Sunday, September 20, 2026
Google search engine
Homeদেশের কথাবিমা না থাকলে মিলবে না পেট্রোল? গাড়ির মালিকদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বড়...

বিমা না থাকলে মিলবে না পেট্রোল? গাড়ির মালিকদের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বড় নির্দেশ

পেট্রোল পাম্পে গিয়ে গাড়ির ট্যাঙ্ক ভরাতে গেলেন, কিন্তু টাকা থাকলেও জ্বালানি মিলল না! কারণ, আপনার গাড়ির বৈধ থার্ড-পার্টি ইনসিওরেন্স নেই। এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতে।

কারণ, দেশের রাস্তায় বিপুল সংখ্যক গাড়ি বৈধ বিমা ছাড়াই চলছে—এই তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত কেন্দ্রকে এমন একটি পাইলট প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে গাড়ির বৈধ বিমার সঙ্গে পেট্রোল-ডিজেল কেনার বিষয়টি যুক্ত করা হতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই মুহূর্তে গোটা দেশে ‘বিমা নেই তো তেল নেই’ নিয়ম চালু হয়ে যায়নি। আগে পাইলট প্রকল্প তৈরি ও তার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।

কেন হঠাৎ বিমাকে পেট্রোলের সঙ্গে জুড়তে চাইছে আদালত?

সুপ্রিম কোর্টের সামনে যে পরিসংখ্যান এসেছে, সেটিই এই উদ্যোগের মূল কারণ।

আদালত জানিয়েছে, দেশে চলাচলকারী প্রায় ৩০.৪৮ কোটি গাড়ির মধ্যে ১৬.৫৪ কোটি, অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ গাড়ির বৈধ বিমা নেই। এই তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০২৪-২৫ সালের সংসদীয় Standing Committee on Finance-এর রিপোর্ট থেকে।

আদালতের মতে, থার্ড-পার্টি ইনসিওরেন্স শুধু গাড়ির মালিকের জন্য নয়—দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তৃতীয় পক্ষের ক্ষতিপূরণের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

বিমা না থাকলে দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ পেতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। সেই সমস্যাই কমাতে চায় আদালত।

তাহলে কি বিমা না থাকলে পেট্রোল পাম্প থেকেই ফেরত পাঠাবে?

ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা হতে পারে, কিন্তু এখনই দেশজুড়ে তা কার্যকর হয়নি।

৪ আগস্ট ২০২৬-এর নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও IRDAI-কে এমন একটি পাইলট প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে বলেছে, যার মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পে গাড়ির বিমার বৈধতা যাচাই করা যেতে পারে।

আদালতের নির্দেশে এমন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে যেখানে বৈধ থার্ড-পার্টি বিমা না থাকা গাড়িকে জ্বালানি না দেওয়ার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ, এটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত পাইলট প্রকল্পের পর্যায়ে রয়েছে—প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ইতিমধ্যেই বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে চালু হয়ে যায়নি।

কীভাবে কাজ করতে পারে নতুন প্রযুক্তি?

এই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ANPR বা Automatic Number Plate Recognition ক্যামেরার সাহায্যে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা যেতে পারে।

তারপর সেই নম্বরের সঙ্গে বিমার তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। আদালতের নির্দেশনায় গাড়ির বিমার স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বিমা-তথ্যভাণ্ডারকে প্রযুক্তিগতভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা এসেছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতে কোনও গাড়ি পেট্রোল পাম্পে ঢুকলে নম্বরপ্লেট স্ক্যান করে তার বিমা বৈধ কি না, তা দ্রুত যাচাই করার ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

তবে “এক সেকেন্ডের মধ্যে Vahan ও IIB-তে তথ্য গিয়ে স্ক্রিনে ফল দেখাবে”—এমন নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত সময়সীমা এখনই সরকারি নিয়ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তাই এটিকে নিশ্চিত ব্যবস্থা হিসেবে লেখা ঠিক হবে না।

শুধু পেট্রোল পাম্প নয়, e-Challan-ও হতে পারে

বিমা যাচাইয়ের সঙ্গে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টকেও যুক্ত করার কথা উঠেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ANPR ক্যামেরার মাধ্যমে বিমাহীন গাড়ি শনাক্ত করে ইলেকট্রনিক চালান বা e-challan পাঠানোর ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ার অপেক্ষা না করে প্রযুক্তির সাহায্যেই বিমাহীন গাড়ি শনাক্ত করার ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে পারে।

কোন বিমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থার্ড-পার্টি মোটর ইনসিওরেন্স। ভারতের Motor Vehicles Act-এর Section 146 অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে মোটর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের ঝুঁকি কভার করে এমন বৈধ বিমা থাকা বাধ্যতামূলক।

