Tuesday, October 13, 2026
Google search engine
Homeসিনেদুনিয়াটলি ক্যানভাস৫ হাজার টাকায় হানিমুনের প্রস্তাব? রাজবীর দে-কে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি স্যান্ডি সাহার,...

৫ হাজার টাকায় হানিমুনের প্রস্তাব? রাজবীর দে-কে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি স্যান্ডি সাহার, ফাঁস পুরনো চ্যাট

‘৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দুবাইয়ে হানিমুনে যেতে রাজি হয়েছিল রাজবীর!’

‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরের বিতর্ক এবার যেন পৌঁছে গেল রিয়্যালিটি শোয়ের বাইরেও। প্রতিযোগী রাজবীর দে-কে নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুললেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যান্ডি সাহা। শুধু অভিযোগ করেই থামেননি তিনি, রাজবীরের সঙ্গে পুরনো WhatsApp কথোপকথনের কিছু অংশও প্রকাশ্যে দেখিয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্যান্ডির দাবি, রাজবীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় বহু পুরনো। এমনকি রাজবীর কলকাতায় আসার পর একসময় তাঁর বাড়িতেও ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। আর সেই পুরনো সম্পর্ক থেকেই নাকি তৈরি হয়েছে তিক্ততা।

তবে স্যান্ডির করা অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি এবং রাজবীরের তরফে এই অভিযোগগুলির কোনও প্রকাশ্য জবাবও এখনও সামনে আসেনি।

৫ হাজার টাকায় কি সত্যিই দুবাইয়ে হানিমুনের প্রস্তাব?

সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে স্যান্ডির এই দাবিকে ঘিরেই।

স্যান্ডির বক্তব্য অনুযায়ী, রাজবীর বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে টাকা চাইতেন। এমনকি দুবাই যাওয়ার টিকিট কেটে দেওয়ার কথাও নাকি বলতেন। তাঁর দাবি, মাত্র ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁর সঙ্গে দুবাইয়ে ‘হানিমুনে’ যাওয়ার কথাও বলেছিলেন রাজবীর।

এই দাবির সমর্থনে স্যান্ডি পুরনো WhatsApp চ্যাট দেখিয়েছেন বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চ্যাটের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, কথোপকথনের সত্যতা এবং এর অর্থ কী—এসব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

তাই “রাজবীর ৫ হাজার টাকার জন্য হানিমুনে যেতে রাজি হয়েছিলেন”—এটিকে নিশ্চিত ঘটনা নয়, স্যান্ডির অভিযোগ ও উপস্থাপিত চ্যাটের ভিত্তিতে করা দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও তুললেন স্যান্ডি

দুবাইয়ের প্রসঙ্গের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন নিয়েও বড় অভিযোগ করেছেন স্যান্ডি।

তাঁর দাবি, বিভিন্ন সময়ে রাজবীর তাঁর কাছে টাকা চাইতেন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। কখনও ৫ হাজার টাকা, কখনও যাতায়াতের টিকিটের জন্য টাকা চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

স্যান্ডির আরও দাবি, রাজবীর যখন শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় এসেছিলেন, তখন তাঁর থাকার নিজস্ব ব্যবস্থা ছিল না। সেই সময় তাঁকে নিজের বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি।

অর্থাৎ, স্যান্ডির বক্তব্য অনুযায়ী তাঁদের সম্পর্ক শুধুমাত্র পরিচিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; একটা সময় যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতাও ছিল।

প্রেমের সম্পর্কও কি ছিল?

এখানেই বিতর্ক আরও জটিল।

স্যান্ডি দাবি করেছেন, রাজবীর একসময় তাঁর সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করেছিলেন। এমনকি তাঁর অভিযোগ, রাজবীরের কাছে সম্পর্ক বা প্রেম অনেক সময় নিজের সুবিধা এবং জনপ্রিয়তার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে এগুলি সম্পূর্ণভাবেই স্যান্ডির বক্তব্য।

রাজবীরের সঙ্গে সেই সময়ের সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল বা স্যান্ডির অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য কী—তা তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নন্দিনীর সঙ্গে রাজবীরের সম্পর্ক নিয়েও বিস্ফোরক দাবি

বর্তমানে ‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরে রাজবীর ও নন্দিনী দত্তের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

সেই প্রসঙ্গেই স্যান্ডির দাবি, রাজবীর-নন্দিনীর ঘনিষ্ঠতা তাঁর কাছে স্বাভাবিক প্রেমের সম্পর্ক নয়, বরং রাজবীরের গেমপ্ল্যানের অংশ। তাঁর বক্তব্য, রাজবীর নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিভিন্ন মানুষকে ব্যবহার করেন।

স্যান্ডি এমনও দাবি করেছেন যে, অতীতে রাজবীর তাঁর সঙ্গেও প্রেমের নাটক করেছিলেন এবং রিয়্যালিটি শোয়ে টিকে থাকার জন্য প্রেমকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

তবে এটিও স্যান্ডির ব্যক্তিগত মত ও অভিযোগ, কোনও প্রমাণিত তথ্য নয়।

অনুস্কার ‘৫ হাজার টাকা’ মন্তব্যের সঙ্গে কি মিল রয়েছে?

আপনার স্ক্রিপ্টে উল্লেখ করা ‘৫ হাজার টাকা’-র আরেকটি প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরে অনুস্কার সঙ্গে রাজবীরের টাকা ধার নেওয়া সংক্রান্ত প্রসঙ্গ উঠেছিল। সেই কারণেই স্যান্ডির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুই ঘটনাকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কিন্তু অনুস্কার বক্তব্য এবং স্যান্ডির পুরনো WhatsApp চ্যাট—দুটি একই ঘটনার প্রমাণ, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও নেই।

তাহলে স্যান্ডির সব অভিযোগ কি সত্যি?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এটাই।

উত্তর—এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

কারণ—

  • স্যান্ডি সাহা প্রকাশ্যে একাধিক অভিযোগ করেছেন।
  • তিনি পুরনো WhatsApp কথোপকথনের কিছু অংশ দেখিয়েছেন বলে প্রতিবেদন হয়েছে।
  • আর্থিক লেনদেনের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
  • কিন্তু সেই চ্যাট বা আর্থিক লেনদেনের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
  • রাজবীর দে-র পক্ষ থেকেও এই অভিযোগের বিস্তারিত পালটা বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

তাই আপাতত অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত, প্রমাণিত সত্য হিসেবে নয়।

স্যান্ডি কি এবার ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে ঢুকবেন?

রাজবীরকে নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও উঠেছে—স্যান্ডি সাহা কি নিজেই ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রবেশ করবেন?

এর আগে স্যান্ডির বিগ বসে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে তাঁর এই সিজনে প্রতিযোগী হিসেবে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই।

তাই ভবিষ্যতে তিনি ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে ঢুকবেন—এমন কথা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

রাজবীরের ‘বিগ বস’ গেম বনাম বাইরের বিতর্ক

একদিকে রাজবীর দে ‘বিগ বস বাংলা ৩’-এর ঘরে নিজের খেলা এবং সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ঘরের বাইরে তাঁর অতীত নিয়ে সামনে এসেছে স্যান্ডি সাহার বিস্ফোরক অভিযোগ।

৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দুবাইয়ে হানিমুনের দাবি, প্রায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, পুরনো প্রেমের সম্পর্ক এবং নন্দিনীর সঙ্গে বর্তমান ঘনিষ্ঠতাকে গেমপ্ল্যান বলার দাবি—সব মিলিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।

তবে শেষ কথা বলার আগে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি—এখনও পর্যন্ত এগুলি মূলত স্যান্ডি সাহার বক্তব্য।

রাজবীরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এলে তবেই এই বিতর্কের অন্য দিকটিও সামনে আসবে।

আর সেই উত্তরই হয়তো পরিষ্কার করবে—৫ হাজার টাকার ‘হানিমুন’ আসলে কী ছিল, ৫০ হাজার টাকার লেনদেনের সত্যিটাই বা কী, আর রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক কতটা বাস্তব, কতটা ‘গেমপ্ল্যান’।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments