Tuesday, September 22, 2026
Google search engine
Homeসিনেদুনিয়াসাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৭৫ কোটি! আল্লু অর্জুনের তারকা হয়ে ওঠার গল্প

সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৭৫ কোটি! আল্লু অর্জুনের তারকা হয়ে ওঠার গল্প

একসময় তাঁর পারিশ্রমিক ছিল মাত্র কয়েক হাজার টাকা। অভিনয় এবং চেহারা নিয়েও শুনতে হয়েছিল নানা কটাক্ষ। কিন্তু সেই মানুষটাই আজ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ।

আল্লু অর্জুন।

‘পুষ্পা’ তাঁকে সারা দেশের দর্শকের কাছে নতুনভাবে পরিচিত করলেও তাঁর সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল অনেক আগে। দীর্ঘ সময় ধরে তেলুগু সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরি করার পরই এসেছিল সেই প্যান-ইন্ডিয়া বিস্ফোরণ। ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর সাফল্য যে রাতারাতি তৈরি হয়নি, তা নিয়েও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু কীভাবে এতটা বদলে গেল তাঁর ক্যারিয়ার? আর আজ তাঁর পারিশ্রমিক নিয়েই বা কেন এত আলোচনা?

‘গঙ্গোত্রী’ দিয়ে শুরু, প্রথমেই কটাক্ষ

২০০৩ সালে ‘গঙ্গোত্রী’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন আল্লু অর্জুন। শুরুর সময় তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হয়েছিল।

চেহারা থেকে অভিনয়—বিভিন্ন বিষয় নিয়েই কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই সমালোচনাকে ক্যারিয়ারের শেষ কথা হিসেবে নেননি আল্লু।

বরং সময়ের সঙ্গে নিজের অভিনয়, নাচ এবং পর্দার উপস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে থাকেন তিনি।

একজন অভিনেতার ক্ষেত্রে শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখাই বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষাতেই ধীরে ধীরে নিজের জায়গা শক্ত করেন আল্লু অর্জুন।

একের পর এক ছবি, তৈরি হল নিজস্ব স্টাইল

ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ে ‘আর্য’, ‘বানি’, ‘রেস গুররম’, ‘সারাইনোডু’, ‘দুভাদা জগন্নাধাম’সহ একাধিক ছবিতে আলাদা ধরনের চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।

বিশেষ করে নাচ, স্টাইল এবং অ্যাকশন—এই তিন জায়গায় নিজের একটি স্বতন্ত্র ইমেজ তৈরি করেন আল্লু।

তাঁর জনপ্রিয়তা তখন আর শুধু একটি ছবির সাফল্যের ওপর নির্ভর করছিল না। ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল তাঁর নিজস্ব দর্শকগোষ্ঠী।

২০১৮-এর ধাক্কা, ‘Naa Peru Surya’-র পর বদল

২০১৮ সালে মুক্তি পায় ‘Naa Peru Surya Naa Illu India’। ছবিটি প্রথম দিকে ভালো ওপেনিং পেলেও পরে বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। India Today ছবিটিকে সেই সময়ের রিপোর্টে ‘disaster’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল এবং জানিয়েছিল, ফলাফল নিয়ে আল্লু অর্জুন হতাশ ছিলেন।

এই ছবির পর তাঁর পরবর্তী কাজ বাছাই নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়।

কারণ একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতার জন্য প্রত্যেকটি ছবি শুধু একটি নতুন কাজ নয়—ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপও ঠিক করে দেয়।

তারপর এল ‘পুষ্পা’, বদলে গেল সমীকরণ

এরপর ২০২১ সালে সুকুমারের পরিচালনায় আসে ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’

‘পুষ্পা’র আগে আল্লু অর্জুন তেলুগু সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ছিলেন। কিন্তু ছবিটির পর তাঁর জনপ্রিয়তার পরিধি অনেকটাই বদলে যায়।

বিশেষ করে হিন্দিভাষী দর্শকদের মধ্যে ছবিটির বিপুল জনপ্রিয়তা তাঁকে বৃহত্তর ভারতীয় বাজারে পৌঁছে দেয়। Indian Express-এর বিশ্লেষণেও বলা হয়েছিল, ‘পুষ্পা’র সাফল্যকে রাতারাতি তৈরি হওয়া ঘটনা হিসেবে দেখলে আল্লুর দীর্ঘদিনের কাজকে উপেক্ষা করা হবে।

‘শ্রীভল্লি’, ‘পুষ্পা রাজ’ এবং ছবির সংলাপ-গান-নাচ—সব মিলিয়ে চরিত্রটি হয়ে ওঠে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ।

এরপর ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর সাফল্য তাঁর তারকা-মূল্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

কেন এখন তাঁর একটি ছবির জন্য এত অপেক্ষা?