থার্ড-পার্টি বিমা মূলত দুর্ঘটনায় অন্য ব্যক্তির মৃত্যু, শারীরিক ক্ষতি বা নির্দিষ্ট সম্পত্তির ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতার কভার দেয়।

অন্যদিকে, নিজের গাড়ির ক্ষতি বা নিজের অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য যে Own Damage বা অন্যান্য add-on cover নেওয়া হয়, সেগুলি আলাদা বিষয়।

নতুন গাড়ির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নতুন গাড়ির থার্ড-পার্টি বিমার মেয়াদ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা এসেছে।

আদালত বলেছে, নতুন চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে চার বছরের এবং নতুন দুই চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ছয় বছরের থার্ড-পার্টি ইনসিওরেন্স বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে IRDAI-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করার কথাও বলা হয়েছে।

অর্থাৎ বিমা শুধু পাম্পে জ্বালানি পাওয়ার বিষয় নয়—নতুন গাড়ি কেনার সময় থেকেই এর নিয়ম আরও কঠোর করার দিকে এগোচ্ছে ব্যবস্থা।

এতে কার লাভ?

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই উদ্যোগের ঘোষিত উদ্দেশ্য বিমা কোম্পানির ব্যবসা বাড়ানো নয়, বরং দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

কারণ বৈধ থার্ড-পার্টি বিমা থাকলে দুর্ঘটনার পরে ক্ষতিপূরণের একটি আইনগত কাঠামো থাকে। বিমা না থাকলে সেই ক্ষতিপূরণ আদায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিমা না থাকা গাড়ির সংখ্যা কমতে পারে এবং স্বাভাবিকভাবেই মোটর ইনসিওরেন্সের আওতা বাড়তে পারে। তাই এর একটি বাণিজ্যিক প্রভাবও থাকতে পারে—কিন্তু আদালতের নির্দেশের ঘোষিত মূল যুক্তি হল road safety এবং accident victims-এর compensation protection

গাড়ির মালিকদের এখন কী করবেন?

দেশজুড়ে ‘No Insurance, No Fuel’ এখনও কার্যকর না হলেও গাড়ির বিমা মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না, তা এখনই যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

কারণ বৈধ থার্ড-পার্টি বিমা ছাড়া রাস্তায় গাড়ি চালানো আইনসঙ্গত নয়। আর ভবিষ্যতে পেট্রোল পাম্প, ANPR এবং e-challan ব্যবস্থার সঙ্গে বিমা যাচাই যুক্ত হলে নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে।

তাই গাড়ির কাগজপত্রের সঙ্গে ইনসিওরেন্সের validity date-টিও নিয়মিত দেখে নিন।

FACT CHECK

দাবি: বিমা না থাকলে আজ থেকেই কোনও পেট্রোল পাম্পে তেল মিলবে না।
ফ্যাক্ট:ভুল/অসম্পূর্ণ। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও IRDAI-কে একটি পাইলট প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। দেশজুড়ে নিয়মটি এখনও কার্যকর হয়নি।

দাবি: প্রায় ৫৬% গাড়ির বৈধ বিমা নেই।
ফ্যাক্ট:সুপ্রিম কোর্টের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী সঠিক। ৩০.৪৮ কোটির মধ্যে ১৬.৫৪ কোটি গাড়ি বিমাহীন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাবি: ANPR দিয়ে গাড়ির বিমা যাচাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যাক্ট:পাইলট প্রকল্পের প্রযুক্তিগত কাঠামোর অংশ হিসেবে এমন ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে।

দাবি: শুধু গাড়ির নিজের বিমা নয়, আলোচনার মূল বিষয় থার্ড-পার্টি ইনসিওরেন্স।
ফ্যাক্ট:সঠিক। Motor Vehicles Act-এর Section 146-এর বাধ্যতামূলক বিমা মূলত third-party risk কভার করে।

দাবি: এই নিয়ম ইতিমধ্যেই সব পেট্রোল পাম্পে চালু হয়ে গেছে।
ফ্যাক্ট:সঠিক নয়। বর্তমানে বিষয়টি পাইলট প্রকল্প তৈরির পর্যায়ে।

শেষ পর্যন্ত তাই বিষয়টা শুধু “বিমা নেই তো পেট্রোল নেই”—এতটা সরল নয়। সুপ্রিম কোর্ট যে পথে এগোতে বলেছে, তার মূল লক্ষ্য হল বিমাহীন গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং দুর্ঘটনার শিকার মানুষ যাতে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা।

তবে পেট্রোল পাম্পে ঢুকে তেল পাওয়ার আগে গাড়ির নম্বরপ্লেট স্ক্যান হবে কি না, বিমা না থাকলে সত্যিই জ্বালানি আটকে যাবে কি না—সেই বাস্তব ছবিটা নির্ভর করবে কেন্দ্র ও IRDAI-এর পাইলট প্রকল্প এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন পরিকল্পনার উপর।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments