ও আদালতের নির্দেশ মেনেই হবে। ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৯,০০০ শূন্যপদের মধ্যে প্রায় ১৫,০০০ প্রার্থী ইতিমধ্যেই ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
কমিশনকে শক্তিশালী করতে চারজন নতুন সদস্যও নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত তিনজন সন্ন্যাসী এবং IIM Calcutta-র Strategic Management বিভাগের এক অধ্যাপক রয়েছেন।
এখানে সরকারের বার্তা স্পষ্ট—নিয়োগ প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশ, নির্দিষ্ট নিয়ম এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের মধ্যে রাখতে হবে।
ভাইভার গুরুত্ব কি কমবে?
শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে মৌখিক পরীক্ষার বা viva-র প্রভাব কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যে ভাইভায় সর্বোচ্চ পাঁচ নম্বর রাখার কথা উঠে এসেছে।
এর পেছনে সরকারের যুক্তি হল—লিখিত পরীক্ষার নম্বর যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন তত সহজ হবে।
তবে এই প্রস্তাবটি বাস্তবে কোন নিয়োগ বিধিতে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সরকারি নিয়ম প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
রামকৃষ্ণ মিশন ও IIM-এর সদস্যরা কেন কমিশনে?
এখানেও সরকারের ভাবনার একটা দিক স্পষ্ট।
নতুন SSC সদস্যদের মধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি IIM Calcutta-র এক অধ্যাপককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হিসেবে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের জটিল নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।
তবে এর ফলে নিয়োগে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাবে না। বরং নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা বিচার করতে বাস্তবে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও জোর
শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, স্কুলে খেলাধুলার পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের বৃহত্তর শিক্ষানীতির অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
খো-খো, হা-ডু-ডু ও ফুটবলের মতো খেলাকে স্কুল পর্যায়ে আরও উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলে Sports Centre of Excellence তৈরির পরিকল্পনার কথাও স্ক্রিপ্টে উল্লেখ রয়েছে।
এর পাশাপাশি physical instructor ও শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। তবে এই স্পোর্টস সেন্টারগুলির সংখ্যা, বাজেট, স্থান এবং সময়সূচি নিয়ে পূর্ণ সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে ঘোষিত পরিকল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।
স্কুলের পরিকাঠামো নিয়েও বড় অভিযোগ
শিক্ষক দিবসের মঞ্চে রাজ্যের বহু স্কুলে এখনও মৌলিক পরিকাঠামোর ঘাটতি থাকার অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ১৯,০০০ স্কুলে পরিকাঠামোগত ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে পানীয় জল, শৌচালয়, রান্নাঘর, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার প্রশ্ন রয়েছে।
ফলে CM Shri প্রকল্পের পাশাপাশি সাধারণ সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করাও সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মিড-ডে মিলে গ্যাস, ডিম ও পুষ্টির পরিকল্পনা
স্কুলের খাবারের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পরিবর্তন করেছে।
জুলাইয়ের শেষে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ISKCON-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে পড়ুয়াদের সপ্তাহে এক বা দুই দিন সেদ্ধ ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এই পরিবর্তন ১ আগস্ট থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল।
অর্থাৎ, আগের বিতর্কের পর সরকার একদিকে নিরামিষ রান্নার ব্যবস্থা রেখেছে, অন্যদিকে ডিমকে আলাদা supplement হিসেবে যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্কুলের রান্নাঘরে গ্যাস, সৌরবিদ্যুৎ এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
‘বন্দে মাতরম’ এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষা
শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ বাড়ানোর কথাও নতুন সরকারের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজ্যে স্বীকৃত স্কুলগুলির প্রার্থনাসভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে। মে মাসের সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে সকালবেলার assembly-তে গানটি গাওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
৩ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী আরও কড়া অবস্থান নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে গানটি গাওয়ার উপর জোর দেন এবং স্কুলগুলিকে নির্দেশ মানার কথা বলেন।
ফলে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে পরিকাঠামো ও নিয়োগের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।
তাহলে কি বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার মান এবার সত্যিই বদলে যাবে?
এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সরকার একদিকে আধুনিক মডেল স্কুল, ডিজিটাল ল্যাব, উন্নত পরিকাঠামো এবং খেলাধুলার সুযোগ তৈরির কথা বলছে। অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব এবং পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের পরিকল্পনাও সামনে রয়েছে।
কিন্তু কোনও শিক্ষা ব্যবস্থার মান শুধু ঘোষণা দিয়ে বদলায় না।
যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত ক্লাস, পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, ভালো পাঠ্যবই, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষার মান—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
তাই নতুন পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই আগামী দিনে আসল পরীক্ষার জায়গা।
আসল পরিবর্তন কি পাঠ্যবইয়ে, নাকি পুরো ব্যবস্থায়?
শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলি দেখলে বোঝা যায়, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পাঠ্যক্রম বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না।
একদিকে CM Shri মডেল স্কুল, অন্যদিকে SSC সংস্কার, আবার কোথাও খেলাধুলার পরিকাঠামো, মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, মিড-ডে মিল এবং জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ—বিভিন্ন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে বদলানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই সংস্কারের সাফল্য।
শেষ কথা
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন সরকারের বার্তা এখন বেশ স্পষ্ট—মডেল স্কুল, মেধাভিত্তিক ভর্তি, পাঠ্যক্রমের পুনর্বিন্যাস, স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ, খেলাধুলার প্রসার এবং স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়ন।
তবে সিঙ্গুরের অধ্যায় বাদ দেওয়া বা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিষয় অন্তর্ভুক্তির মতো কিছু ক্ষেত্রে এখনও প্রস্তাব ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
অন্যদিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, কিন্তু নতুন ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ এবং কার্যকর প্রমাণিত হবে, তার উত্তর মিলবে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর।
শেষ পর্যন্ত বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে একটাই—ঘোষণাগুলি কি সত্যিই শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছয়?