আল্লু অর্জুনের ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায়ে ছবির সংখ্যা নয়, বরং ছবির স্কেল এবং গল্পের প্রতি আগ্রহই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্যান-ইন্ডিয়া তারকার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি নতুন ছবিকে ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশাও অনেক বেশি থাকে। ফলে বড় বাজেট, বড় পরিচালক বা জনপ্রিয় সহ-অভিনেতা থাকলেই ছবি সফল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এই কারণেই তাঁর পরবর্তী ছবিগুলিকে ঘিরে ঘোষণা থেকেই তৈরি হয় বিশাল কৌতূহল।

‘Raaka’-র জন্য ১৭৫ কোটি? কী জানা যাচ্ছে

এবার আসা যাক সেই বহুলচর্চিত ₹১৭৫ কোটি-র অঙ্কে।

Atlee পরিচালিত আল্লু অর্জুনের পরবর্তী বড় প্রজেক্ট ‘Raaka’-কে ঘিরে ২০২৬ সালে অভিনেতার পারিশ্রমিক নিয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

India Today এবং NDTV-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই ছবির জন্য আল্লু অর্জুনের পারিশ্রমিক প্রায় ₹১৭৫ কোটি। একই রিপোর্টে দীপিকা পাড়ুকোনের পারিশ্রমিক প্রায় ₹২৫ কোটি এবং রশ্মিকা মন্দানার পারিশ্রমিক প্রায় ₹৫–৭ কোটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ₹১৭৫ কোটি আল্লু অর্জুনের নিশ্চিত অফিসিয়াল পারিশ্রমিক হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। এটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টেড অঙ্ক।

তাই ‘তিনি নিশ্চিতভাবেই ₹১৭৫ কোটি নিচ্ছেন’ না বলে ‘রিপোর্ট অনুযায়ী ₹১৭৫ কোটি পারিশ্রমিক’ বলা বেশি সঠিক।

সাড়ে ৩ হাজার থেকে ₹১৭৫ কোটি—কী বদলাল?

এই ব্যবধানটি দেখলে চোখ কপালে ওঠাই স্বাভাবিক।

তবে একজন তারকার পারিশ্রমিক শুধু একটি ছবির অভিনয়ের টাকা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তার সঙ্গে যুক্ত থাকে বাজারমূল্য, ছবির সম্ভাব্য ব্যবসা, ব্র্যান্ড ভ্যালু, দর্শক টানার ক্ষমতা, ছবির বাজেট এবং চুক্তির বিভিন্ন শর্ত।

আল্লু অর্জুনের ক্ষেত্রে গত দুই দশকে তৈরি হওয়া সেই বাজারমূল্যই আজ তাঁকে দেশের অন্যতম আলোচিত দক্ষিণী তারকায় পরিণত করেছে।

আর এখানেই তাঁর গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সাফল্য অনেক সময় একদিনে দেখা যায়, কিন্তু তার পেছনের প্রস্তুতি তৈরি হতে পারে বছরের পর বছর।

শুধু টাকা নয়, বদলেছে পরিচয়ও

আল্লু অর্জুনের ক্যারিয়ারকে শুধু পারিশ্রমিকের অঙ্ক দিয়ে বিচার করলে গল্পের বড় অংশ বাদ পড়ে যায়।

‘গঙ্গোত্রী’র সময়ের নবাগত অভিনেতা থেকে ‘আর্য’-র জনপ্রিয় নায়ক, সেখান থেকে ‘রেস গুররম’ ও ‘সারাইনোডু’-র তারকা, তারপর ‘পুষ্পা’র প্যান-ইন্ডিয়া মুখ—এই পথটা তৈরি হয়েছে ধাপে ধাপে।

আর সেই কারণেই তাঁর গল্পকে শুধুমাত্র ‘সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৭৫ কোটি’ বলে শেষ করা যায় না।

এটি আসলে দীর্ঘ সময় ধরে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প।

শেষ কথা

একসময় যাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই আল্লু অর্জুনই এখন এমন একজন তারকা, যাঁর নতুন ছবির ঘোষণা ভারতজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে যায়।

তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে প্রকাশিত ₹১৭৫ কোটির রিপোর্ট সত্যিই চমকপ্রদ। কিন্তু তার থেকেও বড় বিষয় হল—একজন অভিনেতা কীভাবে প্রায় দুই দশকে নিজের স্টাইল, দর্শক এবং বাজার তৈরি করেছেন।

তাই আল্লু অর্জুনের গল্প শুধু তারকা হওয়ার গল্প নয়; এটি ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং নিজের জায়গা তৈরি করার গল্পও।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments